' প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী ' মোদিকে পালটা যবাব মমতার

' প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী ' মোদিকে পালটা যবাব মমতার

মোদিকে পালটা যবাব তৃণমূল নেত্রীর

  • Share this:

#কলকাতা: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখন রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখ খুললেন ৷ সভায় বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মোদির বার্তা, 'সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়েছে৷ বিলকে পাস করাতে সাহায্য করেছেন সাংসদরা ৷ আপনাদের উচিত সংসদকে সম্মান করা৷ সংবিধানকে সম্মান করা৷'

CAA প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মমতাকে নিশানা করে মোদি বলেন, 'সংসদে দাঁড়িয়ে একসময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর আর শরণার্থীদের জায়গা দিতে বলতেন মমতা দিদি। আর আজ তিনি কলকাতা থেকে পৌঁছে গেছেন রাষ্ট্রসংঘে! দিদি, এখন কী হয়েছে আপনার? কেন বদলে গিয়েছেন? নির্বাচন আসে-যায়, বাংলার মানুষকে ভরসা করুন। বাংলার বাসিন্দাদের আপনি শত্রু ভেবে ফেলেছেন।'

মোদিকে এবার পালটা যবাব দিলেন তৃণমূল নেত্রী। ট্যুইটারে জানালেন, '' প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। কে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করছে, কে ভুল-ঠিক, বিচার করবে মানুষ। আমি,আপনি যা বলেছি, তা মানুষ বিচার করবে।''

দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য যখন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে জ্বলছে, তখন মোদির কথায়, ' আমাকে ঘৃণা করুন, কুশপুতুল পোড়ান, কিন্তু ভারতকে ঘৃণা করবেন না৷ নাগরিকত্ব আইন ভারতের কোনও নাগরিকের জন্য নয়৷ সে হিন্দু হোক বা মুসলিম৷ দেশের এনআরসি নিয়েও নানা মিথ্যে প্রচার চলছে৷ কংগ্রেস ও তার সঙ্গীরা বলল, কাকে কান নিয়ে গেল৷ কিছু লোক কাকে কান নিয়ে গেল বলে লাফাতে শুরু করে দিল৷ আমরা তো এনআরসি তৈরি করিনি৷ কংগ্রেস জমানায় তৈরি হয়েছিল৷ তখন কি কংগ্রেস ঘুমোচ্ছিল? আমরা কোনও নাগরিকের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেব না৷ কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে কিছু আরবান নক্সাল ভুয়ো বার্তা ছড়াচ্ছে, সব মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে৷ ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে ছড়াচ্ছে৷ আরে একবার এনআরসি, নাগরিকত্ব আইনটা পড়ে তো নিন৷ কোনও ডিটেনশন সেন্টার হচ্ছে না৷ সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা৷'

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে মোদির ভাষণ, 'যাঁরা ভারতের মুসলমান, যাঁরা বংশের পর বংশ ধরে ভারতের মাটিতে বসবাস করছেন, তাঁদের সঙ্গে আনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের কোনও সম্পর্ক নেই৷ দেশে কোনও ডিটেনশন সেন্টার গড়া হয়নি, হবেও না৷ বিরোধীরা মিথ্যে কথা বলছে৷ আরে মিথ্যে কথা ছড়ানোর আগে একটু গরিবের দিকেও তাকান৷ নাগরিকত্ব আইনে কোনও নতুন শরণার্থীর লাভ হবে না৷ যারা বছরের পর বছর ধরে ভারতে বাস করছেন, যাঁরা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ধর্মী নিপীড়নের স্বীকার হয়ে ভারতে এসে বছরের পর বছর ধরে বাস করছেন, তাঁদের সুরক্ষার জন্য নাগরিকত্ব আইন৷ খোঁজ নিয়ে দেখুন, পাকিস্তান কী ভাবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করে, তাই দেশের ভালোর জন্য ও বিশ্বে পাকিস্তানের কাজকর্মের পর্দা ফাঁস করতেই নাগরিকত্ব আইন৷ শরণার্থীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখে না, কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা গোপনে লুকিয়ে থাকে৷ আসলে অনুপ্রবেশকারীরা ভয় পাচ্ছে, এ বার সত্যিটা সামনে চলে আসবে৷ অসমে এনআরসি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে৷'

First published: December 22, 2019, 7:52 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर