• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • MAMATA BANERJEE PRAISES DILIP GHOSH SHOWED INDIFFERENCE ON SUVENDU ADHIKARI BJP AT A FIX AKD

Mamata Banerjee vs Suvendu Adhikari|| দিলীপে আগ্রহ, শুভেন্দুতে অনীহা || বিজেপিকে মহা দোটানায় ফেললেন মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্তুতি পেলেন দিলীপ, জল্পনা চরমে

Mamata Banerjee vs Suvendu Adhikari|| সৌজন্যের কারণটা কী? সবটাই আচমকা? নাকি বরবরের মত এই আমন্ত্রণ আর প্রশংসার আড়ালেও মমতার পুরনো সুচতুর রাজনীতির খেলা?

  • Share this:

#কলকাতা: মমতা-দিলীপ (Mamata Banerjee-Dilip Ghosh) রসায়নে বঙ্গ বিজেপি আবার দোটানায়। আচমকাই দিলীপ ঘোষের মর্নিং ওয়াক আর শরীরচর্চা নিয়ে প্রশংসা করলেন মমতা। রাজভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের ফাঁকে নাকি একান্তে দিলীপকে নবান্নে চা খেতে আসার আমন্ত্রন জানিয়েছেন তিনি। এমনকী, নিজের বাড়িতে কালীপুজোয় আগাম আমন্ত্রণও সেরে ফেলেছেন মমতা। অথচ পুরনো সঙ্গী শুভেন্দুর দিকে ফিরেও তাকাননি মমতা। রাজভবনের এই ছবিটাকে এখন নানা দিক থেকে মেলাতে চাইছে বিজেপি ও রাজনৈতিক মহল। এ হেন সৌজন্যের কারণটা কী? সবটাই আচমকা? নাকি বরবরের মত এই আমন্ত্রণ আর প্রশংসার আড়ালেও মমতার পুরনো সুচতুর রাজনীতির খেলা?

রাজনৈতিক মহলের মতে, বরবরই দিলীপ সম্পর্কে নরম মমতা। আর, উল্টোটাও একই রকম। মমতার সমালোচনা করলেও ব্যক্তি মমতা, নেত্রী মমতাকে নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যই অবিমিশ্র শ্রদ্ধাই প্রকাশ করেছেন দিলীপ। আবার রাজনৈতিক শত্রুতা দূরে সরিয়ে বাইপাসের ধারে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ দিলীপকে নিজে ফোন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন মমতা। দিল্লিতে এইমসে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছিলেন মমতা।

মাঠে ময়দানে রাজ্যের লড়াকু নেতা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে যারা বিধানসভার অলিন্দে খড়্গপুরের বিধায়ক হিসাবে ও বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে দেখেছেন, তাঁরা জানেন, পরিষদীয় দলের নেতা থাকাকালীন বিধানসভার অধিবেশনে মমতার সঙ্গে বাকবিতন্ডায় কখনও জড়াননি দিলীপ। রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার মেনে, বিরোধী দল হিসাবে যে ভূমিকা পালন করেছিল দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন বিজেপি তাতে অনেক সময় বিরোধী হয়েও প্রধান বিরোধীদল বাম - কংগ্রেসের এর সঙ্গে এক সাথে পা মেলায়নি তারা। আর, তাতে আখেরে লাভ হয়েছে শাসক দলেরই।

বিরোধীদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে থেকে শুরু করে শাসক বিরোধী একাধিক ইস্যুতে বাজেট অধিবেশনে মমতাকে বয়কট করা, প্রতিবাদে ওয়াক আউট করা বা অধিবেশন বয়কট করে বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের বাইরে  মক পার্লামেন্ট বসিয়ে সমান্তরাল অধিবেশন করার মতো কর্মসূচি এড়িয়ে বিধানসভায় হাউসে থেকেই বাজেট বক্তৃতায় অংশ নিয়েছিল বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই বাম কংগ্রেসের বিরোধিতাকে খাটো করে দেখানো ও বিরোধী শূন্য বিধানসভায় বাজেট পেশের মত ঘটনা থেকে মুখরক্ষা করতে শাসকদলকে ঘুরিয়ে সাহায্যই করেছিলেন দিলীপ। যদিও, ঘুুরপথে তৃণমূলকে সহযোগিতার এই ব্যখ্যা সেদিনও সঙ্গত কারণে মানেননি দিলীপ। তাঁর ব্যখ্যা ছিল, বিধানসভায় বিজেপি নিতান্তই ছোট দল। প্রধান বিরোধী দল বাম - কং। ফলে, তাদের ভূমিকাই প্রধান। আর বিজেপি জাতীয় দল। জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় কংগ্রেস বা বামেদের সঙ্গে চলা বিজেপির পক্ষে সম্ভব নয়।

আজ যখন সেই দিলীপ ঘোষকে নিয়ে এহেন মন্তব্য করলেন মমতা, ঘটনাচক্রে, তখন শিয়রে বিধানসভার ৫টি আসনে উপনির্বাচন নিয়ে 'বিরোধিতা' করছে বিজেপি। আর, আত্মবিশ্বাস দেখালেও কিছুটা হলেও তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল। পরিস্থিতি সামলাতে,  দিল্লি গিয়ে নিজস্ব স্টাইলে ব্যাট করে এলেও, মমতার ছ'মাসের মেয়াদ শেষের আগে (পুজোর আগে) রাজ্যে যে কোনও মূল্যে উপনির্বাচন আটকাতে মরিয়া শুভেন্দুর বিজেপি৷ কারণ, নির্বাচন কমিশনের খাতায় এখনও বিধায়ক হবার যোগ্যতামান টপকাতে পারেননি। ৪ নভেম্বর ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হবার আগে তাই এই উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার জিতে আসাটা ভীষণ জরুরি।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মমতাকে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন, মমতার প্রতিটি পদক্ষেপই অত্যন্ত সুচিন্তিত ও কুশলী। ফলে, দিলীপকে নিয়ে মমতার এই বার্তায় এসব অঙ্কের খেলাকে অস্বীকার করা যায় না।

কিন্তু  এ কথাও মনে রাখতে হবে,  দিন বদলেছে, রাজনৈতিক কারনেই দিলীপ ঘোষের এই অবস্থান ও তার দলীয় রাজনীতি মমতার জন্য সেদিন অনুকূল ছিল। দিলীপ সম্পর্কে মমতার 'নরম' মনোভাবের কারনও সেটাই। আর, এখন পরিস্থিতি একেবারে উল্টো। বিধানসভায় বাম - কং নিশ্চিহ্ন। প্রধান ও একমাত্র প্রতিপক্ষ বিজেপি। যে পরিষদীয় দল আড়ে বহরে আগের চেয়ে সংখ্যায় ১০ গুণেরও বেশি। পরিষদীয় দলের নেতার নাম শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে যার হাতে পরাজিত হতে হয়েছে মমতাকে।

ফলে, দিলীপের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বিজেপির অন্দরে শুভেন্দু -দিলীপ গোষ্ঠী রাজনীতির নীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে, কতটা ফায়দা তুলতে পারেন মমতা সেটাই এখন দেখার।

Published by:Arka Deb
First published: