• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ম্যাথু

গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ম্যাথু

লালবাজারের ডাকে হাজিরা দিতে এখন বাকি আর তিনদিন ৷ গ্রেফতারি এড়াতে তার আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

লালবাজারের ডাকে হাজিরা দিতে এখন বাকি আর তিনদিন ৷ গ্রেফতারি এড়াতে তার আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

লালবাজারের ডাকে হাজিরা দিতে এখন বাকি আর তিনদিন ৷ গ্রেফতারি এড়াতে তার আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: লালবাজারের ডাকে হাজিরা দিতে এখন বাকি আর তিনদিন ৷ গ্রেফতারি এড়াতে তার আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল ৷ গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন নারদ কর্ণধার ৷ তাঁর দাবি, হাইকোর্টে বিচারাধীন জনস্বার্থ একটি মামলায় কীভাবে সমান্তরালভাবে তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ!

    আইনজীবী অরুনাভ ঘোষের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছে ম্যাথু ৷ নারদকর্তার আবেদন গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট ৷ বুধবার এই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট ৷

    ২১ জুলাই গত বৃহস্পতিবার ম্যাথু স্যামুয়েলকে আইনি নোটিস পাঠায় কলকাতা পুলিশ ৷ নোটিসে সাতদিনের মধ্যে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয় ৷ নারদ স্টিং কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগেও দু’বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলকে ইমেলে নোটিস পাঠায় লালবাজার ৷ কিন্তু সেই নোটিস এড়িয়ে গিয়ে নারদকর্তা দাবি করেন, ‘আমি কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে চিঠি পাইনি। ফোনেও যোগাযোগ করা হয়নি। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারাধীন। বিচারপতিদের নির্দেশে সব তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় চূড়ান্ত ৷’ এই যুক্তিতে সিটের ডাকে হাজিরা এড়িয়ে যান নারদ ডট কমের কর্ণধার ৷

    এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হয় কলকাতা পুলিশ ৷ এবারে যাতে কোনও ভাবেই ম্যাথু এড়িয়ে যেতে না পারেন তাই তাঁকে আইনি নোটিস পাঠানো হল ৷ নোটিসে দেওয়া সময়ের মধ্যে ম্যাথু হাজির না হলে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে কলকাতা পুলিশ ৷

    আইনি নোটিস পাঠানোর ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই ম্যাথু স্যামুয়েলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পায় কলকাতা পুলিশের SIT ৷ নারদ কর্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিশাল অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পান গোয়েন্দারা ৷

    সিট সূত্রে খবর, স্টিং অপারেশনের ঠিক আগে ম্যাথু স্যামুয়েলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা পড়ে ৷ উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে নারদ কর্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয় ৷ ম্যাথুর অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো টাকা তোলাও হয় ৷ কলকাতা পুলিশের পাওয়া এই তথ্য বেকায়দায় ফেলতে পারে নারদ কর্তাকে ৷

    ২০১৪ লোকসভা ভোটের আগে থেকেই, তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়কদের পিছনে পড়েছিলেন ম্যাথু স্যামুয়েল। শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের টাকা নেওয়ার গোপন ছবিও আইফোনের লেন্সবন্দি করেছিলেন। শুরু থেকেই ম্যাথুর দেওয়া সেই টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার নারদ কর্তার আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। যা তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগের ভিত্তিকেই শক্ত করছে।

    একদিকে লালবাজারে হাজিরা না দিলে জারি হবে গ্রেফতারি পরোয়ানা, অন্যদিকে টাকা লেনদেনের তথ্য ৷ দুইয়ে মিলে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কাতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন নারদকর্তা ৷

    একইসঙ্গে নারদকর্তার এই আবেদন কলকাতা পুলিশের নারদ তদন্তের জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ৷ কলকাতা হাইকোর্টে নারদকাণ্ডের জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের কাছে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৷

    আইনজীবীর আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ‘কে কী বলছে বা কে কী করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আমরা যা নির্দেশ দেব, সেটাই শেষ কথা। কারও কোনও আপত্তি থাকলে, আদালতের পথ খোলা।’ একইসঙ্গে সরকারি আইনজীবীর কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যাও চান ৷ এ হেন পরিস্থিতিতে ম্যাথুর আবেদন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ৷

    গত মার্চ ১৪, নির্বাচনের প্রথম দফার বিজ্ঞপ্তি জারির দিন বিজেপি পার্টি অফিসে শাসক দল তৃণমূলের ১১ জন শীর্ষ নেতা- নেত্রীদের ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক ক্লিপটি দেখানোর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল ৷ এই ক্লিপ নিয়েই ভোটের আগে তৈরি হয় প্রবল বিতর্ক ৷ শাসক দলের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধীরা ৷

    দক্ষিণের সংবাদ সংস্থা নারদ ডট কম-এর তরফে ম্যাথু দাবি করেন, এই ভিডিও একদম খাঁটি ৷ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশনটি তারা করেছিলেন বলে দাবি করেন সংস্থার কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

    গত ১৭ জুন নবান্নে বিশেষ বৈঠকের পর কলকাতা পুলিশের হাতে নারদ স্টিং কাণ্ডের তদন্তভার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে পড়ে কলকাতা পুলিশ ৷ তদন্তের জন্য সিপি রাজীব কুমারের নেতৃত্বে SIT গঠন করে কলকাতা পুলিশ ৷ এছাড়া টিমে রয়েছেন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) বিশাল গর্গ, কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইমের ওসি এবং ইকনমিক অফেন্স উইং শাখার ওসি-সহ কয়েকজন কর্তা ৷

    First published: