কুমোরটুলির পুজো ঘিরে দুই বাংলার জয়গান ! প্রতিমায় গঙ্গা-পদ্মার মাটির মিশেল

নিজস্ব ছবি

  • Share this:

    #কলকাতা: মাটি ছিল তোমার-আমার তিন পুরুষের পুঁজি। প্রতিটি শব্দে যন্ত্রণা। মাটি হারানোর। স্বপ্ন ভাঙার। উৎসবের আঙিনায় মাটি হারানো এই সুরই কুমারটুলি সর্বজনীনের থিম সং। বাংলাদেশের শিল্পী সায়নের সুরের জাদু এবার পুজোর কলকাতায়।

    না। রাজনীতি নয়। পুজোয় তার প্রয়োজনও নেই। তবু নীরব প্রতিবাদের জোরালো ভাষা অগ্রাহ্য করা যায় কী?

    ফরজানা ওয়াহিদ। ওরফে সায়ান। বাংলাদেশের শিল্পী। কালো তাঁর প্রিয় রং। যন্ত্রণা, প্রতিবাদের রঙ বলেই কী? পিঠে সবসময়ের সঙ্গী গিটার। তাঁর গানে মাটির টান। হৃদয়ের ডাকে সুর বাঁধেন। শব্দ বোনেন। শব্দ চয়নে নীরব অথচ ঝাঁঝালো প্রতিবাদ। সুরেলা এই প্রতিবাদই এবার কুমারটুলি সর্বজনীনের থিম সঙ। গানের রেকর্ডিং শেষ। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের শরিক হতে পেরে মুগ্ধ সায়ন।

    উৎসবের গানে প্রতিবাদ কেন? শিল্পীর যুক্তি, মাটি হারানোর যন্ত্রণা সর্বজনীন। দেশ ভাগ হোক না এনআরসি। বাংলা হোক বা বাংলাদেশ। মাটিকে কি ভাগ করা সম্ভব? দিনের শেষে সকলের একটাই পরিচয়। সে মানুষ।

    উদ্যোক্তারাও একমত। কুমারটুলি সর্বজনীনও এবার মাটি-ময়। গঙ্গা ও পদ্মার মাটি দিয়েই তৈরি হচ্ছে দুর্গা। উদ্যোক্তাদের বার্তা, এ মাটি কেউ ভাগ করতে পারবে কি?

    বাংলাদেশী শিল্পীর প্রাণের সুরে আবারও কাছাকাছি দুই বাংলা। কাটাতারের বেড়ায় আটকায়নি সে সুর। গত বছর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর এবার বাংলাদেশের সায়নের সুরেলা প্রতিবাদে কুমোরটুলিতে বাঙালির ব্যতিক্রমী পুজো দেখা।

    First published: