পরীক্ষা হলে কান ঝালাপালা, কলেজের সামনেই সভামঞ্চ, তারস্বরে বাজল মাইক

পরীক্ষা হলে কান ঝালাপালা, কলেজের সামনেই সভামঞ্চ, তারস্বরে বাজল মাইক

কলেজের সামনেই বিজেপির সভা, অনার্সের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাহলে কান ঝালাপালা

  • Share this:

Venkateswar Lahiri

#কলকাতা: কলেজের সামনেই বিজেপির সভা, অনার্সের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাহলে কান ঝালাপালা। কলেজের সামনেই অসংখ্য সাউন্ড সিস্টেম। পরীক্ষাকেন্দ্রের জানলা বন্ধ করা সত্ত্বেও সভার আওয়াজ ভেতরে যাওয়ায় সমস্যায় পরীক্ষার্থীরা ।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ইস্যুতে সোমবার মহামিছিলের ডাক দেয় বিজেপি। একদিকে যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-এর বিরোধিতায় পথে নেমেছেন । ঠিক তখনই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে অভিনন্দন যাত্রার ডাক দেয় বিজেপি। এদিন সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মহামিছিল শুরু হয়ে পৌঁছয় শ্যামবাজারে। মিছিল শেষ করে বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সভা মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেন তার ঠিক ঢিল ছোড়া দূরত্বে

মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ। সকাল থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যেহেতু এই মঞ্চ থেকেই মিছিল শেষে বক্তব্য রাখবেন তাই সকাল থেকেই কোলাহলপূর্ণ ছিল কলেজ চত্বর। মঞ্চের পাশাপাশি কলেজ চত্বরে সারি সারি সাউন্ড সিস্টেম লাগানো হয়েছিল। মাইকের আওয়াজে গমগম করছিল গোটা এলাকা । প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাউন্ড সিস্টেমগুলি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখতে ঘনঘন লাউডস্পিকারগুলির আওয়াজে সরগরম হয়েছিল গোটা এলাকা।

সকাল দশটা থেকে বেলা একটা এবং বেলা দুটো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দুটি পর্যায়ে অনার্সের পরীক্ষা চলছিল এই কলেজের একাধিক ক্লাস রুমে। পরীক্ষা চলাকালীন রীতিমতো কান ঝালাপালা হয় পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষা কেন্দ্রের খুব কাছেই বেশ কয়েকটি সাউন্ড সিস্টেম লাগানো থাকায় অনবরত সেই মাইকের আওয়াজ প্রবেশ করছিল পরীক্ষা কেন্দ্রের অন্দরে। পাশাপাশি কলেজের সামনেও লাগানো হয়েছিল কুড়িটির মত মাইক । কলেজ কর্তৃপক্ষ বারবারই পরীক্ষাকেন্দ্রের জানালা দরজা বন্ধ করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করলেও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি । তারস্বরে মাইক বাজানোর জেরে পরীক্ষায় বসা পরীক্ষার্থীরা ঘোর সমস্যায় পড়েন। পরীক্ষায় বসেও কিছুতেই তারা মনসংযোগ দিয়ে উঠতে পারছিলেন না। অনবরত কানে ভেসে আসছিল স্লোগান এবং বিভিন্ন বক্তার গরম গরম ভাষণ। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে যখন পরীক্ষা চলাকালীনই বিকেলে শ্যামবাজারে এসে পৌঁছয় সেই মহামিছিল। যে মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা জেপি নাড্ডা এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

মিছিলে পা মেলানো দলীয় কর্মী সমর্থকরা কলেজের সামনে জড়ো হয়ে অনবরত স্লোগান এবং নাগরিকত্ব ইস্যুতে তাদের সমর্থন প্রসঙ্গে স্লোগান দিতে থাকেন। কারওরই তখন ভ্রুক্ষেপ নেই ঠিক পাশেই কলেজটির অন্দরেই তখন চলছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স এর পরীক্ষা। মিছিল শ্যামবাজার তথা কলেজ চত্বরে পৌঁছতেই পরীক্ষার্থীদের সমস্যা আরও তীব্র

তারস্বরে মাইক বাজিয়ে শুরু হল নেতৃত্বের বক্তৃতা। পরীক্ষা কেন্দ্রে তখন পরীক্ষার্থীদের কান ঝালাপালা। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এসে ঋত্বিকা, শর্মিলার মতো অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, এদিনের সভায় এতটাই তারস্বরে মাইক বাজছিল যে আমাদের পরীক্ষা হলের ভেতর আমরা মনোসংযোগই দিতে পারছিলাম না। শুধু কানের মধ্যে মাইকের আওয়াজ আমাদের পরীক্ষাটাই নষ্ট করে দিল।

পরীক্ষা চলাকালীন কলেজের সামনেই একের পর এক লাউডস্পিকার, মাইকের আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন অভিভাবকরাও। প্রত্যেকের মুখে একটাই প্রশ্ন, পরীক্ষার সময় কিভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে মাইক বাজানোর অনুমতি দিল প্রশাসন? এমনই একজন অভিভাবক বিভা হালদার ক্ষোভের সুরে বলেন, "এটা কোনওভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। তাঁর প্রশ্ন, যদি সভা কিংবা মাইক বাজাতেই হত, তাহলে কলেজ থেকে দূরে কেন সভাস্থল করা হল না? আমার মেয়ের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার দায় কে নেবে"?

First published: 11:12:34 PM Dec 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर