Mamata Banerjee Dharna: গান্ধিগিরিতেই কিস্তিমাত, রাজপথে প্রতিবাদে একা, জেদের অন্য নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Mamata Banerjee Dharna: গান্ধিগিরিতেই কিস্তিমাত, রাজপথে প্রতিবাদে একা, জেদের অন্য নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতার অভিনব প্রতিবাদ। নিজস্ব চিত্র।

গান্ধিমূর্তির পাদদেশে তিনি ধর্নায় বসলেন সম্পূর্ণ একা, কোনও পতাকা ব্যানার ছাড়া, তৈরি হল অনন্য এক 'স্পেকট্যাকেল'।

  • Share this:

#কলকাতা: প্রতিবাদে তিনি একা, অবিচল, অনন্য। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক দূরত্বের হোক বা নৈকট্যের, একথা মানতে দ্বিধা করবেন না কেউই। আজও তার অন্যথা হল না। একা, কোনও দলীয় পতাকা ছাড়া ধর্নায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিনকয়েক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ঘেরাও মন্তব্যের জন্য শো-কজ করেছিল কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার উত্তরও দেন। কিন্তু উত্তরে খুশি না হয়ে প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে কমিশন। ২৪ ঘণ্টার জন্য তাঁর প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। এই ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যত প্রতিবাদে ফেটে পড়ে গোটা তৃণমূল ব্রিগেড। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই ঘটনাকে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক বলে ট্যুইট করেন। সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি ধরনায় বসার সিদ্ধান্ত নেন এবং জানান নিষেধাজ্ঞা উঠলে যত রাতই হোক সভা করবেন।

কিন্তু সেখানেও বাধা, প্রচারই যখন নিষেধ, তখন দলীয় পতাকাই বা ব্যবহার করেন কী করে! সমর্থক অনুগামীরাই বা ধর্নায় আসেন কী করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করলেন তাঁর মগজাস্ত্র। গান্ধিমূর্তির পাদদেশে তিনি ধর্নায় বসলেন সম্পূর্ণ একা, কোনও পতাকা ব্যানার ছাড়া, তৈরি হল অনন্য এক 'স্পেকট্যাকেল'। বাইরে অপেক্ষমান হাজার হাজার ত়ৃণমূল সমর্থক। নিষেধাজ্ঞা উঠলেই বারাসাতে সন্ধ্যে সাড়ে আটটায় তিনি সভা করবেন তৃণমূল প্রার্থী চিরঞ্জিতের সমর্থনে। সেখান থেকে আসবেন উল্টোডাঙায়। দলীয় প্রার্থী সুজিত বসুর সমর্থনে সভা করবেন তিনি।

সিঙ্গুর হোক বা নন্দীগ্রাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা জানেন প্রতিবাদের ধরনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যান। ৯০ এর দশকে ফুলিয়ার মূক বধির মেয়ের ধর্ষণর প্রতিবাদে মহাকরণের অলিন্দে ঢুকেছিলেন বিরোধী নেত্রী মমতা, চুলের মুঠি ধরে তাঁকে বের করে দেওয়ার দৃশ্য সব সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়েছিল, আজকের ভাষায় বললে ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি সেদিনই। সিঙ্গুরে  ২৬ দিনের অনশন হোক রাজীব কুমারের সিবিআই-গ্রেফতারি রুখতে সান্ধ্য ধরনা, মমতার এ হেন নজিরবিহীন প্রতিবাদের তালিকা সুদীর্ঘ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, এদিনও ‌বিষয়টা তেমন হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একঘরে হওয়ার পরিবর্তে প্রচারের পুরো আলোটাই শুষে নিলেন। বিরাট ম্যারাপের তলায় তিনি একা হুইলচেয়ারে বসে রয়েছেন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, এই গান্ধিগিরি সর্বভারতীয় স্তরেই একটি জনসভার থেকে অনেক বেশি প্রচার দেবে তাঁকে, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। পাশাপাশি দলে ঐক্যের মন্ত্রটা ছড়িয়ে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এই মঞ্চকে ব্যবহার করবেন তাও বলাই বাহুল্য।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় ধর্না মঞ্চে বসে ছবি আঁকছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে মমতা আসলে এমন একটা ছবি তৈরি করতে চাইছেন যাতে মনে হয়, তিনি আদৌ বিচলিত নন।

মনে করিয়ে দেওয়া যাক, শীতলকুচি কাণ্ডে পরে তিনি যখন মাথাভাঙার দিকে রওনা হবেন বলে মনস্থির করেন, তখন তাঁর যাওয়া আটকায় কমিশন। মমতা দমেননি, অভীষ্ট লক্ষ থেকেও সরে আসেননি। ভিডিও কলে কথা বলেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা উঠলে যাবেন সে কথাও জানিয়ে দেন। এভাবেই  কূট-বুদ্ধির মারপ্যাচই রণক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে মমতাকে। মমতা ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এদিনও বিলম্বিত হলেও আসলে মমতার সভা বন্ধ হচ্ছে না, বরং সারাদিন পেয়ে যাচ্ছেন বিশ্রামের জন্য, যা তাঁর একান্তই প্রয়োজন।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তে কি মমতা আসলে ডিভিডেন্ট নিলেন  ? উত্তর পাওয়া যাবে ২ মে। কিন্তু আপাতত এটুকু বলাই যায়, মমতা অনুগামীরা অক্সিজেন পেলেন দলনেত্রীর বিরোধিতার স্বাতন্ত্র্যে।

Published by:Arka Deb
First published: