WB Lightning Death: দুপুর গড়াতেই দক্ষিণের জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, বজ্রাঘাতে ঝলসে মৃত ২০

রাজ্যে বজ্রাঘাতে ঝলসে মৃত ২০। প্রতীকী ছবি।

মুহুর্মুহু বজ্রপাতের জেরে এখনও পর্যন্ত মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের ২০ জনের।মুর্শিদাবাদ, চন্দ্রকোনা, হুগলি, বহরমপুর, নবদ্বীপ, খানাকুল, তারকেশ্বর, গোঘাট, রঘুনাথগঞ্জে ব্যাপক বজ্রপাত হয়।

  • Share this:

    #কলকাতা: দুপুরেই নেমেছিল রাতের অন্ধকার। তারপর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত। যার জেরে প্রবল গরম থেকে অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে। তবে মুহুর্মুহু বজ্রপাতের জেরে এখনও পর্যন্ত মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের ২০ জনের।মুর্শিদাবাদ, চন্দ্রকোনা, হুগলি, বহরমপুর, নবদ্বীপ, খানাকুল, তারকেশ্বর, গোঘাট, রঘুনাথগঞ্জে ব্যাপক বজ্রপাত হয়।

    মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ থানার মির্জাপুর নওদা এলাকায় মাঠের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাঁদেরকে জঙ্গিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত হয় এবং তখন বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হন তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম দুর্যোধন দাস (৩৫), মাজাহারুল সেখ (১৬), হান্নান সেখ, সুনিল দাস ও সাদ্দাম শেখ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে জঙ্গিপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। ঘটনার জেরে শোকে ছায়া নেমে এসেছে। সুতি থানার আইরনে বজ্রপাতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বহরমপুরের বানজেটিয়াতে বজ্রাঘাতে অভিজিৎ বিশ্বাস (৪০) এবং প্রহ্লাদ মুরারি (৪২) নামে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসার সময় বাজ পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়।

    বজ্রপাতে মৃত্যু অরুন মণ্ডল (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে চন্দ্রকোনার জাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, অরুন মণ্ডল পেশায় কৃষক। বাড়ির পাশে তিল ঝাড়াই বাছাইয়ের সময় হঠাৎই বজ্রপাতে আহত হয়। স্থানীয়রা ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে। চন্দ্রকোনার হীরাধরপুর এলাকায় অর্চনা রায় (৩৫) নামে এক মহিলার বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে।

    হুগলির বিভিন্ন যায়গায় বজ্র বিদ্যুৎ সহ তুমুল বৃষ্টি। পোলবার মহানাদে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে হারুন রসিদ (৪০) নামে এক ব্যক্তির। হুগলির নসিবপুর গ্রামে বজ্রাঘাতে মৃত্যু সুস্মিতা কোলে (৩২) নামে এক মহিলার। বাড়ির উঠোনে কাজ করার সময় দৃর্ঘটনাটি ঘটে। গতকাল এই থানার খাঁসেরভেঁড়ি গ্রামে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছিল এক কৃষক মহিলার। জমিতে কাজ করার সময় দূর্ঘটনাটি ঘটে। সোমবারের বিকালে বজ্রপাতে মৃত্যু তারকেশ্বর থানার চাঁপাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সঞ্জীব সামন্ত (৪৩) ও হরিপাল থানার দিলীপ ঘোষ (৫০) নামে এক কৃষকের। বিকালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। পৃথক পৃথক ঘটনায় এই পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতদের নাম হেমন্ত গুছাইত (৪২), মালবিকা গুছাইত (৩২), কানাই লহরী (৭৬), আনন্দ রায় (৩৫) ও শিশির অধিকারী (৭২)। আহত হয়েছেন জ্যোৎস্না অধিকারী ও মালতী লহরী। এদের মধ্যে হেমন্ত ও মালবিকা স্বামী ও স্ত্রী। আবার শিশির ও জ্যোৎস্না স্বামী ও স্ত্রী। অন্যদিকে গোঘাটের নরসিংহবাটীতেও বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় আনন্দ রায় (৩৫) নামে এক ব্যক্তির। জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় সে জমির কাজ করতে বাড়ির পাশে মাঠে গিয়েছিল তখনই তার উপর বজ্রপাত হয়।

    নদীয়ার নবদ্বীপে গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হল এক যুবকের। যুবকের নাম মধু দাস, বয়স ৩৫ বছর। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকালে নবদ্বীপের রানীরচরার গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সময় বজ্রপাতে আহত হন ওই যুবক। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন ।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: