Home /News /kolkata /
নারায়ণগড়ে মাস্টারমশাইয়ের মাস্টারস্ট্রোক, সচিনের অনুদানে স্কুল

নারায়ণগড়ে মাস্টারমশাইয়ের মাস্টারস্ট্রোক, সচিনের অনুদানে স্কুল

সচিন তেন্ডুলকরের অর্থ সাহায্যে স্কুল তৈরি হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

     #পশ্চিম মেদিনীপুর: সচিন তেন্ডুলকরের অর্থ সাহায্যে স্কুল তৈরি হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে ৷ মুম্বই থেকে নারায়ণগড়ের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১৮২৯ কিলোমিটার ৷ সুদূর মুম্বই থেকে হঠাৎ নারায়ণগড়ের স্কুল তৈরিতে কিভাবে উদ্যোগী হলেন মাস্টার ব্লাস্টার? কারণ একটি চিঠি। আর এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে উত্তম মোহান্তির জন্য ৷

    রাজ্যের সীমানার ব্যবধান ঘুচিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক ছোট্ট গ্রামের স্কুল মাস্টার উত্তম মোহান্তি ৷ সরাসরি মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেণ্ডুলকরের কাছে চিঠি লিখে স্কুল তৈরির জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি ৷ হতাশ করেননি লিটল মাস্টার ৷

    নারায়ণগড়ের গোবিন্দপুর-মকরামপুর স্বর্ণময়ী শাসমল শিক্ষানিকেতনের প্রধান শিক্ষক উত্তম মোহান্তির আবেদনে সাড়া দিয়ে স্কুলের জন্য অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তী ক্রিকেটার এবং রাজ্যসভার সাংসদ সচিন তেন্ডুলকর ৷

    vlcsnap-2016-06-13-14h37m19s114 copy

    স্কুল তৈরির জন্য হঠাৎ সচিন তেন্ডুলকরের কাছে আবেদনের কথা মাথায় এল কীভাবে, জানতে চাওয়া হলে উত্তম মোহান্তি বলেন, স্কুলের উন্নয়নের জন্য বহুদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন জননেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন ৷ কিন্তু তাতে কোনও কাজ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি ৷

    তাঁর আফসোস, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে ৷ নারায়ণগড়ের তৎকালীন বিধায়ক সূর্যকান্ত মিশ্রের কাছাকাছি তিনি পৌঁছতে পারেননি ৷ স্থানীয় সাংসদ প্রবোধ পাণ্ডার কাছেও আশ্বাসবানী ছাড়া কিছুই পাননি বলে জানিয়েছেন উত্তমবাবু ৷

    এদিকে আর পাঁচটা গ্রামের স্কুলের মতো তাঁর স্কুলেরও ছাদ বেয়ে দিনের পর দিন জল পড়ছে ৷ পড়ুয়াদের বসার পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নেই ৷ প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য ব্যবস্থা নেই ৷ একটু বৃষ্টি পড়লেই স্কুলের ছাদের অভাবে পড়ুয়াদের ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হন নারায়ণগড়ের গোবিন্দপুর-মকরামপুর স্বর্ণময়ী শাসমল শিক্ষানিকেতনের প্রধান শিক্ষক উত্তম মোহান্তি ৷

    বরাবরই সচিন তেন্ডুলকরের গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন তিনি ৷ সচিন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর হঠাৎই প্রিয় তারকাকে চিঠি লিখে সাহায্যের আবেদন করার কথাটি মাথায় আসে উত্তম বাবুর ৷

    খোঁজ নিয়ে জানেন রাজ্যসভার সাংসদরা রাজ্য সীমানার গন্ডিতে আবদ্ধ নন ৷ চাইলে যে কোনও রাজ্যের জন্যই সাহায্য পাঠাতে পারেন ৷ যেমন ভাবা, তেমন কাজ ৷ তখন ২০১৩-এর মার্চ মাস, নেট ঘেঁটে সচিনের ঠিকানা যোগাড় করে সমস্ত সমস্যা জানিয়ে তাঁকেই চিটি লেখেন ৷

    সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ২০১৪-র ৭ অগস্ট চিঠির জবাব পাঠান সচিন তেন্ডুলকর ৷ নিজের সাংসদ তহবিল থেকে নারায়ণগড়ের এই স্কুলের জন্য ৭৬ লক্ষ ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছেন সচিন। ইতিমধ্যেই স্কুলের অ্যাকাউন্টে দু’দফায় ৫৭ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা জমা পড়ে গিয়েছে ৷

    sachin-tendulkar-book

    এই ছোট্ট গ্রামের ছোট্ট স্কুলের নামের সঙ্গে ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরের নাম জুড়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ স্কুলের উন্নতিসাধনে গ্রামের স্বপ্নপূরণের সমস্ত কৃতিত্বই দিচ্ছেন এই প্রধানশিক্ষককে উত্তম মোহান্তিকে ৷ আর উত্তমবাবু এখন লিটল মাস্টারের প্রতীক্ষায় ৷

    ইতিমধ্যে নিজের আপ্ত সহায়কের মাধ্যমে দু’বার স্কুলের ল্যান্ডলাইনে ফোন করে কাজ কতদূর এগিয়েছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর ৷ বার্তা দিয়েছেন, তাঁর আসার অপেক্ষায় স্কুল তৈরি হওয়ার পর যেন শুধু পড়ে না থাকে ৷ ২০১৬-এর মধ্যে স্কুলের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে জানালেন উত্তমবাবু ৷ তাঁর বিশ্বাস, বিশ্ব ক্রিকেটের ওয়ান্ডার বয় একদিন নিশ্চয় নিজের অর্থ আনুকুল্যে তৈরি হওয়া এই স্কুল দেখতে আসবেন ৷

    First published:

    Tags: Narayangarh School, Sachin Tendulkar, Sachin's Donation, Uttam Kumar Mohanty

    পরবর্তী খবর