'ঘরের মেয়ে বউকে কয়লা চোর বলছে', তোলাবাজ তত্ত্বের বিস্ফোরক উত্তর মমতার

হুগলির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Share this:

    #কলকাতা: অভিষেকের বাড়িতে সিবিআই প্রবেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রণংদেহী মূর্তিতে সাহাগঞ্জের সভায় অবতীর্ণ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার মূল বার্তা ঘরের মেয়ের নিরাপত্তায় আঘাত হানছে বিজেপি।  রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাহাগঞ্জের সভা থেকে বলেন, "ঘরের মেয়ে বউকে কয়লা চোর বলছে। আমার মা বোনেরা কয়লা চোর? তোমাদের গায়ে কয়লার ময়লা।" প্রসঙ্গত এদিন মমতার মুখেও বারংবার শোনা গেল খেলা হবে। বিজেপি সম্পর্কে তাঁর উবাচ, "ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না, শুধু আমাকে ওরা ভয় পায়।" পাশাপাশি এদিনও বলে রাখলেন,তাঁকে জেলে ভরেও বিজেপি সুবিধে করতে পারবে না। মমতার চ্যালেঞ্জ, " দুমাস পরে দেখব কার কত জোর।"

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই বলছিলেন, "বাচ্চা মেয়েকে কয়লা চোর বলছে, এদিকে কয়লা চোরদের নিয়ে কোল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।" তাঁর পাল্টা শ্লেষ, "নোটবন্দির টাকা গেল কোথায় কোল ইন্ডিয়া বিক্রি হচ্ছে কেন, রেল সেল বিক্রি হচ্ছে কেন?" অভিযোগের সুরেই মমতা বিজেপি নেতাদের  বলেন, "কোটি কোটি টাকা কাটমানি খান আপনারা।"

    দিন কয়েক আগেই তৃণমূল ধূমধাম করে- বাংলা তার ঘরের মেয়েকেই চায় স্লোগানটি লঞ্চ করেছিল। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সভায় প্রথম থেকে বারংবার সেই ঘরের মেয়েদের সম্মান, ঘরের মেয়েদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা নিয়েই বিজেপিকে এক হাত নিতে থাকেন। প্রশ্ন করেন, "বিজেপিতে মহিলারা আদৌ সুরক্ষিত তো? উত্তরপ্রদেশের অবস্থা কী?"

    নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বাংলায় পদার্পণের উদ্দেশ্যে তথা দক্ষিণেশ্বর মেট্রোর উদ্বোধন নিয়েও তোপ দাগেন মমতা। বলেন, "মেট্রো আমি করে দিয়ে গিয়েছি। তুমি ফিতে কেটেছো। লজ্জা করে না? কে দিল? কে করল? আর কে দালালি করল? দালালি করা ছাড়া কাজ নেই।"

    এ দিন মমতার সভায় যোগ দেন একাধিক টলিউড তারকা। যোগ দেন  ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিও। সায়নী ঘোষের যোগদান পরেই মমতা বলেন, "দুটো ট্যুইটের জন্য সায়নীকে রোজ থ্রেট করেছে। বিজেপি নেতারা যা তা কথা বলেছে। অপমান করেছে দেবলীনাকে।" প্রসঙ্গত মমতা এদিন ট্রাম্প প্রসঙ্গে মোদির প্রচারের কথা তোলেন, বলেন, ট্রাম্পের থেকেও বাজে পরিণতি হতে চলেছে কেন্দ্রের শাসক দলের।

    অভিষেকের বাড়িতে সিবিআই-নোটিস পাঠানোর দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষাদিবসের মঞ্চ থেকে কারও নাম না করে বলেছিলেন বন্দুকের নলে ভয় পাইনি, এই চমকানি ধমকানিতে ভয় পাব না। তারপরের ৪৮ ঘণ্টায় আরও জলঘোলা হয়েছে। রুজিরার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যান সিবিআই-এর কর্তারা। সেই কারণে এদিন মমতা কতটা ঝাঁঝ বাড়ান সেই দিকেই নজর ছিল গোটা রাজ্যের। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টা আগে সাহাগঞ্জের মাঠেই সভা করে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, সেই কারণে দলীয় কর্মীরাও মুখিয়ে ছিলেন নেত্রীর বার্তা শুনতে। সেই মঞ্চে মমতা বলে রাখলেন, বাংলাকে গুণ্ডা দিয়ে দখল করতে চাইছে কেউ কেউ। নিজেকে আহত বাঘের সঙ্গেও তুলনা করলেন তিনি। বলে গেলেন, গুজরাট নয়, বাংলাই বাংলা শাসন করবে। উজ্জীবীত হলেন কর্মীরাও। বাকিটা সময় বলবে।

    Published by:Arka Deb
    First published: