পিটিটিআই নিয়ে মামলা দায়ের সুপ্রিমকোর্টে, আশঙ্কায় ২৯ হাজার শিক্ষকের চাকরি

পিটিটিআই-এর ‘২২ নং’ মার্কস নিয়ে আরও একবার বিপাকে রাজ্য সরকার সহ ২০০৯ সালে নিযুক্ত ২৯ হাজার শিক্ষকের চাকরি ৷ বিচারপতি সৌমিত্র পালের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে ৷

  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: পিটিটিআই-এর ‘২২ নং’ মার্কস নিয়ে আরও একবার বিপাকে রাজ্য সরকার সহ ২০০৯ সালে নিযুক্ত ২৯ হাজার শিক্ষকের চাকরি ৷ বিচারপতি সৌমিত্র পালের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে ৷ গত ২২ জুলাই পিটিটিআই ট্রেনিংপ্রাপ্তদের প্রাপ্য বাইশ নম্বরকে মান্যতা দেওয়ার রায় খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

    এদিন সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে পিটিটিআই ট্রেনিংপ্রাপ্তদের প্রাপ্য বাইশ নম্বরকে মান্যতা দেওয়ার আর্জি জানিয়ে মামলাকারীদের আবেদন গৃহীত হল সুপ্রিম কোর্টে ৷ শুনানির তালিকাভুক্তির পর চার সপ্তাহের মধ্যে নোটিশ ইস্যু করার নির্দেশ দিল আদালত ৷ এর ফলে ২০০৯-১০ সালে নিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে ফের আশঙ্কা তৈরি হল ৷

    শিক্ষার অধিকার আইন চালু হওয়ার আগে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য মানা হত নিয়োগ আইন ২০০১। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের রিক্রুটমেন্ট রুল ২০০১ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদগুলি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ করত। সেই আইন অনুযায়ী জেলায় জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ২০০৬ সালে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পিটিটিআই নিয়োগপ্রার্থীদের পাশপাশি প্রশিক্ষণহীনরাও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। প্রতি জেলায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে। শেষমেষ ২০০৯-১০ সালে ২০০৬ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়।

    নিয়োগের ক্ষেত্রে পিটিটিআইদের জন্য আলাদা করে কোনও সুবিধা দেওয়া হয়নি। ২২ মার্কসকে বাদ রেখেই চূড়ান্ত প্যানেল করে তৎকালীন বাম সরকার। এরপর মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, সুপ্রিম কোর্টে ২০০৬ সালের আগে পিটিটিআই শংসাপত্র প্রাপকদের ২২ নম্বর মার্কস নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রাখা হয়নি। এরপর পিটিটিআই পরীক্ষার্থীরা মামলা করে হাইকোর্টে।

    গত ১২ এপ্রিল আমিনা খাতুন মামলায় ২০০৪-০৫ বর্ষ পর্যন্ত পিটিটিআই শংসাপ্রাপ্তদের আবেদনকে মঞ্জুর করে যুগান্তকারী রায় দেয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বিচারপতি দেবাংশু বসাকের রায়ে মান্যতা পায় ট্রেনিং কোয়ালিফিকেশনের ‘২২ নম্বর’। পরে ২২ জুলাই হাইকোর্টের সৌমিত্র পাল ও মীর দারাশেকোর ডিভিশন বেঞ্চ পিটিটিআই নিয়ে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিল ।

    পিটিটিআই বাইশ নম্বর অন্তর্ভূক্তির দাবিতে এক সময় রাজ্যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন পিটিটিআই পড়ুয়া ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা। বর্তমানে শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ মেনে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা। ট্রেনিংয়ের ২২ নম্বর মান্যতা পেলে দুই থেকে আড়াই হাজার নিয়োগপ্রার্থী সুযোগ পেতে পারে ওই প্যানেলে। আবার পাঁচ বছর চাকরি করার পর চাকরি খোয়াতে পারেন সমসংখ্যক চাকরিজীবী। এমন ঘটলে বিশৃঙ্খলা অবশ্যম্ভাবী ৷

    ট্রেনিংয়ের ২২ নম্বর মান্যতা পেলে পিটিটিআই নিয়োগপত্রের ২২ নম্বরের মধ্যে কে কত নম্বর পেল সেই নম্বর যোগ করে নতুন করে প্রতিটি প্যানেল নতুন করে তৈরি করতে হবে ৷ এর ফলে ছয় বছর চাকরি করা ২২ হাজার শিক্ষককে বসিয়ে নতুন করে নিয়োগ তালিকার পিছনের ২২ হাজারকে সামনে আনতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন ২০০৯ সালে নিযুক্ত ২৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষকের চাকরি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হল ৷ অন্যদিকে, তেমন ২০০৬ সালের আগে পিটিটিআই শংসাপত্র প্রাপক দুই থেকে আড়াই হাজার নিয়োগপ্রার্থীর নতুন করে চাকরি পাওয়ার আশাও তৈরি হল ৷

    First published:

    Tags: PTTI, PTTI Case, Supreme Court