পাতকুয়ো থেকে দেহ উদ্ধার করে এলাকায় রাীতিমত তারকার সম্মান মেগনাদের! দেহ উদ্ধারের পুর্নর্নিমাণ

পাতকুয়ো থেকে দেহ উদ্ধার করে এলাকায় রাীতিমত তারকার সম্মান মেগনাদের! দেহ উদ্ধারের পুর্নর্নিমাণ

৫ জনের দলেই হবে পুরো উদ্ধারকাজ। সেক্ষেত্রে কুয়োর মধ্যে থাকবে দুজন, বাইরে তিনজন। বাইরের তিনজনের মধ্যে দুই জন কুয়ো থেকে জল বের কর

  • Share this:

Arnab Hazra

#কলকাতা: টালিগঞ্জ বিধানসভার সরু পিচ রাস্তা পাশে কয়েক পা হেঁটে হাঁক দিতেই উত্তর এল, হাঁ, মেঘনাদ বলছি বলুন। বাঁশদ্রোণি সর্দার পাড়ায় এখন ছোটোখাটো সেলিব্রিটি মেঘনাদ সর্দার। পাতকুয়ো মিস্ত্রি হয়ে শনিবার অসাধ্যসাধন করেছে । কোনও রকম পুঁথিগত বিদ্যে ছাড়াই আটকে যাওয়া দেহ উদ্ধার করেছে সে। কলকাতা পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সামনে দিয়েছে প্রাক্টিক্যাল পরীক্ষা। পাতকুয়োয় নেমে নিখুঁত অপারেশনে তুলে এনেছে মৃতদেহ। যে দেহ কলকাতা পুরসভার ১১৩ নং ওয়ার্ডে কুয়োর গর্তে ঠায় পড়েছিল ১৮ ঘন্টা। এত সহজে কাজ হাসিলের রহস্য কী। সেটা ভেদ করতেই তাঁর ১০ বাই ১২ ফুটের ভিটেয় পৌঁছে যাওয়া।

pat1

একবার না বারবার একইরকম পারফরম্যান্স? এমন কথা পাড়তেই রাজি হয়ে গেলো মেঘনাদ, আরও একটা পরীক্ষা দিতে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মিলিয়ে তখন স্মার্টফোন জানান দিচ্ছে দুপুর দুটোর তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ক্যামেরার সামনে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল সে। পোশাক বদলে তৈরি হয়ে নিল চটপট। এবার, আমরা তাঁকে নিয়ে গেলাম বাঁশদ্রোণির অন্য প্রান্তের একটি পাতকুয়োর সামনে। মালিক বাড়ির কুয়োয় গিয়ে এবার আবার কেরামতি শুরু মেঘনাদের । মুহূর্তে পাতকুয়োর ভিতরে প্রবেশ করা এবং উঠে আসা। ভিতরে ফেলে দেওয়া জিনিস কুড়িয়ে নিয়ে আসা।

কীভাবে করেন এসব? মেঘনাদের উত্তর, " সবটাই আমার গুরু বাপি সর্দারের আশীর্বাদ। দুই পায়ের বুড়ো আঙ্গুল এবং দুই হাতের সামঞ্জস্যপূর্ণ ভারসাম্য শরীরকে কুয়োয় প্রবেশ, প্রস্থানে সাহায্য করে। সহায়ক ভূমিকা থাকে পিঠ ও কোমরের। কুয়োর চাকি গুলো-কে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। সেইগুলো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাও মাথায় রাখতে হয়।" মেঘনাদ আরও জানাচ্ছেন,৫ জনের দল নিয়ে পুরো উদ্ধারকাজ করে দিতে পারবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে কুয়োর মধ্যে থাকবে দুজন, বাইরে তিনজন। বাইরের তিনজনের মধ্যে দুই জন কুয়ো থেকে জল বের করার কাজ চালাবে আর একজনের হাতে থাকবে দড়ি, যিনি পুরো কাজটা তদারকি করবেন।pat

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরও বাঁশদ্রোণির একাংশ পাতকুয়োর পক্ষে সওয়াল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হরেন মালিকের বক্তব্য, 'পুরসভা থেকে খাবারের জলের গাড়ি আসে। তা পর্যাপ্ত নয় গেরস্থালী কাজ সামলানোর জন্য। তাই বাধ্য হয়েই কুয়ো খোঁড়াতে হয়।' মেঘনাদের কাহিনি চাউর হতেই রাজ্য এগিয়ে এসেছে। তাঁকে দমকল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কাজে লাগাতে চায় সরকার। প্রাণ বাজি রেখে কুয়োয় ঢুকে পড়া মেগনাদও আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন । তাঁর দুই সন্তানকে পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করতে চায় সে। গামছা খুলে শীতের পোশাক পড়তে পড়তে আক্ষেপের সুরে বলে চলে মেঘনাদ, কুয়োর নিচে গ্যাস ছিলো খুব, দম আটকে আসছিল। দেশের জন্য দশের জন্য ঝাঁপিয়ে কাজটা করেছি। আমার কিছু হয়ে গেলে সংসারটা কে দেখতো বলুন! মেঘনাদের সাহস ও ঝুঁকি কি পুরস্কৃত হবে? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

First published: 11:07:48 PM Dec 30, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर