হারের আশঙ্কায় নন্দীগ্রামের মাটিতে 'নাটক' মমতার! চক্রান্তের অভিযোগ ওড়াল বিজেপি

হারের আশঙ্কায় নন্দীগ্রামের মাটিতে 'নাটক' মমতার! চক্রান্তের অভিযোগ ওড়াল বিজেপি

আহত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল নেত্রীর মাথায়, কপালে এবং পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। তাই প্রচার মাঝপথে বন্ধ রেখেই কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে তাঁকে। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।

  • Share this:

    #কলকাতা: প্রচারে গিয়ে নন্দীগ্রামে গুরুতর আহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেয়াপাড়ায় একটি মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরনোর সময় তাঁকে চার-পাঁচজন ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। তিনি গাড়িতে ওঠার সময় আচমকাই গাড়ির দরজা ঠেলে দিয়ে পালিয়ে যায় কয়েকজন। তৃণমূল নেত্রীর মাথায়, কপালে এবং পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। তাই প্রচার মাঝপথে বন্ধ রেখেই কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে তাঁকে। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।

    অন্যদিকে, এই ঘটনাতে পুরোপুরি 'নাটক' বলে ব্যাখ্যা করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস। বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের কথায়, 'নিজের ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে পালিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চারিদিক থেকে তাঁকে ব্লক করে রাখা হয়। সেই সমস্ত পুলিশকে সাসপেন্ড করা উচিত। চারজন আইপিএসকে সাসপেন্ড করা উচিত। উনি পুলিশমন্ত্রী, ভূতে এসে তো ধাক্কা দেয়নি। ওঁর কথা মতো মানুষই ধাক্কা দিয়েছে। আমরা মনে করি, সব সময়ের মতো এখনও উনি মিথ্যা কথা বলে সহানুভূতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নন্দীগ্রামে হারবেন বলে নাটক করছেন মমতা।' বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য, তৃণমূলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করার দাবি করেছেন।

    এ রাজ্যে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র দাবি, 'ওঁর সঙ্গে সাদা পোশাকে বহু পুলিশ থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর মতো নিরাপত্তা নিয়ে বেরোন। পদযাত্রার সময় ১০০ পুলিশ থাকে। স্কুটি চালানোর সময়ও তো কত পুলিশ ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আজ নিরাপত্তা ছিল না, এটা কি মানা যায়? আঘাত পেয়েছেন। অবশ্যই সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু ভোটের আগে এ নিয়ে তিনি রাজনীতি করছেন, মানুষের সহানুভূতি আদায় করছেন। সিবিআই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।'

    কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নানের বক্তব্য, 'এত নিখুঁত অভিনয় করতে পারেন যে, তাঁকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেওয়া উচিত। চারিদিকে এত লোক, এত ক্যামেরা থাকে কোথাও কেউ দেখেনি। চারিদিকে এত নিরাপত্তারক্ষী থাকে, তার পরেও হোঁচট খেয়ে যাবেন? হোঁচটটা খেয়েছে জনরোষের কাছে। নন্দীগ্রামে হেরে যাবেন বলেই এই নাটক করছেন উনি। বাঘের গল্পের মতো সবাইতে বোকা বানাচ্ছেন উনি।' প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, 'ফাঁদ পেতে বেরোতে গিয়ে নিজেই ফাঁদে পড়েছেন মমতা। পুলিশমন্ত্রী বলছেন, পুলিশ ছিল না। পুলিশ না থাকা অবস্থায় হামলা হল! এটা অসম্ভব। এটা নির্বাচনী গিমিক। একটা সমবেদনা তৈরি করা। আর বাংলার পুলিশমন্ত্রী যদি পুলিশ না পান, তা হলে বাংলার সাধারণ মানুষের কী হবে? তাহলে মমতা স্বীকার করুন যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে।'

    এসএসকেএম-এর উডবার্ন ব্লকে রাখার প্রস্তুতি করা হচ্ছে। প্রস্তুতি চলছে ট্রমা কেয়ার সেন্টারেও। চিকিৎসকেরা চলে এসেছেন। প্রাথমিক ভাবে একটি চিকিৎসার পদ্ধতিও ভেবে রাখা হয়েছে। ৬ বিভাগীয় প্রধানকে রাখা হয়েছে মেডিক্যাল বোর্ডে।

    Published by:Raima Chakraborty
    First published:

    লেটেস্ট খবর