রাজ্যপালের মর্যাদা আমরা জানি, একটা বিষয় নিয়ে কতবার কথা বলা যায়? রাজ্যপালের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন মমতার

রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না রাজ্য, জগদীপ ধনখড়ের এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মতে, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও সম্মান দেওয়া হোক ৷’

রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না রাজ্য, জগদীপ ধনখড়ের এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মতে, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও সম্মান দেওয়া হোক ৷’

  • Share this:

    #কলকাতা: ফের প্রকাশ্যে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত ৷ নবান্নের বৈঠক থেকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মতে, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও সম্মান দেওয়া হোক ৷’ এদিন সকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে যে অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল তার জবাবে পাল্টা মমতার প্রশ্ন, ‘রাজ্যপালের মর্যাদা আমরা জানি, একটা বিষয় নিয়ে কতবার কথা বলা যায়?’

    রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না রাজ্য, জগদীপ ধনখড়ের এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ স্পষ্টতই ক্ষোভ চাপতে না পেরে এদিন বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধি ও পদাধিকারীরা বহুবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন ৷ আমরা কি রাজ্যপালের চাকর?’ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের যোগাযোগ না রাখার সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেন, ‘গতকাল রাজ্যপালের সঙ্গে চারবার কথা হয়েছে ফোনে-মেসেজে ৷ রাজ্যপালের মর্যাদা আমরা জানি ৷ রাজ্যপাল বলছেন,আমি চিঠির উত্তর দিই না ৷ তাঁর রাজনৈতিক দলের মতো কথা বলা উচিত নয় ৷ ন্যূনতম সৌজন্য থাকা উচিত রাজ্যপালের ৷’

    এদিন সকাল থেকেই নয়া সংঘাতে রাজ্যপাল ও রাজ্য ৷ বুধবার ভার্চুয়াল বৈঠকে ডাকেন আচার্য। তাতে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাড়া রাজ্যের আর কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই যোগ দেননি। এতে বেজায় ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার, রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ক্ষোভ উগড়ে দেন।

    এরপর পাল্টা জবাব দিতে দেরি না করে দফায় দফায় উচ্চশিক্ষা দফতর, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জবাব দেন ৷ রাজ্য শিক্ষা দফতর ট্যুইটে দাবি করে, রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-বিধি অনুযায়ী রাজ্যপাল সরাসরি উপাচার্যদের বৈঠকে ডাকতে পারেন না। বৈঠক করতে উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু, রাজ্যপাল তা করেননি।

    রাজ্যপাল তথা আচার্য অবশ্য রাজ্যের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘সরকার যে বিধির কথা বলছে, তার কোনও সারবত্তা নেই। কারণ এখনও তা বিধানসভায় পেশ হয়নি। আমার কাছেও আসেনি সই করার জন্য ৷’

    রাজ্যপালকে পাল্টা জবাব শিক্ষামন্ত্রীর ৷ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার যে আইন ও বিধি আছে সেই মতোই কাজ করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী রাজ্যপাল বৈঠক ডাকেননি বলেই উপাচার্যরা সেই বৈঠকে থাকতে পারবেন না বলে তাঁকে জানিয়েছেন।’

    শিক্ষায় রাজনীতি দেখছেন রাজ্যপাল। পাল্টা রাজ্যপালের আচরণে রাজনীতি দেখছে তৃণমূল। অর্থাৎ, করোনার এই আবহেও, ফের আরেক ইস্যু নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত ৷

    Published by:Elina Datta
    First published: