সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা

সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা

  • Share this:

    #কলকাতা: জোট। নাকি পাশে থাকার বার্তা? বিজেপিকে রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তাকে বিকৃতির অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয় বিধানসভা। আজ বিধানসভায় সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বৈঠকে রয়েছেন সুজন চক্রবর্তী, অশোক ভট্টাচার্য ও রবীন দেব ৷ এদিন বিধানসভায় এসে সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে নিজের ঘরে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী ৷

    এদিন বিধানসভায় এসে সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে নিজের ঘরে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও কিছুই জানা যায়নি ৷ মুখ্যমন্ত্রীকে একগুচ্ছ অভিযোগ সিপিআইএমের ৷ বাম কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ অভিযোগ ৷ রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ সিপিএম নেতাদের ৷ রাজারহাটে জ্যোতি বসু রিসার্চ সেন্টারের জমি জটও ছিল এই আলোচনার বিষয় ৷ তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিশদে আলোচনা হয় বাম নেতাদের ৷ প্রাপ্য টাকা পাচ্ছে না শিলিগুড়ি পুরসভা ৷ সে বিষয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেন বাম নেতারা ৷

    বাম-কংগ্রেসকে সঙ্গে চান মমতা। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাশে চান। বিজেপির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াইয়ে সামিল হোন বলে বাম-কংগ্রেসকে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'সংবিধানটাই না বদলে দেয় বিজেপি'। এটা নিয়েই আমার ভয় বলেও মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই বক্তব্যকে নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক ৷


    জোট। নাকি পাশে থাকার বার্তা? বিজেপিকে রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তাকে বিকৃতির অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম বিধানসভায়। বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ শাসক দলের। পাল্টা সুজন-মান্নানদের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ। স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, রক্ষীদের সঙ্গে সুজনের ধাক্কাধাক্কি। শেষে বাম-কংগ্রেস বিধায়কদের ওয়াকআউট। ‘জোট’ শব্দে বৃহস্পতিবার উত্তাল হল বিধানসভা।

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বুধবার বিজেপিকে রুখতে সিপিএম-কংগ্রেসকে পাশে চেয়ে বার্তা দিয়েচিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সুজন-মান্নানদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপি ভারতের সংবিধান বদলে দিতে পারে বলে আমার আশঙ্কা। কংগ্রেস-সিপিএম, আপনারা আমার বিরোধিতা করতে পারেন। কিন্তু, আমি বিশ্বাস করি, কংগ্রেস আর যাই হোক দেশ ভাঙবে না। সিপিএমও ভাঙবে না। তৃণমূলও কখনও দেশ ভাঙবে না। বিজেপির বিরোধিতায় কংগ্রেস নেতৃত্বকে আগেই আলোচনার মাধ্যমে এগোনোর কথা বলেছিলাম। মান্নান ভাই এবং সুজনবাবুকে বলছি, আসুন একসঙ্গে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তাকে খারিজ করে তৃণমূলকে ডুবন্ত জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম টুইট করেন, মমতার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ বাঁচানোর দায়িত্ব সিপিএমের নয়। বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াইয়েক নৈতিক অধিকারও নেই।চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিশ্লেষণ পেশ করে শাসক দল। পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কথা বলেলনি। ২৩টি দলের জোটের কথা বলেছিলেন। সংবাদমাধ্যম ও বাম-কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করছে।

    তাপস রায়ের এই বক্তব্যের পালটা সুজন চক্রবর্তী বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরের বিশ্লেষণ সভাকক্ষে এভাবে দেওয়া যায় না। এটা পয়েন্ট অফ ইনফরমেশন হতে পারে না, স্পিকার পক্ষপাতিত্ব করছেন।

    এরপরই শুরু শাসক-বিরোধী বিধায়কদের বচসা। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বাম-কংগ্রেস বিধায়করা। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তেড়ে যান সুজন চক্রবর্তী। স্পিকারের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও তাঁর ধস্তাধস্তিও হয়। স্পিকারের বিরুদ্ধে শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও।

    বিজেপির পাখির চোখ একুশের বিধানসভা। আর আগ্রাসী গেরুয়া শিবিরকে রুখতে বিরোধীদের পাশে চান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর সেই রাজনৈতিক বার্তাকেই অস্ত্র করে শাসক দলকে কোনঠাসা করার চেষ্টায় সুজন-মান্নানরা।

    First published:

    লেটেস্ট খবর