'শুধু ভোটের সময় নয়, বসু পরিবারের সঙ্গে ৩৬৫ দিন যোগাযোগ', নেতাজি ভবনে বললেন মমতা

নেতাজিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য মমতার৷

  • Share this:

    #কলকাতা: শুধু ভোটের সময় নয়, তাঁর সঙ্গে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের সবসময় যোগাযোগ থাকে৷ নেতাজি ভবনে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ফলে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নেতাজি স্মরণও যে আসলে রাজনীতির ইস্যু হয়ে উঠেছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল৷

    নেতাজির ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাজি ভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানানোর পর বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'নেতাজি একটা আবেগ৷ তিনি ছিলেন প্রকৃত দেশনায়ক৷ নির্বাচনের আগে একদিন আমি নেতাজি পরিবারের খোঁজ নিই না৷ আমার সঙ্গে তাঁদের ৩৬৫ দিন যোগাযোগ থাকে৷ আমরা বুঝি এই পরিবারটা আমাদের গর্বের৷' নেতাজি ভবনে গিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে তৃণমূল৷ যদিও সেই দাবি মানা হয়নি৷ জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে যে নেতাজি সবাইকে নিয়ে কাজ করেছিলেন, সেকথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কেন্দ্র নেতাজির জন্মদিনকে পরাক্রম দিবস হিসেবে ঘোষণা করলেও তিনি যে তাতে খুশি নন তাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, 'পরাক্রম দিবস বুঝি না৷'

    এর পাশাপাশি নেতাজির প্রতি মোদি সরকার সত্যিই কতটা শ্রদ্ধাশীল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা৷ তিনি বলেন, 'নেতাজির প্রতি এত শ্রদ্ধা থাকলে কেন প্ল্যানিং কমিশনকে তুলে দেওয়া হল? '

    নেতাজির জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কার্যত কেন্দ্র- রাজ্যের টক্কর শুরু হয়েছে৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নেতাজিকে কেন্দ্রকের বাঙালি আবেগকে অস্ত্র করেই রাজনৈতিক সুফল ঘরে তুলতে মরিয়া শাসক- বিরোধী দু' পক্ষ৷ নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে এ দিনই কলকাতায় আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির৷ পাল্টা নেতাজির জন্মদিনকে দেশনায়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার৷ এর পাশাপাসি রাজ্য সরকারের উদ্য়োগে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে  শ্য়ামবাজার থেকে গাঁধি মূর্তি পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি নেতাজির নামে বিশ্ববিদ্যালয় এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের সম্মানে রাজারহাটে সৌধ তৈরির ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেতাজির জন্মদিনের বর্ষব্যাপী উদযাপনের ঘোষণা করা হয়েছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: