গণতন্ত্র ধুঁকছে, একযোগে পথে নামার সময় এসে গিয়েছে, বিজেপি বিরোধী নেতাদের চিঠি মমতার

গণতন্ত্র ধুঁকছে, একযোগে পথে নামার সময় এসে গিয়েছে, বিজেপি বিরোধী নেতাদের চিঠি মমতার

বিরোধী নেতাদের চিঠি মমতার।

এক কথায় এই পত্রের নির্যাস, নরেন্দ্র মোদি সরকার সমস্ত ও বিজেপি স্বরগুলিকে দমন করে একটি কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে একজোট হওয়া প্রয়োজন।

  • Share this:

    #কলকাতা: রাত পোহালে তাঁর অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় নামার ঠিক আগেই বেশিরভাগ অবিজেপি রাজ্যের শীর্ষনেতাদের  উদ্দেশ্যে  বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বেধে পথে নামার প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এক কথায় এই পত্রের নির্যাস, নরেন্দ্র মোদি সরকার সমস্ত ও বিজেপি স্বরগুলিকে দমন করে একটি কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে একজোট হওয়া প্রয়োজন। সোনিয়া গান্ধি, শরদ পাওয়ার, এমকে স্ট্যালিন, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, উদ্ধব যাদব, নবীন পট্টনায়ক, হেমন্ত সোরেন, জগন রেড্ডি, কেএস রেড্ডি, ফারুক আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্যদের উদ্দেশ্যে এই চিঠি। চিঠির ভাষা এবং মেজাজ দুইই বুঝিয়ে দিচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন মিটলে জাতীয় স্তরে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চলেছে তৃণমূল।

    চিঠির শুরুতেই তৃণমূল সুপ্রিমো লিখেছেন, বিজেপি শাসিত সরকার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোটি নষ্ট করতে চাইছে। দিল্লি আইন তারই একটি ধাপ। ক্রমে সরাসরি সাত দফা অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী সেই অভিযোগ?

    ১ রাজ্যপাল পদটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ- সহ একাধিক রাজ্যে এই পদটির অপব্যবহার করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যেই রাজ্যপাল নিজে একজন বিজেপির অফিস কর্মীর মতো আচরণ করছে। এটি যে পক্ষপাতহীন ও সাংবিধানিক পদ তা তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন।

    ২ অ-বিজেপি রাজ্যগুলিতে ইডি সিবিআই -এর মত সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ তামিলনাড়ুর মতো দেশে যখন নির্বাচনে বাধ্য বেজে গিয়েছে তখনই ইডির মতো সংস্থাকে ব্যবহার করে ডিএমকে এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতাদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অথচ যে অভিযোগের জন্য তাদের  তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে সেইরকম ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম এলেও তাদের বাড়িতে সিবিআই যাচ্ছে না।

    ৩ অবিজেপি রাজ্যগুলিতে বিভিন্ন খাতে কেন্দ্র থেকে রাজ্যের যে টাকা প্রাপ্য তা আটকে দেওয়া হচ্ছে এর ফলে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম কে যাচ্ছে।

    ৪  ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল, আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল, পরিকল্পনা কমিশন এর  মতো সংস্থাগুলিকে নীতি আয়োগের মতো নখদাঁতহীন একটি সংস্থায় পরিণত করে আসলে রাজ্য সরকার গুলির দাবি-দাওয়া চাহিদা রাখার জায়গাটাকে  সংকোচিত করা করে দেওয়া হয়েছে।

    ৫ বিজেপি অন্যান্য ও বিজেপির রাজ্য সরকার ফেলার জন্য এমন সমস্ত উৎস থেকে সম্পদ জোগাড় করছে যা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

    ৬ মোদি সরকার একটানা বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে. এও গণতন্ত্রের ওপর একটা বড় আঘাত।

    ৭, স্বাধীনতার পর থেকে অতীতে রাজ্য কেন্দ্র সম্পর্ক এত খারাপ কখনোই হয়নি যা এই বিজেপি সরকারের জমানায় হয়েছে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী আচরণই দায়ী।

    মমতা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় লিখেছেন, বিজেপি চাইছে অ-বিজেপি দলগুলি যাতে তার স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারে। বলা ভালো বিজেপি চাইছে একদেশ এক পার্টি শাসন ব্যবস্থা। এর বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। তাঁর কথায়, আমরা চাইছি অবিলম্বে একই ধরনের মানসিকতার দলগুলি এক জায়গায় এসে পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরি করুন।

    রাত পোহালেই ভোট, তার আগেই হঠাৎ জাতীয় স্তরে এই জোট বাধার বার্তা কেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ঢিলে দুই পাখি মারছেন, বিজেপিকে তিনি বার্তা দিচ্ছেন তিনি বড় ম্যাচের আগে জয় নিশ্চিত বুঝে একধাপ এগিয়ে খেলছেন, অন্য দিকে কেন্দ্রের সরকারের পাঁজর কাঁপাতে আগামী দিনে যে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে উঠতে পারে তাঁর উৎসাহেই, সে কথাটা আগেভাগেই জানিয়ে রাখছেন তিনি, যাতে বিজেপি বিরোধিতার হাওয়াটা ছড়িয়ে দেওয়া যায় সুকৌশলে।

    Published by:Arka Deb
    First published:

    লেটেস্ট খবর