• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ৪ দফাতেই দেশে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ল রাজ্যে, ফায়দা তুলবে কোন দল? তৃণমূল না বিজেপি?

৪ দফাতেই দেশে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ল রাজ্যে, ফায়দা তুলবে কোন দল? তৃণমূল না বিজেপি?

ছবিটি প্রতীকী

ছবিটি প্রতীকী

  • Share this:

    #কলকাতা: এ রাজ্যে বিজেপি-র ভোট হু-হু করে বাড়তে চলেছে? বামেরা আরও ক্ষয়িষ্ণুর পথে? আপাত নিরীহ এই রাজনৈতিক প্রশ্ন দুটির মধ্যে প্রথমটির উত্তর দেওয়ার সময় বোধ হয় এখনও আসেনি৷ দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ২০১৪-র লোকসভা ভোট ও ২০১৬-এর বিধানসভা ভোটের অঙ্কটায় চোখ বোলালে 'রাজনৈতিক পণ্ডিত' হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন নেই৷ বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের এমন একটি রাজ্য, যেখানে মানুষ আক্ষরিক অর্থেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দেন৷ যার নির্যাস, প্রথম দফায় রাজ্যে ৬৯.৪৩ শতাংশ, দ্বিতীয় দফায় ৭৬.০৭ শতাংশ, তৃতীয় দফায় ৮১.৯৭ শতাংশ ও চতুর্থ দফায় ৭৬.৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ গোটা দেশের নিরিখে পয়লা নম্বরে৷

    কেন পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হারের প্রবণতা বেশি?

    বাম আমলে নিন্দুকেরা বলতেন, সংসারের কোনও অশান্তিও মেটায় লোকাল কমিটি৷ আসলে প্রতিটি বাড়িতে প্রতি ভোটারকে রাজনৈতিক ভাবে সচেতন করত বামেরা৷ অর্গানাইজড ভাবে ভোট করাতো৷ ফলে অচিরেই এই রাজ্যের মানুষের একটা বড় অংশ বামেদের দৌলতে, ভোটদান ও রাজনৈতিক সচেতন হয়ে ওঠে৷ বর্তমানে সাংগঠনিক জোরে বামেদের সেই ট্রেন্ডেই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ একেবারে বাড়িতে প্রতিটি সদস্যকে রাজনৈতিক ভাবে সচেতন করা ও ভোটদানে উত্‍‌সাহ দেওয়ায়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোট ও রাজনীতিতে যথেষ্ট চর্চায় থাকাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ ফলে ভোট দেওয়াটাকে অবশ্য কর্তব্য হিসেবেই ট্রিট করেন এ রাজ্যের মানুষ৷ বিজেপি-র সংগঠন ওতো মজবুত না-হলেও, যে ভোট পাবে, তা স্বতঃস্ফূর্ত৷

    এখন প্রশ্ন হল, এত ভোটদানের হারে ফায়দা হবে বিজেপি-র?

    প্রথমত, ভোটদানের হার বেড়েছে বলেই ভোট বাড়ছে, এই সমাপ্তি টানা ঠিক হবে না৷ অন্তত অতীত তা-ই বলে৷ কারণ, ২০১৪ সালে বিজেপি ২৬৭টি আসন পেলেও, ভোট পেয়েছিল ৩০ শতাংশ৷ সে বারও প্রচুর মানুষ ভোট দিয়েছিল৷ বাংলায় সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূল অনেক বেশি মজবুত হওয়ায়, বিজেপি-র বিশেষ চিঁড়ে ভিজবে না৷ এখনও পর্যন্ত রাজ্যে যে ১৮টি আসনে ভোট হয়ে গেল, ২০১৪ সালের নিরিখে বিশ্লেষণ করলে, চিত্রটা ঠিক কী রকম, দেখা যাক৷

    ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৪৷ মোদি হাওয়া নামক একটি শব্দবন্ধ সে বারের ভোটে প্রভাব ফেলেছিল৷ কিন্তু ভোটের কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লোকসভা আসনের নিরিখে, কোচবিহারে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৯৯, বামেদের প্রাপ্ত ভোট ৪ লক্ষ ৩৯ হাজার, বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোট ছিল ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৫৩৷ অর্থাত্‍‌ তৃণমূলের জেতার ব্যবধান ছিল ৮৭ হাজার ১০৭টি৷ ১ লক্ষের কম৷ ভোটদানের হার ছিল ৮২ শতাংশ৷ আলিপুরদুয়ারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বামেরা দ্বিতীয় হয়েছিল৷ তৃণমূলের জেতার ব্যবধান ছিল ২১ হাজার ৩৯৭৷ ভোটের হার ছিল ৮৩ শতাংশের বেশি৷ জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের জেতার ব্যবধান ছিল ৬৯ হাজার ৬০৬৷ ভোটদানের হার ছিল ৮৫ শতাংশের বেশি৷ দার্জিলিঙে বিজেপি-র জয়ের ব্যবধান ছিল ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৩৯ ভোট৷ ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল৷

    মোটের উপর এখনও পর্যন্ত যে ১৮টি আসনে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ১ লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিল বালুরঘাট (১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৬৪), রানাঘাট (২ লক্ষ ১ হাজার ৭৬৭), বর্ধমান-পূর্ব (১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৯৭), বর্ধমান-দুর্গাপুর (১ লক্ষ ০৭,৩৩১), বোলপুর (২ লক্ষ ৩৬ হাজার ১১২টি)৷ বাকি আসনগুলিতে তৃণমূল যে যে আসনে জিতেছিল, তা ১ লক্ষের কম ব্যবধানে৷ সে ক্ষেত্রে এই আসনগুলিতে বিজেপি-র ভোট বাড়াতে গেলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক ভাঙতে হবে৷ বামেদের ভোট আর ভাঙার নেই৷ কারণ, বামেদের রক্তক্ষরণ যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে৷ তবে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকে দার্জিলিং থেকে সরিয়ে এনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে দাঁড় করানো কতটা সুবিধা হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে৷

    প্রচুর ভোটের হারে বিজেপি-র ভোট বাড়ার জল্পনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, '২০১৪- বা ২০১৬তেও প্রচুর ভোট পড়েছে এ রাজ্যে৷ তার মানেই এই নয়, বিজেপি-র ভোট বাড়ছে৷ বরং সিপিআইএম ও কংগ্রেস আরও ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে৷ তৃণমূলের পক্ষে যে ভোট পড়বে না, তা নোটা-য় পড়বে৷ বিজেপি-র মতো সাম্প্রদায়িক দলের পক্ষে পশ্চিমবাংলার মানুষ নেই৷ তৃণমূলের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে৷ বিরোধীরা আরও ক্ষয়িষ্ণু হবে৷'

    বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য ২০১৯ সালে বাংলায় বিজেপি-র ফলকে ২০১১ সালের তৃণমূলের ফলের সঙ্গে তুলনা করছেন৷ তাঁর বক্তব্য, 'আসলে বাংলার মানুষ তৃণমূলের উপর বীতশ্রদ্ধ৷ ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ভাবতে পারেননি, ওতো ভোট পাবেন৷ তেমন এ বারের লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীরাও ভাবতে পারছেন না, বিজেপি এবার বিপুল ভোট পেতে চলেছে৷ বাংলায় বেশি ভোটদানের হারের ট্রেন্ড রয়েছে. বছর বছর তা বাড়ছে৷ এত মানুষ বেরিয়ে ভোট দিচ্ছেন, তৃণমূল সরকারকে উচ্ছেদের জন্যই৷'

    বামেরা? কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে নেই৷ যদিও কোথাও কোথাও সমঝোতা করে নিয়েছেন স্থানীয় স্তরে৷ তাতেও ভোটের এই বিপুল হারের ফায়দা কি তুলতে পারবে? সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, 'কত মানুষ ভোট দিলেন, তার উপর নির্ভর করে না, কোনও নির্দিষ্ট দলের ভোটপ্রাপ্তি৷ আসলে সাম্প্রদায়িক বিজেপি-কে ঝেলছে দেশের মানুষ৷ গুণ্ডা, দুর্নীতিবাজ তৃণমূল সরকারকেও দেখছে মানুষ৷ বিকল্প হিসেবে বামেদেরই বেছে নেবে৷'

    বিজেপি-ও জানে, বিজেপি দক্ষিণবঙ্গে খুব ভালো ফল করবে না৷ উত্তরবঙ্গে ধরেই নেওয়া যায় কংগ্রেস খুব একটা লড়াই দেবে না৷ সে ক্ষেত্রে সংগঠনের জোর ও সুশাসনের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক অক্ষতই থাকবে তৃণমূলের৷ আসনও বাড়তে পারে৷ তবে বিজেপি-র ভোট বাড়লেও, আসন সংখ্যায় তার প্রতিফলন হবে না৷

    First published: