পেটিএম জালিয়াতি রুখতে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব লালবাজারের

পেটিএম জালিয়াতি রুখতে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব লালবাজারের

পেটিএম-এ কেওয়াইসি করে দেওয়ার নাম করে জালিয়াতি রুখতে নয়া পরামর্শ লালবাজারের

  • Share this:

SUJOY PAL

#কলকাতা: পেটিএম-এ কেওয়াইসি করে দেওয়ার নাম করে জালিয়াতি রুখতে নয়া পরামর্শ লালবাজারের। পেটিএম কর্তৃপক্ষকে লালবাজারের পরামর্শ, জালিয়াতি রুখতে কেওয়াইসি হিসেবে শুধুমাত্র ভোটার কার্ড দিলেই হবে না। সঙ্গে যুক্ত করতে হবে প্যান কার্ডও। অর্থাৎ ভোটার কার্ডের সঙ্গে প্যান কার্ড দিলে তবেই কেওয়াইসি সম্পন্ন হবে। লালবাজার সূত্রে খবর, এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে পেটিএম কর্তৃপক্ষকে।

সম্প্রতি কলকাতা শহরে পেটিএমে কেওয়াইসি করার নাম করে জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। কয়েক কোটি টাকা খুইয়েছেন তাঁরা। এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর ঝাড়খণ্ডের জামতারা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু তারপরেও কেওয়াইসি করে দেওয়ার নাম করে এই জালিয়াতির ঘটনা রোখা যাচ্ছে না।

বুধবার লালবাজারে পেটিএম-সহ একাধিক ই-ওয়ালেট সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে বৈঠক করে লালবাজার। সেই বৈঠকেই পেটিএম-সহ অন্যান্য ই-ওয়ালেট সংস্থাগুলিকে বলা হয় তাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। আর সে কারণেই গুরুত্ব দিতে হবে কেওয়াইসি-র বিষয়টিতেই। কলকাতা পুলিশের এক অফিসার বলেন, 'ই-ওয়ালেট সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে শুধু ভোটার কার্ড নয়, কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে হলে প্যান কার্ডও যুক্ত করতে হবে। তাতেই গ্রাহক নিরাপত্তা শক্ত করা সম্ভব। যেহেতু সম্প্রতি পেটিএম-এর নাম করেই একাধিক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে তাই ওই সংস্থাকেই জোর দিয়ে নিয়ম কার্যকর করতে বলা হয়েছে।'

লালবাজার সূত্রের খবর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়, এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পর থেকেই বাড়তে থাকে অনলাইন জালিয়াতি। মূলত ঝাড়খণ্ডের জামতারা গ্যাং এই জালিয়াতি শুরু করে। জাল নথি দিয়ে ভোটার কার্ড বানিয়ে তা দিয়ে কেওয়াইসি করে পেটিএম অ্যাকাউন্ট খোলে জালিয়াতরা। তারপর ই-ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই বেছে বেছে পেটিএম গ্রাহকদের কাছে কেওয়াইসি করার নাম করে এসএমএস পাঠায় তারা। সেই এসএমএসেই পাতা থাকে ফাঁদ, যাতে থাকা নম্বরে ফোন করলেই জালিয়াতের খপ্পরে পড়বে গ্রাহক। প্রথমে কথার মাধ্যমে সুকৌশলে গ্রাহকদের কাছে একটি লিংক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই লিংকে ক্লিক করলেই হ্যাক হয়ে যাবে গ্রাহকের মোবাইল। তারপর মোবাইলে গ্রাহক যখনই তাদের MPIN দিয়ে টাকা পাঠাবেন, তখনই গ্রাহকের তথ্য চলে যাবে জালিয়াতদের হাতে। কলকাতায় এরকম প্রায় ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে যাতে কয়েক কোটি টাকা খুইয়েছে মানুষ। তাই লালবাজার মনে করছে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক না থাকলেও কেওয়াইসি হিসেবে ভোটার এবং প্যান কার্ড যুক্ত করা হলে জালিয়াতির সম্ভাবনা কমবে।

লালবাজারের ওই বৈঠকে যে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডাররা ছিলেন তাদের বলা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ভুয়ো নথি দিয়ে তোলা হচ্ছে সিম কার্ড। তা বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের জামতারায়। সেই সিম দিয়েই ফোন করছে দেশজুড়ে। তাই সিম বিক্রির সময় ভালভাবে নথিপত্র যাচাই করতেও বলা হয়েছে।

First published: March 5, 2020, 8:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर