কথা রাখলেন মমতা, দাঁড়াচ্ছেন নন্দীগ্রামেই! ভবানীপুরের দায়িত্বে ভরসার 'সহকর্মী'

কথা রাখলেন মমতা, দাঁড়াচ্ছেন নন্দীগ্রামেই! ভবানীপুরের দায়িত্বে ভরসার 'সহকর্মী'

'বড় বোন'কে ছেড়ে শেষমেশ 'মেজো বোন'কেই বঙ্গ জয়ের ধাত্রীভূমি হিসেবে বেছে নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

'বড় বোন'কে ছেড়ে শেষমেশ 'মেজো বোন'কেই বঙ্গ জয়ের ধাত্রীভূমি হিসেবে বেছে নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Share this:

    #কলকাতা: 'বড় বোন'কে ছেড়ে শেষমেশ 'মেজো বোন'কেই বঙ্গ জয়ের ধাত্রীভূমি হিসেবে বেছে নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার শুরুতেই জানিয়ে দিলেন, 'আমিই নন্দীগ্রামে লড়ছি। আমি কথা দিলে কথা রাখি। একসময় যাদবপুরেও কেউ দাঁড়ায়নি। আমি দাঁড়িয়েছিলাম। হাজরায় মার খেয়েছিলাম। তারপর ভবানীপুরেও লড়েছি।' তাহলে মুখ্য়মন্ত্রীর জয়ী আসন ভবানীপুর? মমতার কথায়, 'এবার ভবানীপুরটা আমার সহকর্মী শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে দিচ্ছি। স্থানীয় মানুষ। সকলে চেনেন। কাজ করেছেন এলাকার।'

    দীর্ঘদিন পর নন্দীগ্রামের মাটিতে পা রেখেই মমতা ঘোষণা করেছিলেন, 'আমি যদি নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াই, কেমন হবে?' মমতার সেই ঘোষণার পর শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য় রাজনীতিতে। তৃণমূল নেত্রী অবশ্য় বলেছিলেন, 'ভবানীপুর আমার বড় বোন আর নন্দীগ্রাম আমার মেজো বোন। যদি সম্ভব হয়, আমি দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পারলে এবার দাঁড়াব। কারণ, নন্দীগ্রামে থেকেই আমি আন্দোলনটা করেছি। ভবানীপুরের মানুষ এতে দুঃখ পেতে পারেন। কিন্তু আমি দুঃখ দেব না। যদি ম্যানেজ করতে পারি আমি দুটোতেই দাঁড়াব। তবে নন্দীগ্রামে আমি দাঁড়াচ্ছিই।' অর্থাৎ, 'মেজো বোন'কে দেওয়া কথা যেমন তিনি রাখলেন, তেমনি ভবানীপুর তুলে দিলেন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। আর শোভনদেবের রাসবিহারী আসনে তৃণমূল নেত্রী প্রার্থী করলেন ভরসাযোগ্য় দেবশীষ কুমারকে।

    যদিও নন্দীগ্রামে তিনি নিজে দাঁড়াবেন, মমতার এই ঘোষণার পরপরই কটাক্ষ করতে আসরে নেমেছিল বিজেপি। লোকসভা ভোটের ফলে ভবানীপুর আর নিরাপদ নয় বুঝেই তৃণমূল নেত্রী নন্দীগ্রামকে বেছে নিয়েছেন বলে আক্রমণ করেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এমনকী মমতার সেই ঘোষণার দিনই সদ্য় দলত্য়াগী শুভেন্দু অধিকারী রীতিমতো চ্য়ালেঞ্জের সুরে বলেন, 'দল আমাকে দাঁড় করালে আমি হারাব। আমি না দাঁড়িয়ে অন্য কেউ দাঁড়ালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে ৫০,০০০ বেশি ভোটে হারাব।' উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুকেই বিধায়ক করেছিলেন মমতা। বিজেপি সূত্রের খবর, এবারের প্রেস্টিজ ফাইটেও শুভেন্দুকে দেওয়া হতে পারে মমতা-বধের দায়িত্ব। শুভেন্দু নিজেও দলের কাছে সেই 'ইচ্ছা' প্রকাশ করেছেন বলেই দাবি রাজীব বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মতো সদ্য় গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া নেতার। বস্তুত, একুশের মহাযুদ্ধে এবার নন্দীগ্রামেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ হতে চলেছে।

    যদিও এই লড়াইয়ের আন্দাজ আগেই করেছিলেন মমতা। তাই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই বলেছিলেন, 'নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নতুন জন্ম হল। বেশি সময় দিতে পারব না। কারণ, ২৯৪ আসনেই আমাকে লড়তে হবে। তবে কাজ করে দেব।' এদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর হয়ে কাজ করার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন পূর্ণেন্দু বসুকে। কিন্তু বিজেপি যেভাবে মমতাকে নন্দীগ্রাম পরাস্ত করতে শুভেন্দুকেই এগিয়ে দিতে চাইছে, তাতে তৃণমূলকেও নতুন করে 'রুটম্যাপ' তৈরি করতে হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    বাস্তবেই বাংলার জন্য আজ 'সুপার ফ্রাইডে'। বঙ্গ দখলের লক্ষ্য়ে তৃণমূল, বিজেপি, সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিন আজ। আর সেই ঘোষণাতেও বাকিদের পিছনে ফেলে ২৯১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনটি আসন ছেড়ে রাখা হল বিমল গুরুঙ্গের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জন্য়। এদিন কালীঘাটে, নিজের বাড়িতেই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, 'আমাদের কাছে এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরাই প্রথম রাজনৈতিক দল, যাঁরা পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে। ২৯১ সিটে আমরা প্রার্থী ঘোষণা করছি। পাহাড়ের তিনটি সিটে আমাদের বন্ধুরা লড়াই করবে। অন্য়ান্য় জায়গাতেও আমাদের তাঁরা সমর্থন করবেন।'

    Published by:Suman Biswas
    First published: