corona virus btn
corona virus btn
Loading

মেট্রোর কাজে ভেঙেছিল বউবাজারের শীল বাড়ি, সেই বাড়ির মেয়ের বিয়েতে হাজির মেয়র

মেট্রোর কাজে ভেঙেছিল বউবাজারের শীল বাড়ি, সেই বাড়ির মেয়ের বিয়েতে হাজির মেয়র

মেট্রোরেলের কাজের জন্য ভেঙে পড়ে তাদের বাড়ি। মেয়ের বিয়ে কিভাবে হবে তা নিয়ে বেজায় চিন্তায় ছিলেন শীল পরিবারের সকলেই।

  • Share this:

#কলকাতা: বউবাজারের শীল বাড়ি। ১৩ নম্বর দুর্গাপিতুরি লেনের এই বাড়ির পরিচয় ছিল খানিকটা বউবাজারের রাজবাড়ির মতো। সেই বাড়ির মেয়ের বিয়েতে কোথায় নহবতের আসর বসবে, আলোর মালায় ভেসে যাবে গোটা চত্বর। বাড়ি জুড়ে ঘুরে বেড়াবে আত্মীয়রা। এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আর হল কই?

মেট্রোরেলের কাজের জেরে যে বিপর্যয় নেমে আসে। তাতে চোখের  সামনে হুড়মুড় করে এই বাড়ি ভেঙে পড়ার লাইভ ছবি দেখেছে গোটা দেশ। মেয়ের বিয়ে কিভাবে হবে? তা নিয়ে বেজায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন সোনালী শীল ও জয়ন্ত শীল। অবশেষে শীল বাড়ির মেয়ের বিয়ে হল। মুখ্যমন্ত্রী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন  আগেই। এবার বিয়ের সময় হাজির থেকে ছাদ হারানো বউবাজারের মানুষদের ফের সাহায্যের আশ্বাস দিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

২২ জানুয়ারিতে মেয়ের বিয়ে। কেনাকাটা সারা। টাকাপয়সা-গয়নাগাটি, সবই রাখা ছিল বাড়িতে। সে সব রেখেই, ২০১৯ সালের জুলাই মাসের এক রাতে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসে শীল পরিবার। পরেরদিন তারাই টিভিতে দেখল নিমেশে সব শেষ। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তাদের তিন তলা বাড়ি।তেরোর এ দুর্গাপিতুরি লেনের সেই বাড়ি এখন শুধুই ইতিহাস।  জয়ন্ত বাবু বলেন, "২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা দিয়ে বাড়ি মেরামতি করেছিলাম। মোটেই ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা ছিল না।" মেয়ের বিয়ের হাজারো কাজের ঝক্কি সামলেও সোনালী শীল বলেন, "আই অ্যাম জাস্ট শকড। তবে মেয়ের বিয়ের সময় যে ভাবে মেয়র পাশে থাকলেন তাতে খুশি হয়েছি।" তবে মাথার ওপর ছাদ হারানোর যন্ত্রণা রয়েই গেছে সোনালী দেবী ও জয়ন্ত বাবুর। ২০১৯ সালের ওই সময় যেন চোখের সামনে যেন এক দুঃস্বপ্ন। অথচ, আর কয়েক মাস পরেই ওই বাড়িতে নতুন এক স্বপ্নের শুরু হওয়ার কথা ছিল।

জানুয়ারিতেই শীল পরিবারের মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল যেহেতু তাই বিয়ের কেনাকাটাও প্রায় সাড়া হয়ে গিয়েছিল । সে সবই রয়ে গিয়েছিল  বউবাজারের ওই বাড়িতে। সব নিমেশে শেষ হয়ে যায় সেগুলি। লাল বেনারসি, মাথায় সিদুঁর পড়ে, বরের সঙ্গে গল্পে মশগুল থাকলেও  বিয়ের দিনেও অবশ্য নিজেদের বাড়ি হারানোর যন্ত্রণা ভুলতে পারছেন না সোনালী দেবী, জয়ন্ত বাবুর মেয়ে তৃষা। বিয়ের অনুষ্ঠানের ফাঁকে সে বলে, "আমার পরিষ্কার মনে আছে, শনিবার রাত দুটোয় বেরিয়ে আসি। মাত্রা দশ মিনিট সময় দিয়েছিল। এক কাপড়ে বেড়িয়ে আসি। আমার সাধের পিয়ানো, আমার ছোটবেলা, আমার সব ভালো স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলেছি ওই বাড়িতে।"

মেয়ের কথায় চোখে জল সোনালী দেবীর। তিনি বলেন," ১০০-১৫০ গ্রাম সোনা ছিল.....গয়নাগাটি-টাকাপয়সা সব ফেলে এসেছিলাম। কোনও ডকুমেন্টও আনিনি৷"এই সবটা শুনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাই এই পরিবারকে আগেই সাহায্য করেছিলেন। এবার বিয়ের দিনে সেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, "সবার আগে আমি মেয়ের বাবা। পরে আমার বাকি সব রাজনৈতিক পরিচয়। মাথার ওপরে ছাদ হারানোর যন্ত্রণা বুঝি। তাই তো পাশে আছি। আগামী দিনেও থাকব।" মেয়ের বিয়েতে মেয়র হাজির থাকায় খুশি শীল পরিবারের সবাই। খুশি বিয়ের কনেও। তবে তার একটাই আক্ষেপ, "আমাকে বোধহয় দুবার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হল।" ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের কাজে জেরেই বৌবাজারে ঘটে যায় বিপর্যয়। একের পর এক বাড়িত ফাটল। একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ে। সেই যন্ত্রণা বুকে নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন একাধিক মানুষ, একাধিক পরিবার। তৃষার মতোই তাদেরও আক্ষেপ।

Abir Ghoshal

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: January 23, 2020, 9:28 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर