নবান্ন সভাঘরেই মাছির উপদ্রব, বৈঠকের মাঝেই বেজায় বিরক্ত মমতা

মাছি তাড়ানোর চেষ্টায় মুথ্যমন্ত্রী৷

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বাতিলের ঘোষণা, ইয়াসের ত্রাণ বণ্টন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ দিন নবান্নে পর্যালোচনা বৈঠক করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)৷

  • Share this:

#কলকাতা: 'এক যে ছিল মাছি...।' এক নয়, সোমবার দুপুরে নবান্ন সভাঘরে ঢুকে পড়েছিল গোটা কয়েক মাছি। তাও আবার বেছে বেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বৈঠক করছেন, ঠিক তখনই সেখানে হানা দিল মাছির দল। সাংবাদিক, সরকারের শীর্ষ কর্তাদের বিব্রত করলে তাও একটা কথা ছিল। বেআক্কেলে মাছির দল সোজা উড়ে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই ভন ভনিয়ে উড়তে শুরু করল। বৈঠকের মাঝে বার বার মাছির উপদ্রবে বেজায় বিরক্ত হন মুখ্যমন্ত্রীও। অন্তত তিন বার জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েই মাছি তাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। শুধু তাই নয়, পোকামাকড় তাড়ানোর মতো বিষয়গুলি ঠিক মতো দেখাশোনা হয়না বলেও ক্ষোভ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়।

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বাতিলের ঘোষণা, ইয়াসের ত্রাণ বণ্টন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ দিন নবান্নে পর্যালোচনা বৈঠক করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রী যখন নিজের বক্তব্য রাখছেন, এমন সময়ই হঠাৎ তাঁর সামনে দিয়ে উড়তে শুরু করে মাছির দল৷ বক্তব্য থামিয়ে বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সবসময় এখানে ভীষণ মাছি ঘোরে৷' এর পর নিজেই জীবাণুনাশক বের করে স্প্রে করতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী৷

কিন্তু তাতেও মাছির উপদ্রব থামেনি৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফের ফিরে আসে তারা৷ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে টেবিলেই তিন চারটি মাছিকে ঘুরতে দেখা যায়৷ মাঝে মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হাত দিয়েও মাছি তাড়াতে থাকেন৷ নবান্ন সভাঘরে উপস্থিত সরকারের শীর্ষ কর্তারাও তখন যারপরনাই অস্বস্তিতে৷ কথা বলতে বলতেই আরও দু' বার ফের জীবাণুনাশক বের করে স্প্রে করেন মমতা৷ এক সময়ে বক্তব্যের মাঝেই জীবাণুনাশক স্প্রে করতে করতে তিনি বলে ওঠেন, 'কী মাছি গুলো কি যাচ্ছে না? এবার দেখলেই আমি এটা দেব৷ '

মুখ্যমন্ত্রীকে তখন জিজ্ঞেস করা হয় পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত স্প্রে করা হবে কি না? যদিও লোক ভর্তি সভাঘরের মধ্যে তা করা ঠিক হবে না বলে প্রস্তাব নাকচ করে দেন মু্খ্যমন্ত্রী৷ জীবানুনাশক স্প্রে করে অবশ্য বাগে আনা যায়নি মাছিদের৷ কেন সভা শুরুর আগেই পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত স্প্রে নবান্ন সভাঘরে দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগে থেকে স্প্রে করে দিয়ে দরজা জানলা বন্ধ করে রাখা উচিত কিছুক্ষণ৷ এগুলো কেউ দেখে না তো৷'

মাছির উপদ্রব সামলেই শেষ পর্যন্ত ভালয় ভালয় শেষ হয় মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক৷ হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সরকারি শীর্ষ কর্তারাও৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published: