গ্রেফতার অনিন্দ্যর সঙ্গী মহম্মদ নাসিম

তোলাবাজির অভিযোগে মঙ্গলবারই গ্রেফতার করা হয়েছিল বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে ৷

  • Last Updated :
  • Share this:

    #বিধাননগর: তোলাবাজির অভিযোগে মঙ্গলবারই গ্রেফতার করা হয়েছিল বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে ৷ সেই সূত্র ধরেই অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফাতের একদিন বাদেই পুলিশের জালে কাউন্সিলর অনিন্দ্য-র সাগরেদ নাসিম ৷ সল্টলেকের বিডি ব্লক থেকে গ্রেফতার করা হল নাসিমকে ৷ অনিন্দ্য-র ছায়াসঙ্গী নাসিম, অনিন্দ্যর হয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হুমকি দিত ও তোলাবাজি চালাত ৷ পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের বিডি ব্লকে দোকান আছে নাসিমের ৷ বিধাননগর পুরসভার গ্রুপ-ডি কর্মী নাসিম ৷

    কাউন্সিলর জেলে যেতেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে ৷ ২০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ায় কারও বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ, কেউ আবার বিধাননগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ তুলছেন।

    শাসক দলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চাপা পড়ে থাকা বহু অভিযোগ সামনে আসছে ৷ কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হতেই শুরু হয়েছে থমকে থাকা নির্মাণকাজ। এলাকাবাসীদের দাবি, অনিন্দ্য আতঙ্ক থেকে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

    যমুনা মণ্ডলের আত্মীয় জানান, ২০ লক্ষ টাকা চায় অনিন্দ্যর দলবল, না দিতে পারায় বাড়ির সদ্য তৈরি হওয়া পাঁচিল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ৷শুধু তাই নয়, অভিযোগ, কাউন্সিলর তোলা আদায় করতে দর কষাকষিও করতেন। প্রথমে ২০ লক্ষ, পরে ১৫, শেষে পাঁচ লক্ষে রফা ৷ এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে ৷

    কাউন্সিলরের দাদাগিরির অভিযোগ তুলেছেন বিধাননগরের আরও এক বাসিন্দা। বিডি ব্লকেরই ৩৯৬ নম্বর বাড়ি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

    একাধিক তোলাবাজির অভিযোগে মঙ্গলবার থেকে জেল হেফাজতে বিধাননগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। এলাকাবাসীদের দাবি, অনিন্দ্যর গ্রেফতারিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

    বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল বিধাননগর থানার পুলিশ ৷ হুমকি ও তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে ৷

    মঙ্গলবার সকালে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল বিধাননগর ৪১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে ৷ তাঁর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই পুলিশের কাছে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে ৷ এমনকী, বাংলাদেশ থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর নামে অভিযোগ জমা পড়েছে ৷ তবে এদিন নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে ৷

    অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, AE ব্লকে একটি বাড়ির পাঁচিল তুলতে গেলে সেই কাজে বাধা দেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর এবং বাড়ির মালিক প্রবীণ সন্তোষ লোধের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করেন ৷ টাকা দিতে না চাওয়া বছর ৭৮-এর বাড়ি মালিককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ৷

    ব্যবসায়ী সন্তোষ লোধ জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসে পাঁচিল তৈরির কাজ চলার সময় অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের গুন্ডাবাহিনী এসে নির্মাণকাজের সমস্ত জিনিস ছুঁড়ে ফেলে দেয় ৷ একইসঙ্গে জানানো হয় ১২ লক্ষ টাকা না দেওয়া হলে পাঁচিল তুলতে দেওয়া হবে না ৷

    অনিন্দ্যর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮৪, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৮৮ ও ৩৮৯ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ ৷ দোষী প্রমাণিত হলে জরিমানা সহ সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে ৷ মৃত্যুভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেলও হতে পারে ৷কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি রাজ্যের অসৎ কাউন্সিলরদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ একইসঙ্গে এও জানিয়েছেন,এটাই শেষ নয় ভবিষ্যতে এরকম অভিযান আরও চলবে ৷ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরকে কোর্টে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল বিধাননগর আদালত ৷

    First published:

    Tags: Anindya Chatterjee, Bengali News, ETV News Bangla, Extortion, Saltlake Councillor, TMC Councillor