গোষ্ঠী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র মানিকতলা, আহত ২ পুলিশকর্মী সহ বহু

হোটেল খাওয়া কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল উত্তর কলকাতার বাগমারি এলাকায় ৷

হোটেল খাওয়া কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল উত্তর কলকাতার বাগমারি এলাকায় ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল উত্তর কলকাতার বাগমারি এলাকায় ৷ দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সোমবার রাত থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাগমারির ধোপাপাড়া বস্তি এলাকা ৷ রাতভর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চলে ইটবৃষ্টি ৷ সংঘর্ষে আহত হন বহু মানুষ ৷ রাতের সংঘর্ষ থামেনি সকালেও ৷

    রাতভর দফায় দফায় হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল উল্টোডাঙার ধোপাপাড়া এলাকা। সোমবার, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ম্যাচ চলছিল নতুনপল্লি ও ধোপাপাড়ার মধ্যে। সন্ধেয় টিফিন নিয়ে গন্ডগোল শুরু হয়। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডুর অনুগামীরা মারধর করে ধোপাপাড়ার কয়েকজনকে। ব্যস! সেই শুরু।

    মঙ্গলবার সকাল হতেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মানিকতলা-বাগমারি এলাকা ৷ রেললাইনের উপর শুরু হয়ে যায় মারামারি, বোমাবাজি ৷ এর জেরে বিঘ্ন ঘটে ট্রেন চলাচলেও ৷ বোমা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হতে ভয়ে পেয়ে যান ট্রেন যাত্রীরা ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মানিকতলা থানার পুলিশ ৷ ঝামেলা থামাতে গিয়ে আহত হন দুই পুলিশকর্মী ৷ এলাকায় নামানো হয়েছে RAF ৷ পরিদর্শনে পৌঁছান বিধায়ক সাধন পাণ্ডে ৷ পুলিশ ও জনতার খণ্ডযুদ্ধে আহত দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন। ঘটনায় গ্রেফতার ছয় মহিলা সহ  ২৮ জন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে এই পরিস্থিতি ৷ তর্কাতর্ক, বাদানুবাদ, মারামারির পর সারা রাত ধরে একে অপরের দিকে ছুঁড়তে থাকে কাচের মদের বোতল, পাথর, আধলা ইঁটের টুকরো ৷ এমনকী অ্যাসিড বোতল ছোঁড়ার অভিযোগও করছেন স্থানীয়রা ৷

    তাতেও শেষ হয়নি ঝামেলা ৷ সকাল হতেই এলাকা দিয়ে যাওয়া ট্রেনলাইনের উপর শুরু হয়ে যায় মারামারি, বোমাবাজি ৷  সংঘর্ষে থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন পুলিশকর্মীরাও ৷ পরে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে মানিকতলা, ফুলবাগান ও লালবাজারের বিশাল পুলিশ বাহিনী শুরু করে অভিযান। নেতৃত্বে ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসিইএসডি দেবস্মিতা দাস। চলে লাঠিচার্জ, ব্যাপক ধরপাকড়। ঘটনায় পুরো তছনছ হয়ে গিয়েছে সুভাষ পল্লী ও কৃষ্ণপল্লী ৷

    অন্যদিকে, এলাকার বিধায়ক সাধন পাণ্ডে গোষ্ঠী সংঘর্ষের তথ্য খারিজ করে জানিয়ে দেন, ‘এটি সামান্য ঘটনা ৷ দুই পাড়ার মধ্যে ঝামেলা ৷ এত বড় করে দেখার কিছু নেই ৷ ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মিটে যাবে ৷’ একইসঙ্গে তিনি এলাকাবাসীদের আশ্বস্ত করে ভয় পেতে বারণ করেন ৷ বলেন, ‘আশ্বস্ত করছি শীঘ্রই ঝামেলা মিটে যাবে ৷ পুলিশকে বলেছি কারোর গায়ে হাত না দিতে ৷’ তবে গোষ্ঠী সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্ন করলে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু বলব না ৷ পাড়ায় একটা ঝামেলা হয়েছে ৷ কোনও বড় ব্যাপার নয় ৷ সবই তো আমাদের লোক ৷ সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে ৷’

    এলাকায় এখনও রয়েছে উত্তেজনা ৷ ২ পুলিশকর্মী সহ বহু মানুষ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত এলাকায় চলবে পুলিশের রুট মার্চ ৷ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে ৷

    First published: