corona virus btn
corona virus btn
Loading

ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিতে বৈঠক বিভিন্ন ডিভিশনে   

ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিতে বৈঠক বিভিন্ন ডিভিশনে   

ট্রেন চালু করতে হলে কী কী ব্যাবস্থা করতে হবে তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই মিটিং করল শিয়ালদহ ডিভিশন

  • Share this:

#কলকাতা: মহারাষ্ট্র মডেল অনুসরণ করা হবে, নাকি সকলের জন্যেই খুলে দেওয়া হবে রেলের দরজা। এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রেলের অন্দরে। রাজ্য সরকার রেল চালাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানানো হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের থেকে এখনও কোনও চিঠি তারা পায়নি বলে জানিয়ে দিয়েছে রেল। ফলে এই অবস্থায় রেল চলাচল নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

রেল পরিষেবা চালু করা হলে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা খতিয়ে দেখতে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল ও মেট্রো রেল নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করছে৷ রেলের বিভিন্ন ডিভিশন তাদের ডিভিশনাল আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছে। ট্রেন চালু করতে হলে কী কী ব্যাবস্থা করতে হবে তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই মিটিং করল শিয়ালদহ ডিভিশন। তবে রেল বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি।

সেক্ষেত্রে আজকের বৈঠকে যা আলোচনা হল, যেখানে যাত্রী বেশি সেখানে থার্মাল ক্যামেরা বা স্ক্যানার লাগানোর চেষ্টা করা হবে। যে সব স্টেশন দিয়ে যাত্রী ওঠা নামা করবে সেখানে রাজ্য প্রশাসনের সাহায্য দরকার হবে। এই মুহূর্তে প্রায় ১২১ টি স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী তা বাড়ালে আরও ১০০ টা ট্রেন চালাতে হবে। সব স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ রাখলে সেখানে চেকিং সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ অত লোক বা রেল রক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না। পরিস্থিতি যা তাতে ট্রেন চলার অনুমতি এলেও প্রস্তুতি নিতে চার পাঁচদিন সময় লাগবে। মেট্রো সূত্রে খবর, এখন ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে নিয়ে রোজ ট্রেন চলছে। যদিও তা স্টাফ স্পেশাল ট্রেন।

পরিষেবা চালু হলে সেই সংখ্যা বাড়াতে হবে। কিন্তু তা দিয়েও সামাজিক দুরত্ব মেনে মেট্রো চালানো যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রাক্তন রেল কর্তা সুভাষ রঞ্জন ঠাকুর জানিয়েছেন, "কেন্দ্রীয় সরকার বলছেন রাজ্য সরকার চাইলে লোকাল ও মেট্রো রেল চালানোর কথা ভাবা যাবে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন দূরত্ববিধি মেনে এক চতুর্থাংশ ট্রেন চললে রাজ্যের আপত্তি নেই। সরকারী ভাষা যদি কিছুটা বুঝে থাকি তবে এখন ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া মুশকিল। কারণ রেল কর্তৃপক্ষ বলবেন রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখে জানাতে হবে তাঁরা ট্রেন শুরু করতে চান। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা সরকারী ভাবে চাওয়া নয়। তা ছাড়া হয়তো আপত্তি নেই, এই কথাটা ট্রেন চালানো শুরু করতে বলা বলে ধরা হবে কিনা সন্দেহ আছে। তারপর দূরত্ববিধি। যদি ট্রেনে সবাইকে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয় তবে কোনও মতেই তা মেনে চলা সম্ভব নয়। কম ট্রেন লকডাউন আগের দিনের বাজারের মত। ভীড়ে ঠাসাঠাসি হবে। দূরত্ববিধি শিকেয় উঠবে। রেল কর্তৃপক্ষের এমন পরিকাঠামো নেই যে দূরত্ববিধি মানা, এমনকি মাস্ক পরা আবশ্যিক করতে পারে। এমনিতেই বহু লোক মাস্ক পরেন না বা পরলেও থুতনিতে নামিয়ে রেখে দেন। ট্রেনেও তাই হবে। তাই প্রথমে বিশেষ পাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কর্মচারীরা, সরকারী ও বেসরকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা, পুরসভা , ব্যাঙ্ক ,সাংবাদিক ও অন্যান্য জরুরী কর্মীদের পরিচয়পত্র দেখালে তবেই ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে। কারা জরুরী কর্মী সেটা ও কত ট্রেন কিভাবে চলবে ঠিক করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের মিটিং করা দরকার। রেল কর্তৃপক্ষ যদি আইন শৃঙ্খলার ব্যাপারে কোনও সাহায্য চান সেটাও আলোচনা হোক। সবগুলো বিষয়ে সুষ্ঠু আলোচনা ছাড়াই ট্রেন চালানো ঠিক হবে বলে মনে করি না। তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কেউ শুনতে নাও পারেন। বিশেষজ্ঞ ও নেতারা যা ভাববেন তাই হবে। অনেকদিন শিয়ালদহ ও হাওড়া বিভাগে কাজ করেছি তো। তাই চুপ করে থাকতে পারলাম না। মার্জনা করবেন।" রেলের আধিকারিকরাও এই বক্তব্যে সহমত।

ABIR GHOSHAL

Published by: Ananya Chakraborty
First published: August 29, 2020, 8:33 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर