২০০৬-২০১৯: রাস্তার আন্দোলনেই মমতা এখনও একই রকম প্রাসঙ্গিক

২০০৬-২০১৯: রাস্তার আন্দোলনেই মমতা এখনও একই রকম প্রাসঙ্গিক
  • Share this:

যে কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করতে পিছপা হন না, বাংলায় বাম দূর্গকে ক্ষমতাচ্যুত করা থেকে সিবিআই অতিসক্রিয়তার কারণে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা, বিরোধী নেত্রী হিসেবে বরাবরই প্রাসঙ্গিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লিখলেন শুভাশিস মৈত্র

রাস্তার লড়াই দিয়েই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনীতি শুরু করেছিলেন। আক্রান্তও হয়েছেন বার বার। কিন্তু রাস্তার রাজনীতিই তাঁকে রাস্তা থেকে রাইটার্সে পৌঁছে দেয় ২০১১ সালে। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন একাধিকবার । বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে তাঁর তৎকালীন প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।

এবার, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটাকেও তিনি রাস্তাতেই নামিয়ে আনলেন।সিবিআইকে বাধা দেওয়া, সিবিআই অফিসারদের থানায় আটক করে রাখা, এই সব কাজে যাঁরা সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন, তাঁদের ভোটে সরকার তৈরি হয় না। বড় অংশের মত হল, ‘দিদির সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া অত সহজ নয়’। হ্যাঁ এই ভাষাতেই তাঁরা বলছেন ও তাঁদের এই ভাষার বার্তা খুবই স্পষ্ট।

রবিবার রাত থেকে রাস্তায় ধর্না শুরু করেছেন মমতা। সেখানেই ক্যাবিনেট বৈঠক করেছেন সোমবার সকালে। এখনও পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ধর্না চলবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

সব নজর ছিল বামেদের ব্রিগেড সমাবেশের দিকেই; কিন্তু তার সমান্তরালে চলছিল অন্য রাজনৈতিক কার্যকলাপ । বেশ কয়েকদিন ধরেই চিটফান্ড তদন্তে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সিবিআই পদক্ষেপের জল্পনাও ছিল তুঙ্গে । যদিও সকালেই কমিশনারকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই রবিবার সন্ধ্যায় সিপির বাসভবনে সিবিআইয়ের হানা, সিবিআই অফিসারদের আটক, দুই তরফের মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ- এই সবকিছুর মধ্যে আবার নতুন করে নিজের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করলেন মমতা ।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে ক্ষমতার অপচয় করার অভিযোগ তুলেছেন মমতা ও একইসঙ্গে যতক্ষণ না পর্যন্ত এই পরিস্থিতির কোনও সঠিক সমাধান হবে, ততক্ষণ তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকবেন জানিয়েছেন তিনি ।

সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় একইভাবে তৎকালীন বাম সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনশনের পথই বেছে নিয়েছিলেন তিনি । কৃষকদের সমর্থনে পথে নেমেছেন। বিরোধী আইডিয়োলজির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ভাষণের জায়গায় তিনি বারংবার প্রত্যক্ষ বিদ্রোহের রাস্তাই বেছে নিয়েছেন ।

তেমনিভাবেই, বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার এই পর্বের লড়াইটা শুরু হয় প্রথম যখন তিনি বলেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্য টাকা দিলে রাজ্য প্রকল্পের নামও দেবে। এর পর তিনি ঘোষণা করলেন আয়ুষ্মাণ ভারতে পশ্চিমবঙ্গ থাকবে না। তাঁর যুক্তি এই রাজ্যে তিনি আয়ুষ্মানের চেয়ে অনেক উন্নত মানের প্রকল্প চালু করেছেন। ভোটের আগে স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অমিত শাহের রথ রুখে দিয়েছেন তিনি। রথযাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি। এর পর ব্রিগেডে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার’ জমায়েত করে মমতা প্রমাণ করেন বিজেপি বিরোধী লড়াইটা তিনি সামনের সারিতে দাঁড়িয়েই করতে চান।

তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার শাসক দলের বিরুদ্ধে সরাসরি গর্জে ওঠার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে, সেটাই আরও একবার প্রকাশ্যে আনলেন মমতা ।

রাজ্যেও একের পর এক বাতিল হয়েছে বিজেপি নেতাদের সভা । বাতিল হয়ে গিয়েছে বিজেপির দীর্ঘ পরিকল্পিত রথযাত্রাও । শেষ পাঁচ বিধানসভা ভোটের ফলও বিজেপির জন্য আনন্দের ছিল না। যেক’টি সমীক্ষা হয়েছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে, গরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে বিজেপি। স্বাভাবিক ভাবেই, পূর্বাঞ্চল এবং বাংলার দিকে নজর বিজেপির। কিন্তু কাজটা সহজ হবে না।

লোকসভা নির্বাচনের আসনসংখ্যা বা সংসদের আসনের সংখ্যা নয়, বরং দেশজুড়ে গেরুয়া বাহিনীর যে একচেটিয়া অবস্থান তৈরি হয়েছে তার পরিবর্তন করতে গেলে এই মুহূর্তে প্রয়োজন একজন দৃঢ় বিরোধী ব্যক্তিত্বের । ব্রিগেডের মঞ্চেও আঞ্চলিক দল নির্বিশেষে প্লুরাজিলমকে আকৃতি দিয়েছিলেন তিনি । একইভাবে সিবিআই ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আরও একবার বিরোধী হিসেবে নিজের প্রাসঙ্গিকতা সারা দেশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ।

আর মাস খানেক বাদে লোকসভা ভোট। মমতার এই রাস্তার লড়াই তাঁকে কোথায় নিয়ে যায়, তা বুঝতে আর একটু সময় চাই। কিন্তু যদি প্রশ্ন ওঠে এই মুহূর্তে দেশের বিজেপি বিরোধী মুখ কে? উত্তরটা সবাই জানেন।

( এই প্রতিবেদনের সমস্ত বক্তব্যই লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত )

First published: 09:10:05 PM Apr 04, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर