corona virus btn
corona virus btn
Loading

শ্যামবাজারে অসুস্থ ভবঘুরের দিকে ফিরেও তাকাল না কেউ, হাতিবাগানে মানবিক মুখ

শ্যামবাজারে অসুস্থ ভবঘুরের দিকে ফিরেও তাকাল না কেউ, হাতিবাগানে মানবিক মুখ
প্রতীকী চিত্র৷

২৪ ঘন্টার ফারাকে কলকাতা দেখল দুই চিত্র। শ্যামবাজারে অমানবিক মুখ আর হাতিবাগানে মানবিক মুখের ছবি ৷

  • Share this:

#কলকাতা: শ্যামবাজারের উল্টোচিত্র হাতিবাগানে। কলকাতার চিরাচরিত মানবিক মুখ দেখল শহরবাসী। শ্যামবাজারের ফুটপাতে ভবঘুরেকে কেউ ছুঁয়ে না দেখলেও হাতিবাগানে তৎপর বাসিন্দারা। কলকাতা পুরসভার সাহায্যে বটতলা থানার উদ্যোগে ভবঘুরে পেল ঠিকানা। তড়িঘড়ি ভবঘুরে বৃদ্ধকে পাঠানো হলো কালীঘাটের নির্মল হৃদয়ে সেবা-শুশ্রূষার জন্য ।

শ্যামবাজারের বিধান সরণিতে কয়েকদিন ধরে অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন বৃদ্ধ। কেউ কেউ খাবার দিয়েছেন বটে তবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করেছিলেন কেউ কেউ। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল, কিন্তু বৃদ্ধকে কেউ স্পর্শ করতে রাজি না হওয়ায় ফিরে গিয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স। কলকাতা পুরসভার 11 নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় শহরবাসী দেখেছিল এক অমানবিক মুখ। কলকাতা শহরের এক অচেনা চেহারা। করোনা আতঙ্কে যেন সিঁটিয়ে রয়েছে শহরবাসী। দীর্ঘক্ষণ টালবাহানার পর খবর যায় কলকাতা পৌরসভায়। উদ্যোগী হন পুর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর অতীন ঘোষ। আসে অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বৃদ্ধকে।

একইরকমভাবে এক বৃদ্ধ ভবঘুরে হাতিবাগানের ফুটপাতে অসহায় ভাবে পড়ে ছিলেন বৃহস্পতিবার সকালে। করোনা আতঙ্কে সকলের দূরে সরে থাকাটাই যখন শহর কলকাতার চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন অন্য চিত্র দেখা গেল বৃহস্পতিবার সকালে। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ এই দৃশ্য দেখার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেন ওয়ার্ড কডিনেটর অতীন ঘোষের কাছে। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য এক মুহূর্ত দেরি না করে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আধঘণ্টার মধ্যে বড়তলা থানার পুলিশ ও কলকাতা পৌরসভার অ্য়াম্বুলেন্স হাতিবাগানের ফুটপাত থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় ওই বৃদ্ধকে।

হাতিবাগান চারমাথা মোড় থেকে খান্নার দিকে অরবিন্দ সরণি ধরে কিছুটা এগিয়ে গেলেই বাঁ দিকের ফুটপাতে পড়েছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। নাম কোনওরকমে শৈলেন সাহা বললেও বাড়ির ঠিকানা ঠিক করে বলতে পারছেন না রুগ্ন বৃদ্ধ। এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা শুভাশিস মল্লিক ও শাশ্বত বসু।

শুভাশিস মল্লিক বলেন, ফুটপাতে অশীতিপর বৃদ্ধকে দেখতে পেয়ে মনে হচ্ছিল যেন মৃতদেহ পড়ে আছে ‌। প্রায় মৃত রুগ্ন জরাজীর্ণ বৃদ্ধকে দেখেই আমরা কলকাতা পৌরসভা ও পুলিশকে জানাই। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর অতীন ঘোষকেও ফোনে বিস্তারিত জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাশ্বত বসু বলেন, অতীন ঘোষকে ফোনে জানানোর আধঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পৌরসভার অ্য়াম্বুলেন্স চলে আসে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে বড়তলা থানার পুলিশ ও। তড়িঘড়ি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে তাঁকে কালীঘাটের নির্মল হৃদয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ বলেন, কমিউনিকেশন গ্যাপের জন্যই পরিষেবা পাচ্ছেন না অনেকে। শ্যামবাজারের ওই এলাকাটা আমার নিজের ওয়ার্ড। অনেকের কাছেই আমার ফোন নাম্বার রয়েছে। তবু কেন জানিনা আমাকে সংবাদমাধ্যমের থেকে খবরটা জানতে হল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পেরেছি। খবর পেলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করে থাকি।

২৪ ঘন্টার ফারাকে কলকাতা দেখল দুই চিত্র। শ্যামবাজারে অমানবিক মুখ আর হাতিবাগানে মানবিক মুখের ছবি ৷

BISWAJIT SAHA

Published by: Simli Raha
First published: August 13, 2020, 6:34 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर