corona virus btn
corona virus btn
Loading

নেই রোজগার ! গান ছেড়ে ফেরিওয়ালার কাজ বেছে নিতে হচ্ছে অনেক কণ্ঠশিল্পীকেই !

নেই রোজগার ! গান ছেড়ে ফেরিওয়ালার কাজ বেছে নিতে হচ্ছে অনেক কণ্ঠশিল্পীকেই !

সন্ধ্যা হলে মানুষকে সুরের স্বপ্নে ভাসানো, হৃদয় শীতল করা যাদের কাজ ছিল,সেই গায়কেরা এখন পেশা বদলে ফেরিওয়ালা হয়ে গেছে।

  • Share this:

#কলকাতা:  'এ দুনিয়া, এ মেহেফিল, মেরা কাম কি নেহি --- ' গুণ গুণ করে বেশ সুরে আবেগ ভরে গাইছিল মাঝ বয়সের এক ব্যক্তি।করোনার জন্য অনেক কিছুই হারাতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক উজ্জ্বল মুখ হারিয়ে গেছে লকডাউনের সময়।   কলকাতার ফুলবাগান। দুপুর দুটো থেকে আড়াইটা।মুখটা চেনা হলেও যেন, অচেনা লাগছে। উদাস হাতে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিতে দিতে গেয়ে চলেছে - ' মেরা জীবন কোরা কাগজ, কোরাহি রহে গেয়া ---- '। শহর এবং গ্রামের পরিচিত গায়ক, শুভাশিস চন্দ। বয়স ৫৪ বছর। গভীর সংগ্রাম করতে করতে অবশেষে বারে গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা গান গাইতে গেলে রাত অবধি হাজার খানেক টাকা রোজগার হত।সেই নিয়ে এক মেয়ে, ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চলে যেত।   সাড়ে তিন মাস কোন রোজগার নেই।বাড়িতে একটি তানপুরা আছে ।মাঝে মাঝে একবার হাত বুলিয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি নিয়ে চায়ের দোকানে এসে বসে থাকেন। যার সঙ্গে দেখা হয়, একবার জিজ্ঞাসা করেন, "লক ডাউন কবে থেকে উঠবে?" সঙ্গীত বিশারদ এখন ভিখারীর মত জীবন যাপন করছেন।

শুধু শুভাশিস বাবু না।মাধব সাহা ,যার গান শুনতে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে।সেই মাধব এখন সোদপুর ঘোলা এলাকাতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার এর ব্যবসা খুলে বসেছে। সন্ধ্যা হলে মানুষকে সুরের স্বপ্নে ভাসানো, হৃদয় শীতল করা যাদের কাজ ছিল,সেই গায়কেরা এখন পেশা বদলে,ফেরিওয়ালা হয়ে গেছে।   কলকাতা এবং শহরতলিতে এরকম বহু গায়ক-গায়িকা রয়েছেন ,যাদের প্রতিভা গুনে সারাবছর গান গেয়ে জীবিকা ধারণ করে। এখন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। বেশিরভাগ গায়ক-গায়িকারা বছরে খুব বেশি অনুষ্ঠান পায় না। তাই তারা বারে গান করে একটি স্থায়ী রোজগারের ব্যবস্থা করে। এই লক ডাউনে সবকিছু বন্ধ।লকডাউন উঠে গেলে সঙ্গে সঙ্গে যে বারে খরিদ্দার আসবে ! কিংবা বার মালিক আগের মতো করেই পারিশ্রমিক দেবে, সেটাতে সন্দেহ আছে।   শুধু কলকাতাতেই এইরকম গায়ক-গায়িকা কয়েক হাজার রয়েছে । তার সঙ্গে বাদ্য বাদকেরা, শব্দ যন্ত্র সরবরাহকারী, আলোক সম্পাতের কর্মীরা রয়েছে।সব মিলে সংখ্যাটা অনেক বেশি।তাদের প্রত্যেকের ঘরে,নিভু নিভু আলো। পেটে খিদের ঘাটতি প্রতিদিন বাড়ছে।সেই নিবারণের রাস্তা কি? লক ডাউন উঠবে কবে? প্রশ্ন প্রতিদিনের।

SHANKU SANTRA 

Published by: Piya Banerjee
First published: June 30, 2020, 11:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर