'আমি আর বাঁচব নি...', এটুকুই বলতে পেরেছিলেন যন্ত্রণায় কাতর মইদুল

'আমি আর বাঁচব নি...', এটুকুই বলতে পেরেছিলেন যন্ত্রণায় কাতর মইদুল
গত বৃহস্পতিবার এভাবেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছিলেন মইদুল ইসলাম মিদ্দা৷

  • Share this:

    #কলকাতা: আমি আর বাঁচব নি৷ কোনওক্রমে এই চারটে শব্দে বলতে পেরেছিলেন ৩২ বছরের মইদুল৷ শরীর প্রায় ছেড়ে দিয়েছে, চোখ বন্ধ, জামার সবকটা বোতাম খোলা৷ গোটা শরীর ভিজে জবজবে৷ যন্ত্রণায় কাতর মইদুল বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন, বাঁকুড়ার বাড়িতে স্ত্রী, দুই মেয়ে আর বৃদ্ধা মায়ের কাছে তাঁর আর ফেরা হবে না৷ তাই তাঁকে যখন মিছিলে আসা অন্যান্য বাম কর্মী সমর্থকরা তুলে ধরছেন, তখন কোনওক্রমে এই কথাগুলিই বলেছিলেন মইদুল৷ গত বৃহস্পতিবার ধর্মতলার কাছে পুলিশের মার খেয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়া মইদুলের এই ভিডিওই এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছ৷

    শেষ পর্যন্ত হলও তাই৷ এ দিনের সকালেই মৃত্যু হয় মইদুলের৷

    গত বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে বাঁকুড়া থেকে ট্রেনে চেপে হাওড়ায় পৌঁছেছিলেন মইদুল৷ সেখান থেকে মিছিলের সঙ্গে হেঁটে প্রথমে কলেজ স্কোয়ারে পৌঁছন মইদুল৷ তার পর সেখান থেকে মিছিল করে ধর্মতলার দিকে যান তিনি৷ ধর্মতলার কাছেই পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘর্ষে জড়ান বাম কর্মী- সমর্থকরা৷ ব্যবহার করা হয় জল কামান৷ অভিযোগ, তখনই পুলিশের মারের মুখে মইদুল৷ লাঠি চার্জের জেরে গুরুতর আহত হন তিনি৷ মইদুলের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এবং সিপিএম নেতা ফুয়াদ হালিম দাবি করেছেন, পুলিশের মারে মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লেগে মইদুলের দু'টি কিডনিই কর্মক্ষমতা হারায়৷ তার পর এ দিন সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর৷


    বাঁকুড়ার কোতুলপুরের চোরকল গ্রামের বাসিন্দা মইদুল পেশায় টোটো চালক ছিলেন৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি৷ কোতলপুর ব্লকের গোপীনাথপুরের ডিওয়াইএফআই-এর সম্পাদকও ছিলেন মইদুল৷ সেই কারণেই নবান্ন অভিযানে অংশ নিতে ছুটে এসেছিলেন বাঁকুড়া থেকে৷ মইদুল নিজেও কি আঁচ করতে পেরেছিলেন এত বড় বিপদ অপেক্ষা করে রয়েছে তাঁর জন্য?

    মইদুলের ঘটনা অনেককেই ২০১৩ সালে এরকমই এক বাম ছাত্র আন্দোলনে মৃত এসএফআই-এর সদস্য সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যুর ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে৷ মইদুলের ঘটনাও রাজনীতির নিত্যনতুন চাপানউতোরে একসময় চাপা পড়ে যাবে৷ শুধু থেকে যাবে তাঁর কাতর আর্তি- 'আমি আর বাঁচব নি৷'

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: