corona virus btn
corona virus btn
Loading

EXCLUSIVE: মিলছে না মাধ্যমিকের ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট হওয়া নম্বর এবং আসল মার্কশিট ! সাইবার ক্রাইমের সাহায্য চাইল পর্ষদ

EXCLUSIVE: মিলছে না মাধ্যমিকের ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট হওয়া নম্বর এবং আসল মার্কশিট ! সাইবার ক্রাইমের সাহায্য চাইল পর্ষদ

ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করা মোট নম্বর এবং বিষয়ভিত্তিক নম্বর একরকম। আবার স্কুল থেকে যখন মার্কশিট পাচ্ছে তখন বিষয়ভিত্তিক এবং মোট নম্বর অন্যরকম!

  • Share this:

#কলকাতা: মাধ্যমিকের নম্বর এক এক জায়গায় এক এক রকম! ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করা মোট নম্বর এবং বিষয়ভিত্তিক নম্বর একরকম। আবার স্কুল থেকে যখন মার্কশিট পাচ্ছে তখন বিষয়ভিত্তিক এবং মোট নম্বর অন্যরকম। এরকমই বেশ কিছু অভিযোগ মধ্যশিক্ষা পর্ষদে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে পর্ষদের আধিকারিকরা। কী করে এমনটা সম্ভব তার সরেজমিনে তদন্ত জন্যই এবার সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা নিতে চলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

এবছর মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের দিনে ছাত্রছাত্রীরা শুধুমাত্র ভার্চুয়ালি অর্থাৎ বিভিন্ন ওয়েবসাইট মারফত ফলাফল জানতে পেরেছেন। কিন্তু তার এক সপ্তাহ বাদে মাধ্যমিকের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট পেয়েছেন । সেই মার্কশিট পাওয়ার পরপরই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সদর দফতরে এমনটাই অভিযোগ এসে পৌঁছচ্ছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা  গিয়েছে ওয়েবসাইট থেকে নম্বর প্রিন্ট করে যে নম্বর সেই ছাত্র বা ছাত্রী পেয়েছেন এবং স্কুল থেকে মার্কশিট পাচ্ছেন সেই নম্বরের সঙ্গে কোনও মিল নেই। যদিও পর্ষদের ডেটাবেজ থেকে অবশ্য দেখা যাচ্ছে আসল মার্কশিটে সেই ছাত্র বা ছাত্রী যে নম্বর পেয়েছে সেই নম্বরটি সঠিক নম্বর।  এই ধরনের কেন অভিযোগ আসছে, তারই সরেজমিনে তদন্ত চাইছে পর্ষদ। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন " আমরা এধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ কয়েকটি জেলা থেকে পেয়েছি। কেন ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করা রেজাল্ট নম্বর আলাদা হচ্ছে তার তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করি। তাই আমরা সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা নিচ্ছি। প্রয়োজনে সিআইডির ও সহযোগিতা নিতে পারি।"

এবছর মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হয়েছে গত ১৫ জুলাই। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির জন্য এবছর মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের দিন ছাত্রছাত্রীদের হাতে মার্কশিট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। তার জন্যই এবার ভার্চুয়ালি মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ফল প্রকাশের এক সপ্তাহ বাদেই অর্থাৎ ২২ জুলাই থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে মার্কশিট ও সার্টিফিকেট পৌঁছানো হয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে এবার একাধিক ওয়েবসাইট মারফত ছাত্রছাত্রীদের কাছে ফলাফল জানানোর প্রক্রিয়া হয়। এবছর পর্ষদের তরফে ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনলাইন মারফত ফলাফল জানানোর জন্য একদিকে যেমন বিষয়ভিত্তিক নম্বর দেওয়া হয়েছিল তেমনি মোট নম্বর দেওয়া হয়। পর্ষদের তরফে ছাত্র-ছাত্রীদের সেই রেজাল্টের প্রিন্ট আউট নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এবারের ছাত্র-ছাত্রীদের রেজাল্ট পেতেই ঘটে গেছে অবাক কান্ড।

পর্ষদ সূত্রের খবর বেশ কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীদের রেজাল্টের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ওয়েবসাইট থেকে তারা যেন নম্বর সম্বলিত রেজাল্টের প্রিন্ট আউট নিচ্ছেন তার সঙ্গে আসল মার্কশিটের নম্বরের কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। পর্ষদের কাছে এই অভিযোগ আসার পর যে যে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ এসেছে পর্ষদের তরফে নির্দিষ্টভাবে সেই রেজাল্টগুলি খোঁজার চেষ্টা হয়। পর্ষদ সূত্রের খবর, সব ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা যে আসল মার্কশিটটি পেয়েছেন স্কুল থেকে এসেই আসল মার্কশিটের নম্বরটি পর্ষদের ডেটাবেস বা তথ্য  সম্ভারে রয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে যারা অভিযোগ জানিয়েছেন তাদের আসল মার্কশিট এর নম্বরকেই বলা হয়েছে সঠিক নম্বর। কিন্তু ওয়েবসাইটে পাওয়া নম্বর কি করে পৃথক হল তা নিয়ে এবার তদন্ত করতে চাইছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

সম্প্রতি গত দু-তিন বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সোশ্যাল সাইটে বেরিয়ে যাওয়ার পর পর পর্ষদের তরফেও তদন্ত করা হয়। এমন কি সেই তদন্তের জল সিআইডি পর্যন্ত গড়ায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে প্রশ্নপত্র গুলি সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়েছে তা  নকল, তবুও প্রশ্নপত্র কাণ্ডে কিছু ক্ষেত্রে সিআইডির আধিকারিকরা বেশ কয়েকজনকে আটক তথা গ্রেফতার করেছিল। আর তাই এবার ঝুঁকি নিতে চাইছে না মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে ওয়েবসাইটে পাওয়া রেজাল্ট থেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন বা কারা কিভাবে সেই নম্বর বদলে ফেলেছেন তারই তদন্তের জন্য এবার সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা চাইছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এ প্রসঙ্গে পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন " আমাদের কাছে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা তদন্তের কথা ভেবেছি।"

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: August 6, 2020, 6:36 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर