আমফান থেকে আব্বাস, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় গড়রক্ষায় যা বললেন মমতা...

আমফান থেকে আব্বাস, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় গড়রক্ষায় যা বললেন মমতা...

কুলপিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া

প্রার্থী বাছাইয়ের কারণ তুলে ধরলেন, অস্ত্র করলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর তৎপরতাকেই। একই সঙ্গে বিজেপিকে বিঁধলেন মেরুকরণ নিয়ে।

  • Share this:

    #কুলপি: ৩১ ঘুঁটির খেলা। তাঁর সবটাই ছিল হাতের মুঠোয়। শুধু আমফান আসায় পায়ের তলার মাটিটা সরে গিয়েছে। এই অবস্থায় ভোটযুদ্ধে গড়রক্ষায় মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়া সভা করলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায়। প্রার্থী বাছাইয়ের কারণ তুলে ধরলেন, অস্ত্র করলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর তৎপরতাকেই। একই সঙ্গে বিজেপিকে বিঁধলেন মেরুকরণ নিয়ে।

    লোকসভা ভোটের সময়ে গেরুয়া ঝড়েও অটুট ছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় ঘাসফুলের অস্তিত্ব। ৩১টি আসনের ৩১ টিতেই  লিড ছিল তৃণমূলের। প্রথম দিন থেকেই দুর্ভেদ্য এই মাটিতে পা রেখে মমতা তাই শুরুতেই বললেন,  "দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা তৃণমূলের জন্মদাত্রী মা"। কুলপির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমফান নিয়ে ক্ষোভ প্রশমনের উদ্দেশ্যে বলেন, " আমফানে আমরা ২০ লক্ষ ঘরবাড়ি করে দিয়েছি। কেউ যদি এমন থাকেন টাকা পাননি, তাঁরা টাকা পাবেন। আমফানে গোটা কলকাতা শহরও বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। আমফান হোক বা ফণী, এমনকি সুনামিতেও আমি সাহায্য করেছি। রেলমন্ত্রী হিসেবে আয়লাতে আমি ছুটে এসেছিলাম।  নবান্নে বসে যদি সেদিন পাহাড়া না দিতাম তাহলে কী হত, কত লোক মারা যেত!"

    মমতা এদিনও ভোট প্রার্থনা করেন নিজের নামে, বলেন প্রার্থীকে পছন্দ অপছন্দ দুইই হতে পারে, কিন্তু ভোটটা তাঁকে দেখে দিতে। তাঁর ব্যখ্যায়, "বাংলা বাংলার হাতে থাকবে না বাংলার বাইরে যাবে তা ঠিক করার নির্বাচন একটা। আমি একা সরকার গড়তে পারব না। একে একে ২০০ পেতে হবে আমায়।"

    রায়দিঘিতে মমতা ইতিমধ্যেই জানিয়ে এসেছেন কেন তিনি দেবশ্রী রায়কে প্রার্থী করেননি। এমনকি এও বলেছেন বিজেপির প্রার্থীও তাঁর থেকে টিকিট চেয়েছিল। টিকিটের দড়িটানাটানি সরিয়ে তাঁর দলের অস্তিত্ব রক্ষায় মমতার অস্ত্র তাঁর উন্নয়ন মডেল। বিজেপি যখন ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলছে. মমতার টিপ্পনী, "ওরা  ব্যাঙ্কের সুদের হার ফের কমিয়ে দিয়েছিল, হঠাৎ ভোটের মুখে স্থগিত রেখেছে। গ্যাসের দাম দুই হাজার টাকা করবে। দাঙ্গা করে মানুষের দাম কমিয়েছে।"

    ক্রমেই এল আব্বাস সিদ্দিকির প্রসঙ্গ। অতীতে এই নিয়ে মুখ খুললেও আজ প্রথমবার নাম না করেও  এত তীব্রভাবে আক্রমণ করলেন তিনি। মমতা বিলক্ষণ জানেন এই দুই চব্বিশ পরগণাতেই আব্বাসের মূল লড়াই। তাই মমতার রণহুঙ্কার, "সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গে ডাকাত এসেছে। সংখ্যালঘুর ভোট হলে বিজেপির সুবিধে। এই করে বিহারে হারিয়েছে। বাংলায় হারাতে দেবো না। সংখ্যালঘু ভাইয়েদের বলব কসম খেয়ে বলুন এদের একটিও ভোট দেবেন না।"

    বিজেপি এবার বঙ্গভোটে বহু জায়গাতেই মেরুকরণের আশ্রয় নিয়েছে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলকে মিনি পাকিস্তান বলেছেন। উত্তর ফিরিয়ে মমতা বললেন, এরা  হিন্দু মুসলমান ভাগ করতে চাইছে। আমাদের বাংলার সংস্ক‌ৃতিতে আমরা হিন্দু মুসলমান একসঙ্গে মিলেমিশে থাকি। আমরা চা খাই একে অন্যের বাড়ি, আমরা দুর্গাপূজা করি একসঙ্গে, ইদ পালন করি এক সঙ্গে। এল নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ। মমতার দাবি, এক মুসলিম পরিবারই আশ্রয় দিয়েছে তাঁর দলের আহত কর্মী রবীন মান্নার স্ত্রীকে।

    দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ঝোড়ো সভায় মমতার শেষ হাতিয়ার ছিল নৈতিকতা, মূল্যবোধ। মমতা বললেন," বিজেপিকে ভোট দেওয়া অধঃপতন। ওরা আসলে বাংলাকে শেষ করে দেবে। "মমতার সভায় কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতোই, অবশ্য ভোটারের মন বড় বালাই, তারা কী ভাবছেন জানা যাবে ২ মে-তেই।

    Published by:Arka Deb
    First published: