?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

কড়া পুলিশি নিরাপত্তা, ধর্মঘটের প্রভাব নেই গোটা রাজ্যে

কড়া পুলিশি নিরাপত্তা, ধর্মঘটের প্রভাব নেই গোটা রাজ্যে

ধর্মঘটের রাজনীতি আর নয় ! সেটাই যেন বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে গোটা দেশের মানুষ ৷

  • Share this:

#কলকাতা: ধর্মঘটের রাজনীতি আর নয় ! সেটাই যেন বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে গোটা দেশের মানুষ ৷ শহর কলকাতা সকাল থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে ৷ হাওড়া, শিয়ালদহে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ৷ রাস্তায় চলছে বাস, অটো ট্যাক্সি ৷ বিমান বন্দরেও প্লেন ওঠা-নামা স্বাভাবিক ৷

শুধু কলকাতা নয়, এরকমই চিত্র ধরা পড়ল বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বর্ধমান, শিলিগুড়ি, মালদাতেও ৷ গোটা রাজ্যই স্বাভাবিক ছন্দে ৷ বনধের কোনওরকম প্রভাবই চোখে পড়ল না ৷

বনধ রাজনীতির বিরোধীতা করে বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে ছিলেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তার কথা ৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতোই ৷ গোটা শহর জুড়ে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ৷ শ্যামবাজার মোড় থেকে পার্ক সার্কাস, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে যাদবপুর ৷ গোটা কলকাতা জুড়ে পুলিশ পিকেট ৷ রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ ৷ তারই মাঝে বনধকে উপেক্ষা করে দৈনদ্দিন কাজে সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েছে শহরের মানুষ ৷

কলকাতাজুড়ে ৩৫৭টি পুলিশ পিকেট রয়েছে। রেল স্টেশন, বাস ও ট্রাম ডিপো, মেট্রো স্টেশন, ফেরিঘাটেও রয়েছে আলাদা পুলিশ পিকেট। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় রয়েছেন পুলিশের পদস্থ অফিসাররা। চলছে পুলিশি টহলদারি। ধর্মঘট মোকাবিলায় রাস্তায় রয়েছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টিম।

বামপন্থীদের ডাকা বনধ মোকাবিলায় নতুন আইনকে হাতিয়ার করছে রাজ্য। বনধের নামে সম্পত্তির ক্ষতি হলে হামলাকারীর থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করবে রাজ্য প্রশাসন। রাস্তায় নামা মানুষের আস্থা ফেরাতে রাস্তায় থাকবে বাড়তি পুলিসও। অন্য রাজ্য প্রশাসনের আশ্বাস, অন্য দিনের তুলনায় রাস্তায় থাকবে বেশি সংখ্যায় বাস-ট্রাম।

বনধ ব্যর্থ করতে হাতিয়ার আইন ৷ ক্ষতিপূরণ আদায় করবে রাজ্য ৷ সম্পত্তি নষ্টে ৩ দিনে ক্ষতিপূরণ ৷ বনধ ব্যর্থ করার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রাজ্যে বনধ সংস্কৃতি চলতে দেবে না প্রশাসন। শুক্রবার জোর করে বনধ করতে চাইলে পালটা ব্যবস্থার পথ খোলা রাখছে রাজ্য। এক্ষেত্রে প্রশাসনের হাতিয়ার রাজ্যের নতুন আইন। বনধের নামে জোর করা বা ভাঙচুর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে ৷ সম্পত্তির ক্ষতি করলে নিজের টাকা থেকে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৷ ক্ষতিপূরণ দিতে না পারলে জামিন মিলবে না ৷ হামলাকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ থাকছে ৷

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাই বনধের মোকাবিলায় ঝাঁপাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। বামপন্থীদের ডাকা বনধের দিন জনজীবন স্বাভাবিক আগেই প্রশাসন স্তরে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদেরও কাজে যোগ দেওয়ার আবেদন মুখ্যমন্ত্রী। মালিকদের পাশাপাশি বেসরকারি পরিবহণ কর্মীদের জন্যও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করছে পরিবহণ দপ্তর। কাজের দিনে রাজ্যে ১৮৭৫টি বাস চালায় সরকারি সংস্থা ৷ শুক্রবার রাস্তায় নামবে ২২৭৫টি বাস ৷ ৩৭ টির জায়গায় চলবে ৪৫টি ভেসেল ৷

ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে না অধিকাংশ পরিবহণ সংগঠন ৷ ওলা, উবেরের ক্ষেত্রেও মিলবে ক্ষতিপূরণ ৷ বনধ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের কড়া মনোভাবে যেন কিছুটা হলেও চাপে বাম নেতৃত্ব। ধর্মঘটের সাফল্য মানুষের ওপরই ছাড়ছেন তাঁরা ৷ একদিকে আইন, অন্যদিকে আশ্বাস। দুইয়ে মিলে কী ধর্মঘটের দিন বাড়ির বাইরে পা দেবেন সাধারণ মানুষ? বনধের আগের দিন সন্ধেয় অফিস ফেরতা মানুষের ভিড়ই তার আঁচ দিয়ে গেল।

First published: September 2, 2016, 7:47 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर