রান্নাঘর চলবে, থামছে না মানুষের জন্য কাজ ! দীর্ঘজীবী হোক যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন

রান্নাঘর চলবে, থামছে না মানুষের জন্য কাজ ! দীর্ঘজীবী হোক যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন

photo source Facebook

অনেকেই পেজে মেসেজ করেছেন, বা পুরনো পোস্টের তলায় কমেন্ট করেছেন আজকের নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষিতে। অনেক জানতে চান ক্যান্টিন কি আর চালু থাকবে, অনেকেই বলছেন ক্যান্টিন বন্ধ করে দিতে।

  • Share this:

    #যাদবপুর:  যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন। এই রান্না ঘরের কথা এখন সবার জানা। মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে এখান থেকে খাবার পেতে পারেন যে কেউ। করোনা কালে লকডাউন পরিস্থিতিতে এই ক্যান্টিন চালু করা হয়েছিল। এক বছর পার হয়ে গিয়েছে কিন্তু তবুও থামেনি রেড ভলান্টিয়ারসদের কাজ। করোনা অতিমারীর জেরে গত বছর লকডাউন শুরু হওয়ার পর গরীব, তথা খেটে খাওয়া মানুষের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরেই যাদবপুরের সিপিএম নেতৃত্বের উদ্যোগে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের জন্য নিখরচায় একটি ক্যান্টিন শুরু করার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের উদ্যোগেই যাদবপুর বিধানসভা এলাকার বিজয়গড়ে অস্থায়ী রান্নাঘর তৈরি করে কর্মহীন শ্রমিকদের খাওয়ানোর কাজ শুরু হয়। অল্প কয়েক দিনে রান্নাঘর ঘিরে শ্রমিক শ্রেণির সাড়া লক্ষ্য করে তা আরও বড় পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নেন উদ্যোক্তারা।

    তবে আজ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই মানুষের মনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। এই শ্রমজীবী ক্যান্টিনকে সিপিএমের এই পরাজয়ের পরেও চালানো হবে? আজ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের হারকে কেন্দ্র করেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। তাঁরা যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন-এর ফেসবুক পেজে কমেন্ট করে বার বার প্রশ্ন করতে থাকেন। বহু মানুষ প্রশ্ন করেছেন। এর পরই আজ ফেসবুকে নিজেদের মত জানিয়েছে, যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন-এর রেড ভালান্টিয়ারসরা। তাঁরা লিখিত দিয়ে জানান, "অনেকেই পেজে মেসেজ করেছেন, বা পুরনো পোস্টের তলায় কমেন্ট করেছেন আজকের নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষিতে। অনেক জানতে চান ক্যান্টিন কি আর চালু থাকবে, অনেকেই বলছেন ক্যান্টিন বন্ধ করে দিতে। আপনাদের প্রশ্ন, উপদেশ, সমালোচনা সমস্ত গ্রহণ করেই জানাচ্ছি - আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচী হিসেবে এই ক্যান্টিন শুরু করেছিলাম - নির্বাচনী প্রচার হিসেবে না। তাই নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, যতদিন মানুষের দেওয়া অনুদান আর স্বেচ্ছাশ্রম আমাদের সাথে থাকবে, এই ক্যান্টিন চলবে। আগামীকাল, প্রতিদিনের মতনই, ক্যান্টিন থেকে ঠিক সময় খাবারের প্যাকেট দেওয়া হবে, যে কোভিড পেশেন্টদের বাড়িতে খাবার ডেলিভারি করা হয়, তাও করা হবে। যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন - চলবে।"

    ভোটের হার জিতে থেমে থাকবে না কর্মীদের কাজ। তাঁরা মানুষের জন্য কাজ করে যাবেই। এই পোস্টে অনেকে কমেন্টস করে বলেন, "রেড ভলান্টিয়ারসরা তাঁদের কাজ করে যান, আপনি কাকে ভোট দিয়েছেন তা জানতে চায় না।" মানুষকে এই ভয়ঙ্কর অতিমারীতে খাবার পৌঁছে দেওয়ায় তাঁদের প্রধান কাজ। ভোটের ফল কি তাই দেখে মানুষের জন্য কাজ তাঁরা করেন না। মাত্র ২০ টাকা দিয়েই খাবার সংগ্রহ করছেন, বড় শপিং মলের নিরাপত্তারক্ষী থেকে নির্মাণ শ্রমিক, ছোটখাটো দোকানের কর্মী থেকে ই কমার্স সংস্থার ডেলিভারি বয়। আজকের এই খারাপ সময়ে এই কাজ প্রশংসনীয় । দীর্ঘজীবী হোক শ্রমজীবী ক্যান্টিন।

    Published by:Piya Banerjee
    First published: