Mamata on meeting with Modi: কলাইকুন্ডার বৈঠকে কী হয়েছিল? মুখ খুললেন মমতা, অসৌজন্যের অভিযোগ খারিজ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী৷

মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, দিঘায় যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে তিনিই মুখ্যসচিবকে (Alapan Banerjee) সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) যে ঘরে বৈঠক করছিলেন, সেখানে ঢোকেন৷ প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তাঁরা ঘরে ঢোকেন বলে জানিয়েছেন মমতা৷

  • Share this:

    #কলকাতা: কলাইকুন্ডায় বৈঠক বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাঁর এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যে অভিযোগ করছেন বিজেপি নেতারা৷ মুখ্যমন্ত্রীর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানেই তিনি কলাইকুন্ডায় গিয়েছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পূর্ব নির্ধারিত বৈঠককে কার্যত বিজেপি-র দলীয় বৈঠকে পরিণত করা হয়৷ শুক্রবার কলাইকুন্ডায় কী ঘটেছিল, এ দিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর থেকে তিন বার অনুমতি নিয়েই কলাইকুন্ডা ছাড়েন তিনি৷ মমতার দাবি, রাজ্যের স্বার্থেই তিনি কলাইকুন্ডায় গিয়েছিলেন৷ মমতার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁকে অপমানের চেষ্টা চলছে৷ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোরও অভিযোগ করেছেন তিনি৷

    মমতা এ দিন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী একটা রাজ্যে অবতরণ করেছেন, সেখান থেকে দিল্লি যেতে হবে বলে৷ আমরা তাই সেখানে গিয়ে দেখা করেছিলাম৷ আমরা ভেবেছিলাম বিষয়টা সেখানেই মিটে যাবে৷ কিন্তু বিষয়টা তো সেখানে থামলই না, বরং রাজনীতির ধাপে গিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ সিদ্ধান্ত নিলেন৷ কী ঘটেছিল সেটা সবার জানা দরকার৷ গতকাল রাত থেকেই একের পর এক বিজেপি নেতা ট্যুইট করে আমার, মুখ্যসচিব এবং সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন৷'

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত পরশু দিন তিনি দুর্যোগ কবলিত এলাকায় যাওয়ার কথা ঘোষণা করার পরই প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা জানানো হয়৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের কথা মাথায় রেখেই হিঙ্গলগঞ্জ এবং সাগরের নিজের কর্মসূচি কাঁটছাঁট করে কলাইকুন্ডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷

    মমতা এ দিন অভিযোগ করেন, আগে থেকে সূচি ঠিক করা সত্ত্বেও শুক্রবার সাগর থেকে কলাইকুন্ডা রওনা হওয়ার আগে প্রথমে সাগরে তাঁকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়৷ এর পর কলাইকুন্ডায় তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের আগেও বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়৷ ফলে আকাশেই চক্কর কাটে তাঁর চপার৷ মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি কিছু মনে করেননি৷ এর পর কলাইকুন্ডায় বিমান ঘাঁটিতে গিয়েও তাঁদের একটি ঘরে অপেক্ষা করতে বলা হয়৷ তার পর প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের৷ তখন প্রধানমন্ত্রী সেখানে চলে এসেছেন৷ বার বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মিনিটের জন্য দেখা করতে দেওয়ার অনুরোধ করলেও এসপিজি থেকে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি, এসপিজি জানায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে বলে তাঁর সঙ্গে তখন দেখা করা যাবে না৷

    মমতা এ দিন বলেন, 'প্রথমে ঠিক হয় মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেই বৈঠক হবে৷ পরে জানলাম, বৈঠকে প্রায় গোটা বিজেপি দল রয়েছে এবং আমি একা৷ সৌজন্য এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার কথা ভেবেই তার পরেও গিয়েছি৷' মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই৷ কিন্তু কেন সেখানে বিজেপি বিধায়করা থাকবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা৷

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিঘায় যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে তিনিই মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী যে ঘরে বৈঠক করছিলেন, সেখানে ঢোকেন৷ প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তাঁরা ঘরে ঢোকেন বলে জানিয়েছেন মমতা৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে বলি, আমরা দিঘায় যাবো৷ আবহওয়াও খুব একটা ভাল নয়৷ ফলে ঝুঁকি নিয়েই সাগর থেকে আমরা কলাইকুন্ডায় এসেছি৷ তাই আপনি কিছু মনে না করলে আমরা এখানেই আপনাকে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট দিতে চাই৷ প্রধানমন্ত্রী সেই রিপোর্ট গ্রহণও করেন৷' মমতার দাবি, এর পর প্রধানমন্ত্রীকে বলেই এর পর তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে তিন বার বলি, স্যর আমরা তাহলে আসছি৷'

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার দাবি করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করেন৷ শুক্রবার তাঁর বা রাজ্য সরকারের তরফে কোনও অসৌজন্য দেখানো হয়নি বা প্রোটোকল ভাঙা হয়নি বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন, 'পর পর দু' বার কেন দিল্লিতে সংসদে বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি দেননি৷ আপনার নিজের রাজ্য গুজরাতে গিয়ে কেন বিরোধী দলনেতাকে ঘূর্ণিঝড়ের বৈঠকে ডাকেননি? ওড়িশাতেও কেন ডাকেননি? কেন বাংলায় এলেই বার বার আপনি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন?'

    শুক্রবার রাত থেকেই বিজেপি নেতারা কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর পাশেই মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের জন্য বরাদ্দ দু'টি চেয়ার ফাঁকা রয়েছে৷ মমতা অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁরা যখন ঘরে ঢোকেন তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশে কোনও ফাঁকা চেয়ারই ছিল না৷ মুখ্যমন্ত্রী বরং দাবি করেছেন, সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজের চেয়ারেই বসেছিলেন৷ তিনি এবং মুখ্যসচিব দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন৷ ফলে কোনওরকম অসৌজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দেখানো হয়নি বলে দাবি করেথেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: