পছন্দ নয় মমতার প্রার্থী, বাদ পড়া 'হেভিওয়েট'দের ক্ষোভে বিড়ম্বনায় শাসক দল

পছন্দ নয় মমতার প্রার্থী, বাদ পড়া 'হেভিওয়েট'দের ক্ষোভে বিড়ম্বনায় শাসক দল

দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, 'সবাই ওই দল ছেড়ে চলে আসবে। সবে তো খেলা শুরু হল। আরও খেলা হবে।'

দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, 'সবাই ওই দল ছেড়ে চলে আসবে। সবে তো খেলা শুরু হল। আরও খেলা হবে।'

  • Share this:

    #কলকাতা: দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর ঠাঁই হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুডবুকে। বাদ গিয়েছেন প্রার্থী তালিকা থেকে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাঙরের ডাকাবুকো নেতা আরাবুল ইসলাম আক্ষেপের সুরে লিখেছিলেন, 'দলে আজকে আমার প্রয়োজন ফুরোল'। চোখের জলও চেপে রাখতে পারেননি। কান্না ভিজে গিয়েছিল আরাবুলের চোখ। যদিও আক্ষেপের মধ্যেই ছিল দলের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও। সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, 'এই তৃণমূল দলটাকে বুকে আঁকড়ে রেখেছি, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আজ আমার আর দলে কোনও প্রয়োজন নেই। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভাঙড়ের মানুষ যা বলবেন, আমি এখন তাই করব।' এবার সরাসরি পথে নেমেই পথ খোঁজার চেষ্টা করলেন আরাবুল। শনিবার নিজের অনুগামীদের নিয়ে ভাঙরে মিছিল করেন এই দাপুটে নেতা। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে এভাবে পথে? আরাবুল ও তাঁর অনুগামীদের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম থেকে বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী চিকিৎ‍সক রেজাউল করিমকে ভাঙরে প্রার্থী করেছে দল। কিন্তু তাঁকে এলাকার তৃণমূল কর্মীরা কখনই মেনে নিতে পারবেন না। এদিন অনুগামীদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকও করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠক করেছি। যা করব, ভাঙড়ের মানুষের জন্যই করব।' যদিও বৈঠকের মাঝেই হঠাতই বেরিয়ে যান আরাবুল। অবশ্য গতকালই আরাবুলের ক্ষোভের পর রেজাউল বলেছিলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কারও প্রয়োজন ফুরোয় না। তিনি সকলের খেয়াল রাখতে জানেন।' কিন্তু তাতেও যে 'শান্ত' হননি আরাবুল, তা তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট।

    বিক্ষোভ চলছে আমডাঙাতেও। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই পথ অবরোধ করেছিলেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সকলেই অবশ্য বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানের অনুগামী বলে পরিচিত। এদিনও তাঁরা অভিযোগ করেন, বামফ্রন্টের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী মোর্তাজা হোসেন বহিরাগত। তাঁকে মানতে পারবেন না স্থানীয়রা। এদিন নিজের অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছেন রফিকুর রহমান। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

    এদিকে দলের বিরুদ্ধে বারবার মুখ খোলা সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেননি মমতা। যদিও কারণ হিসেবে এগিয়ে দিয়েছেন, বেশি বয়সের প্রসঙ্গকে। এবার সিঙ্গুরের তৃণমূল প্রার্থী মাস্টারমশাইয়ের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা বেচারাম মান্না। একইসঙ্গে হরিপাল থেকে প্রার্থী করা হয়েছে বেচারামের স্ত্রী'কে। স্বাভাবিক কারণেই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের দলবদলের সম্ভাবনা আরও জোরাল হচ্ছে।

    শুক্রবার দলের ২৯১ প্রার্থীর মধ্যে তারুণ্যের সঙ্গে মহিলা, তারকা ছ্বটা ছড়িয়ে দিতে ভোলেননি মমতা। কিন্তু তা করতে গিয়েই বেশ কয়েকজন 'ঘনিষ্ঠ'কে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে হল তাঁকে। তাঁদের মধ্য়ে রয়েছেন ভাঙরের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম, সাতগাছিয়ায় বিধায়ক সোনালি গুহ, নলহাটির বিধায়ক মইনুদ্দিন শামসের মতো নেতা-নেত্রীরা। আর প্রার্থীতালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দিকে-দিকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, বেড়ে গিয়েছে দল ছাড়ার হিড়িক। তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য দীনেশ বাজাজের বিজেপিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা হয়ে গিয়েছে। মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকে দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন তিনি। তালিকায় রয়েছে উত্তর কলকাতার স্মিতা বক্সীর নামও। এমনকী শিবপুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক জটু লাহিড়ি নিজেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। শিবপুরের তৃণমূল প্রার্থী প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মীদের একাংশ।

    পরিস্থিতি দেখে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, 'সবাই ওই দল ছেড়ে চলে আসবে। সবে তো খেলা শুরু হল। আরও খেলা হবে।'

    Published by:Suman Biswas
    First published: