কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

রাত পোহালেই দেবীর বোধন, করোনা আবহেই শুরু হয়ে গেল শীল লেনের দাস বাড়ির দুর্গাপুজো

রাত পোহালেই দেবীর বোধন, করোনা আবহেই শুরু হয়ে গেল শীল লেনের দাস বাড়ির দুর্গাপুজো

রাত পেরোলেই পুজো শুরু। এই মুহুর্তে তাই শেষ পর্যায়ের ব্যস্ততা মধ্য কলকাতার শীল লেনের দাস বাড়ি। চলছে দেবীকে গয়না পরানো।

  • Share this:

#কলকাতা: রাত পেরলেই পুজো শুরু। এই মুহুর্তে তাই শেষ পর্যায়ের ব্যস্ততা মধ্য কলকাতার শীল লেনের দাস বাড়িতে। চলছে দেবীকে গয়না পরানো।

না, ভুল নয়। একেবারেই ঠিক পড়েছেন। করোনা আবহেও এক্কেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে পুজো। ১১ সেপ্টেম্বর দাস বাড়ির পুজো শুরু। আর, তাঁদের পুজো পাঁচ দিনের নয়, একেবারে টানা ৪৪ দিনের। এমনিতেই দাস বাড়ির পুজো শুরু হয় ১৬ দিন আগে কৃষ্ণপক্ষের নবমীতে। কিন্তু এবারে মলমাস পড়ায় তিথি এগিয়ে এসেছে অনেকটা। ফলে শুক্রবারেই হয়ে যাবে দেবীর বোধন। তারপর মহালয়া পর্যন্ত পৌরাণিক নিয়মে হবে পুজো। তারপর দিন থেকে প্রতিপদ পর্যন্ত নিত্যপুজো চলবে। ফের প্রতিপদ থেকে ষষ্ঠী বিশেষ পুজোর পর সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত হবে মহাপুজো।

দাস পরিবারের দুই সন্তান। দিদি চিকিৎসক মৌমিতা দাস, ভাই প্রসেনজিৎ দাস পেশায় ইঞ্জিনিয়র। মৌমিতার কথায়, ''এই পুজোয় কোনও স্বপ্নাদেশ নেই। যেটা রয়েছে সেটা হল ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিকে ধরে রাখা। ভারতীয় পরম্পরাকে আঁকড়ে থাকা, তার চর্চা করা। দুর্গা একদিনের নন, প্রতিদিনের পূজ্য। প্রতিটি সকালেই দুর্গা নাম উচ্চারণ করতে হয়। প্রতিবার বাইরে যাওয়ার সময়ে মা-ঠাকুমারা ‘দুর্গা-দুর্গা’ উচ্চারণ করেন।''

পুজো হয় কখনও রঘুনন্দনের ‘দুর্গোৎসব তত্ত্বের’ উপর ভিত্তি করে, কখনও বিদ্যাপতির লেখা ‘দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী’র নিয়মানুসারে। কখনও পুজো হয় শূলপাণির লেখা ‘দুর্গোৎসব বিবেক’ অনুযায়ী৷ রঘুনন্দন বা বিদ্যাপতির চেয়েও প্রাচীন এই বই৷

বাড়ির পুজো মানেই যে গৃহকর্তাই হবেন সবার উপরে তা কিন্তু নয়। আনন্দ পালিত লেনের কাছে শীল লেনের এই পুজোয় গৃহকর্তা প্রদীপকুমার দাস সবার উপরে রয়েছেন, কিন্তু পুজোটা ভাইবোনের। বাড়িতে এটা সেটা পুজোর রেওয়াজ বরাবরই ছিল। কিন্তু দুর্গাপুজো ছিল না। প্রদীপবাবুর দুই সন্তান মৌমিতা ও প্রসেনজিৎ-এর মধ্যে পুজোর প্রতি আগ্রহ ছিল ছেলেবেলা থেকেই। কিন্তু একটু বড় হওয়ার পরে সেটা অন্য ধারায় বইতে শুরু করে।

কিন্ত সব পুজো যখন শুক্লা ষষ্ঠীতে শুরু হয় তখন এখানে অন্য রকম কেন? ১৮ দিন ধরেই বা পুজো কেন? প্রশ্নের উত্তরে মৌমিতা জানালেন, ''অন্যত্র রঘুনন্দন তত্ত্ব অনুসারে পূজা হয়। রঘুনন্দন যেমন একজন স্মৃতিকার ছিলেন তেমনই আর একজন স্মৃতিকার শূলপাণি। বৃহৎ নন্দীকেশ্বর পুরাণ অনুসারে তাঁর দুর্গোৎসব-বিবেক গ্রন্থ মতে পুজো হওয়া উচিত কৃষ্ণা নবমী থেকে শুক্লা নবমী পর্যন্ত। সেই রীতি মেনেই আমরা পুজো করি।''

প্রসেনজিতের দিদি মৌমিতা পেশায় ডাক্তার৷ স্রেফ উৎসাহের জোয়ারে, পুজোর গভীরে পৌঁছে আরও জানার ইচ্ছায় নিজেদের পেশা থেকে বহু যোজন দূরের দুর্গাপুজো নিয়ে মেতে উঠেছেন দু’জনে৷ তাই ওঁরা নিজেরাই পুরোহিতের আসনে বসেন৷ পুজো হয় পুরাণের বিভিন্ন স্মৃতিকারদের বইয়ের বর্ণনা অনুসারে৷ উপাচারের জল, মাটি, তেল দশকর্মা ভাণ্ডার থেকে না কিনে জোগাড় করেন নিজেরাই৷

প্রসেনজিতের কথায়, ''আসলে দুর্গোৎসবের নিয়ম খুব কড়া৷ যেমন, সকালের মধ্যেই বোধন সারতে হবে৷ বিকল্পও কম৷ তাই বাংলার পুজোয় বৃহৎ নন্দীকেশ্বর পুরাণ মেনে যাঁরা পুজো করেন, তাঁরা রঘুনন্দনকেই অনুসরণ করেন৷ উনি অনেকটাই নমনীয়৷'' আবার মায়ের পুজোর নিয়ম ছত্রে ছত্রে থাকলেও চার ছেলে-মেয়ের পুজোর ব্যাপারে বিধান নেই তেমন৷ অর্থাৎ, চ্যালেঞ্জ অনেক৷

প্রসেনজিতের কথায়, ''সকালে আর সন্ধ্যায় পুজো৷ মাঝে অফিসের কাজ ঠিকই সামলে দেওয়া যায়৷ বেনারস ও বৃন্দাবন থেকে দু’জন পাঠক আনা হয়েছে৷ তাঁরাই বেদপাঠ, চণ্ডীপাঠ করবেন৷'' বাড়িতে মন্দির থাকায় ছোট থেকেই বৈষ্ণব আচারের সঙ্গে পরিচিত দুই ভাই-বোন৷ একসময় দুর্গাপুজোর উপর ঝোঁক বাড়ল৷ কিন্তু পুজো করার জন্যই করা নয়, পরতে পরতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ স্রেফ আশ্বিনের শারদ প্রাতে নয়, লেগে থাকেন সারা বছরই৷ যেমন, প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে প্রাচ্যবিদ্যার এক অধ্যাপকের কাছে ক্লাস করেন দু’জনে৷ প্রাচীন পুঁথি জোগাড় করা, পড়াশোনা— ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশেই দিব্যি চলে৷

Published by: Shubhagata Dey
First published: October 6, 2020, 2:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर