'আশা' নিয়ে বিজেপিতে, কিন্তু টিকিট জুটল না একঝাঁক প্রাক্তন তৃণমূলীর! দেখুন তালিকা...

'আশা' নিয়ে বিজেপিতে, কিন্তু টিকিট জুটল না একঝাঁক প্রাক্তন তৃণমূলীর! দেখুন তালিকা...

জুটল না টিকিট

প্রথম চার দফা প্রার্থী ঘোষণার পর যে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছিল বিজেপির অন্দরে, তাতে কি বিজেপি নেতৃত্ব বুঝতে পারেননি, তৃণমূলত্যাগীদের প্রার্থী করলে দলের হয়ে মাঠে-ময়দানে কাজ করা নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন?

  • Share this:

    #কলকাতা: কেউ বলেছিলেন, 'আর ভোটে লড়তে চাই না', কেউ বলেছিলেন, 'দলে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে', কারও আবার মন্তব্য ছিল, 'মানুষের জন্য কাজ করতে চাই', আবার কেউ বলেছিলেন, 'প্রার্থী হতে চাই না, একটু সম্মান পেলেই হল।' আদতে এই মন্তব্যকারীদের সকলেরই গন্তব্য ছিল তৃণমূল থেকে বিজেপি। আর সদ্য আর সেই তৃণমূলত্যাগীদেরই বারবার প্রার্থী তালিকায় বড়ভাবে জায়গা করে দিয়েছেন অমিত শাহরা। আর এতেই ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে প্রশ্ন, প্রথম চার দফা প্রার্থী ঘোষণার পর যে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছিল বিজেপির অন্দরে, তাতে কি বিজেপি নেতৃত্ব বুঝতে পারেননি, তৃণমূলত্যাগীদের প্রার্থী করলে দলের হয়ে মাঠে-ময়দানে কাজ করা নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন? যদিও শেষ চার দফার প্রার্থীতালিকাতেও সেই তৃণমূলত্যাগীদের 'ভিড়'ই লক্ষ্য করা গিয়েছে। জিতেন্দ্র তিওয়ারি, বৈশালী ডালমিয়া, রথীন চক্রবর্তী, সব্যসাচী দত্ত, শীলভদ্র দত্তদের টিকিট দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু এরই মাঝে বেশ কয়েকজন রয়ে গেলেন, যারা 'আশা' নিয়ে বিজেপিতে গেলেও টিকিট পেলেন না তাঁরা।

    তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই দেখা যায়, সাতগাছিয়া কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিনের বিধায়ক, একসময় মমতার ছায়াসঙ্গী সোনালি গুহকে প্রার্থী করা হয়নি। প্রকাশ্যেই রীতিমতো কান্নাকাটি করে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সোনালি। একইসঙ্গে বলেন, 'দিদি পালটে গেছেন। বিজেপিতে আমি টিকিট চাই না। শুধু সম্মান দিলেই হবে।' বিজেপি তাঁকে সম্মান দেবে কিনা, তা বলার সময় এখনও আসেনি। কিন্তু সোনালিকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। যদিও প্রকাশ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়াও এখনও দেননি সোনালি।

    সোনালির সঙ্গে একইদিনে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের আরেক বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। যদিও টিকিট না পেয়েই যে দল বদল করেছেন দীপেন্দু, তা তিনি স্পষ্টও করে দেন। যোগদানের দিন বিজেপির হেস্টিংস অফিসে দীপেন্দুকে মজা করে বিজেপি নেতারা বলছিলেন, 'গোল করতেই হবে।' কিন্তু সেই দীপেন্দুকেও প্রার্থী করল না গেরুয়া শিবির। ফলে 'গোল' করার কোনও সুযোগ রইল না প্রাক্তন স্ট্রাইকারের কাছে।

    দীপেন্দুদের সঙ্গে বিজেপির খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন তপনের দুবারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদাও। মুকুল রায়ের স্নেহভাজন বাচ্চু যদিও বিজেপিতে নাম লেখানোর পরপরই মানসিক অশান্তিতে ভুগতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন নিজেই। এমনকী তৃণমূলে ফেরার চেষ্টাও চালাচ্ছেন। সেই তাঁকেও প্রার্থী করেনি বিজেপি। একইভাবে প্রার্থী না হওয়ার ক্ষোভে দলবদল করা শিবপুরের বিদায়ী বিধায়ক জটু লাহিড়িকেও টিকিট দিল না গেরুয়া শিবির। তবে, তাঁর কেন্দ্রে আরেক তৃণমূলত্যাগী তথা হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হয়েছে।

    Published by:Suman Biswas
    First published: