• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • MEDICINE STOCKS THIN PHARMA INDUSTRY CONFUSED AHEAD OF GST ROLL OUT

GST নিয়ে আশঙ্কায় বাজার থেকে উধাও জীবনদায়ী ওষুধ

GST নিয়ে আশঙ্কায় বাজার থেকে উধাও জীবনদায়ী ওষুধ

GST নিয়ে আশঙ্কায় বাজার থেকে উধাও জীবনদায়ী ওষুধ

  • Share this:

    #কলকাতা: হাতে আর মাত্র একদিন ৷ ৩০ জুন রাত বারোটার ঘণ্টা বাজার পরই লাগু হবে GST অর্থাৎ Goods And Sevice Tax ৷ এরপর কী হবে সেই নিয়ে ধোঁয়াশায় অধিকাংশ দেশবাসী ৷ এরই মাঝে জিএসটি জুজুতে বাজার থেকে উধাও রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো জীবনদায়ী ওষুধ ৷ পয়লা জুলাইয়ের আগেই রাতারাতি একাধিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ বন্ধ ৷ নোট বাতিলের পর এবার জিএসটি নিয়েও দেশ জুড়ে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ৷

    কেন্দ্রের তড়িঘড়ি জিএসটি ঘোষণায় ফাঁপরে ওষুধ ব্যবসায়ীরা।  সাত থেকে চোদ্দ শতাংশ হারে বাড়ছে নব্বই শতাংশ জীবনদায়ী ওষুধের দাম। নতুন দামের তালিকা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। পুরনো মজুত ওষুধই বা কী দামে বিক্রি হবে তা স্পষ্ট নয়। তাই তৈরি হতে চলেছে ওষুধের কৃত্রিম আকাল । জিএসটি লাগু করতে সময় বাড়ানোর দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। সরব হোন মুখ্যমন্ত্রীও। দাবি অ্যাসোসিয়েশনের।

    পয়লা জুলাই থেকে লাগু হচ্ছে জিএসটি ৷ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত জিএসটি নির্ধারিত চারটি ট্যাক্স স্ল্যাব ৷ করমুক্ত নয় জীবনদায়ী ওষুধ ৷ ডায়াবেটিস, টিবি, ম্যালেরিয়া, এডসের মেডিসিন ৫ শতাংশ করের আওতায় পড়লেও কোনও কোনও ওষুধ ১২ শতাংশ আবার কোনও ওষুধ ১৮ শতাংশ করের আওতাভুক্ত ৷

    ওষুধ ব্যবসায়ী, স্টকিস্ট এবং বিক্রেতাদের কাছে এখনও কিভাবে ওষুধের উপর কর আরোপিত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয় ৷ তাই মাসের ৩০ তারিখ আসার আগেই ওষুধের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সাপ্লায়ার থেকে ডিস্ট্রিবিউটাররা ৷ বন্ধ ওষুদের দোকানে যোগান ৷

    সাধারণভাবে জীবনদায়ী ওষুধের নব্বই শতাংশের ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে দাম পরিবর্তন হচ্ছে জিএসটিতে। হয়রানি বাড়তে চলেেছ সাধারণ মানুষদের। একইসঙ্গে চিন্তায় পড়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। তড়িঘড়ি জিএসটি ঘোষণার ফলে অনেককিছুই স্পষ্ট নয় ব্যবসায়ীদের কাছে।  জিএসটি চালুর পরে সাত থেকে চোদ্দ শতাংশ হারে ওষুধের দাম পরিবর্তন হবে।

    এদিকে কর বাড়লেও স্টকে থাকা ওষুধের MRP একই থাকায় পয়লা জুলাইয়ের পর বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না ওষুধ ব্যবসায়ীরা ৷ একইসঙ্গে পুরনো দামে ওষুধ বিক্রি করলে নতুন নিয়মে রিটেলারদের নূন্যতম ১৬ শতাংশ লাভের অংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় ক্ষতির মুখে পড়বেন বিক্রেতারা ৷ সব মিলিয়ে জিএসটি জটে আবদ্ধ ওষুধ ব্যবসায়ীরা ৷

    মহার্ঘ জীবনদায়ী ওষুধ ------------------------

    0 শতাংশ কর- গর্ভনিরোধক ওষুধ ৫ শতাংশ কর- ইনসুলিন, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া-সহ বিভিন্ন ওষুধ ১২ শতাংশ কর- ৯৫ শতাংশ জীবনদায়ী ওষুধ (এই ওষুধগুলিতে আগে ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। তাহলে বাড়তি ৭ শতাংশ কর দিতে হবে) ১৮ শতাংশ কর- ফুড প্রোটিন জাতীয় ওষুধ (এই ওষুধগুলিতে আগে ১৪ শতাংশ কর দিতে হবে। তাহলে বাড়তি ৪ শতাংশ কর দিতে হবে) ২৮ শতাংশ কর- রিভাইটাল ক্যাপসুল জাতীয় ওষুধ। (আগে দিতে হত ১৪.৫ শতাংশ) (বাড়ল ১৪ শতাংশ)

    ওষুধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি ---------------------------- - জিএসটির নতুন নিয়ম অনুয়াযী রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে - বেশিরভাগ সময়ই পোর্টাল খুলছে না - নতুন দামের তালিকা এখনও দেওয়া হয়নি - জিএসটি-র নতুন এমআরপি কী হবে তা স্টকিস্টদের কাছে নেই - ইতিমধ্যে যে ওষুধ মজুত আছে সেগুলিরই বা কী দাম তা নিয়ে ধন্ধ

    এছাড়াও জিএসটি জটে পড়ে ওষুধ ব্যবসায়ে এত বিভ্রান্তির মাঝে বহু ফার্মাসিটিউক্যাল কোম্পানি কর্মরত মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টিভদের ছুটিতে যেতে বাধ্য করছে ৷ যাতে ওষুধ ইন্ডাস্ট্রির এই থমকে পড়া অবস্থার মাঝে কাজ না হওয়া সত্ত্বেও যাতে তাদের দৈনিক কমিশন দিতে না হয়৷

    পশ্চিমবঙ্গ সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউনিয়নের সভাপতি আশিষ কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ৷ জিএসটি-র প্রভাব ওষুধ ব্যবসায়ে এতটাই গভীর হতে চলেছে, যে বহু লোক চাকরি পর্যন্ত হারাতে পারেন ৷’

    পশ্চিমবঙ্গ কেমিস্ট এবং ড্রাগ অ্যাসোশিয়েসনের জেনারেল সেক্রেটারি জানিয়েছেন, ‘সমস্যার তো এবার শুরু হবে ৷ জিএসটি-এর নিয়ম অনুযায়ী বিক্রির জন্য সমস্ত ওষুধের HSN কোড থাকতেই হবে ৷ বাস্তবে যা কার্যত অসম্ভব ৷’

    First published: