প্রাণহানি প্রায় শূন্য, ইয়াস সামলে তিরিশ ঘণ্টা পর নবান্ন ছাড়লেন মমতা

নবান্নের কন্ট্রোল রুমে মুখ্যমন্ত্রী৷

গতকাল সকালে নবান্নে ঢোকার পরই বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ইয়াস (Cyclone Yaas) মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশদে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)।

  • Share this:

#কলকাতা: মঙ্গলবার সকাল এগারোটায় নবান্নে ঢুকেছিলেন৷ বুধবার যখন নবান্ন ছাড়লেন, তখন পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় তিরিশ ঘণ্টা৷ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে ঝড় আছড়ে পড়ার পর ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজের প্রাথমিক নির্দেশ দিয়ে তবেই নবান্ন ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নবান্নে যতক্ষণ ছিলেন, প্রায় প্রতি মুহূর্তেই ইয়াসের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন মমতা, আলোচনা করেছেন আধিকারিকদের সঙ্গে৷ মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের এই তৎপরতার ফলও মিলেছে হাতেনাতে৷ ইয়াসের দুর্যোগে এ দিন রাজ্যে প্রাণহানির ঘটনা নেই বললেই চলে৷ পূর্ব মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগণায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে যা স্বস্তি দিচ্ছে প্রশাসনকে৷ কারণ, করোনা অতিমারির মধ্যেই ইয়াসের মোকাবিলা কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছিল রাজ্য সরকারের সামনে৷

গতকাল সকালে নবান্নে ঢোকার পরই বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ইয়াস মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশদে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নেই বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর কন্ট্রোল রুম খুলেছিল৷ দুপুরের দিকে সেখানে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানে গিয়েও আরও এক দফা ঝড়ের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন তিনি৷ এর পর দফায় দফায় সাংবাদিক বৈঠক করে ক্রমাগত ইয়াস নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতি ও উপকূলবর্তী জেলাগুলির পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য, পরিসংখ্যান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যে জেলাগুলিতে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি ছিল, প্রায় প্রতিনিয়ত জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের ফোন করে কত মানুষকে নিরাপদে সরানো হল সেই খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

এরই মধ্যে সন্ধের দিকে ইয়াস মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নবান্নে আসেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷ তাঁকে নিয়ে প্রথমে কন্ট্রোল রুমে যান মমতা৷ এর পর নবান্নের ১৪ তলায় নিজের ঘরেই প্রায় ৪০ মিনিট রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি৷ রাজ্যপাল নবান্ন ছাড়ার পর ফের কন্ট্রোল রুমে যান মুখ্যমন্ত্রী৷

ততক্ষণে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছিল৷ ফলে প্রশাসনিক আধিকারিকদের থেকে কোথায় জলস্তর কতটা বাড়ল, সেই খবর নিতে শুরু করেন মমতা৷ গভীর রাত পর্যন্ত আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের কর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রস্তুতিতে যাতে কোথাও কোনও ফাঁক না থাকতে, বার বার সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷

এ দিন সকাল ৯.১৫ নাগাদ ওড়িশার ধামরায় স্থলভূমিতে আছড়ে পড়ে ইয়াস৷ তার আগে ফের একবার কন্ট্রোল রুমে গিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এর পর ফের সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের ঘরে চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার পর যতক্ষণ ঝড়ের তাণ্ডব লেছে, আধিকারিকদের থেকে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিয়েছেন তিনি৷ ঝড়ের তাণ্ডব থামার পর বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে বৈঠক করেন তিনি৷ প্রাথমিক ভাবে কোন এলাকায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেনে নেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ পাঠাতে হবে, সেই নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তার পর আরও একবার সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি৷ বেলা ৪.১৫ নাগাদ নবান্ন ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে নবান্ন ছাড়ার আগেও তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে উদ্বেগ৷ কারণ এ দিন রাতেই ফের ভরা কোটালের কারণে সমুদ্র ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা৷

আগামী শুক্রবার ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকাগুলি আকাশপথে পরিদর্শন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ হিঙ্গলগঞ্জ, সাগর এবং দিঘায় রিভিউ মিটিং-ও করার কথা রয়েছে তাঁর৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত খতিয়ান পেতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে৷ তবে রাজ্য প্রশাসনের স্বস্তি, প্রকৃতির রোষে বাড়ি, ঘর, চাষ জমি থেকে শুরু করে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলেও এ দিন দুর্যোগে প্রাণহানি কার্যত হয়নি বললেই চলে৷ একমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে প্রশাসনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে মাছ ধরতে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে৷ ইয়াসের মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তার প্রশংসা সবমহল থেকেই করা হয়েছে৷ এমন কি, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও ইয়াসের প্রস্তুতিতে রাজ্যের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন৷

Somraj Bandopadhyay
Published by:Debamoy Ghosh
First published: