Mamata Banerjee: উঠল নিষেধাজ্ঞা, 'স্ট্রিটফাইটারের' মুখে পলাশির গল্প, চোখে 'ন্যায়বিচারের' প্রত্যাশা

Mamata Banerjee: উঠল নিষেধাজ্ঞা, 'স্ট্রিটফাইটারের' মুখে পলাশির গল্প, চোখে 'ন্যায়বিচারের' প্রত্যাশা

বারাসাতের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া।

কথায় কথায় বাংলার এই ভোটযুদ্ধকে পলাশির সঙ্গে তুলনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Share this:

    #বারাসাত: ২৪ ঘণ্টা প্রচার করতে পারেননি কমিশনের নিষেধাজ্ঞা। তারও আগে ৭২ ঘণ্টার জন্য শীতলকুচিতে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রচারের নিষেধাচজ্ঞা উঠতে, মুখ খুলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার প্রথমে ন্যায়-অন্যায় বিচারের ভার  আম জনতার হাতে ছে‌ড়ে দিলেন।  অন্য দিনগুলির উত্তেজনা নেই চেহারায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেমে থেমে প্রশ্ন রাখলেন,  আমাকে সর্বতো ভাবে আটকানোর প্রচেষ্টা চলছে কেন? কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন প্রশ্ন রেখে, অর্থাৎ এই প্রশ্নের উত্তর  খোঁজার ভারও তিনি ছাড়লেন উপচে পড়া সভায় উপস্থিত আমজনতার উপর। কথায় কথায় বাংলার এই ভোটযুদ্ধকে পলাশির সঙ্গে তুলনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেকে তুলে ধরলেন একজন স্ট্রিটফাইটার হিসেবে।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, "রাঘববোয়াল থেকে চুনোপুটি, ভারতসরকারের যত এজেন্সি সব ব্যবহার করে বাংলা দখলের অশুভ প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাকে গুজরাট করতে দেবো না। আমাকে আটকানোর চেষ্টা করলে লাভ নেই। আঘাত করলে প্রত্যাঘ্যাত করতে পারি।" আরও একবার জনতার উদ্দেশে ধেয়ে এল প্রশ্ন, "আমাকে এত ভায় পাচ্ছে কেন ওরা? এবার অবশ্য উত্তর ফেরালেন নিজেই। বললেন, "তোমাদের কাছে লোকলস্কর আছে, টাকা পয়সা আছে। ভারত সরকারের এজেন্সি নিয়ে নেমেছো। আমাকে এত ভয় পাচ্ছো কারণ একটাই।"

    কারণ হিসেবে উঠে এল পলাশির গল্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে থাকেন, "স্বামী বিবেকানন্দ একবার বেনারস থেকে ফিরছিলেন। তাঁর এক ইংরেজ বন্ধুকে তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের কাছে লোকলস্কর অস্ত্রশস্ত্র ছিল, তবু পলাশিরর যুদ্ধ জিততে পারল না কেন? ওই ইংরেজ বন্ধু তাঁকে পাল্টা বলেন,  আপানাদের সব ছিল কিন্তু নেতা ব্যাটেলফিল্ডে ছিল না।" মমতার ব্যখ্যা, আমি ব্যাটলগ্রাউন্ডে থেকে লড়াই করি। সেই কারণেই আক্রমণ-বোঝাতে চাইলেন তিনি। নিজেকে বারংবার তুলে ধরলেন স্ট্রিটফাইটার হিসেবে।

    রাত পোহালেই উঠছে আরও এক নিষেধাজ্ঞা। শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি। বিজেপি তার আগে বারংবার অভিযোগ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চারজনের নাম বললেও রাজবংশী যুবকের কথা বলেননি। মমতা সেই বার্তাকে নস্যাৎ করে বললেন, সবার কথা বলেছি। আমার দলের লোক মারা গেলেও আমার  কষ্ট হবে, অন্য দলের লোকের মৃত্যুতেও আমার কষ্ট হবে।।

    কথায় কথায় এল এনআরসি এবং অমিত শাহের প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, "আজ লেবংয়ে গিয়ে বলছে এনআরসি-র কথা বলিনি, এনআরসি করেছে কি করেনি. ১৪ লক্ষ লোককে নাগরিকত্ব থেকে কারা বাদ দিল!"

    ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা উঠতে মমতাকে পাওয়া গেল স্বমহিমায়, আরও তীক্ষ্ণ হল অভিমুখ। আগামিকাল তাঁর শীতলকুচি যাত্রা নতুন করে রাজনৈতিক তরজার জন্ম দেবে নিশ্চিত। মমতা প্রস্তুত হচ্ছেন আঘাত এবং প্রত্যাঘাতের জন্য।

    Published by:Arka Deb
    First published: