বামফ্রন্ট ৩২, এবার কী ফ্রন্টেও ভাঙন ?

২০১৬-এ ভোটের ভরাডুবির পর কুল ও মান দুই খোয়ানোর যোগাড় সিপিএমের ৷ গাছের পাখি ধরতে গিয়ে লাভ হল না। এবার হাতের পাখিও উড়তে বসেছে সিপিএমের ৷ বড় শরিকের চাপে জোট মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বামফ্রন্টের বাকি শরিকরা। ভরাডুবির পর জোট সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা জোটের অন্দরে ৷ ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপির মতো শরিকদলের দলের কি এবার জবাব চাওয়ার পালা? সেই জবাব যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তা হলে কিন্তু সংকটের মুখে পড়তে চলেছে বামফ্রন্টের অস্তিত্বই। জোট মুখ থুবড়ে পড়ার পর এখন জোটের প্রবক্তা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সূর্যকান্তর মতো জোটে ইচ্ছুক নেতাদেরই ওপর চাপতে চলেছে সেই দায়।

আরও পড়ুন...
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: ২০১৬-এ ভোটের ভরাডুবির পর কুল ও মান দুই খোয়ানোর যোগাড় সিপিএমের ৷ গাছের পাখি ধরতে গিয়ে লাভ হল না। এবার হাতের পাখিও উড়তে বসেছে সিপিএমের ৷

    বড় শরিকের চাপে জোট মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বামফ্রন্টের বাকি শরিকরা। ভরাডুবির পর জোট সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা জোটের অন্দরে ৷ ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপির মতো শরিকদলের দলের কি এবার জবাব চাওয়ার পালা? সেই জবাব যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তা হলে কিন্তু সংকটের মুখে পড়তে চলেছে বামফ্রন্টের অস্তিত্বই। জোট মুখ থুবড়ে পড়ার পর এখন জোটের প্রবক্তা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সূর্যকান্তর মতো জোটে ইচ্ছুক নেতাদেরই ওপর চাপতে চলেছে সেই দায়।

    কেরলে বামেদের লাল ধ্বজা উড়লেও বাংলায় সবুজ ঝড়ে বিধ্বস্ত বামফ্রন্টকে নিয়ে বেশি চিন্তিত পলিটব্যুরো ৷ জোট সিদ্ধান্তের ময়নাতদন্ত ও শরিকদের জবাবদিহি থেকে বাঁচতে বৈঠকই পিছিয়ে দিলেন সীতারাম ইয়েচুরি ৷ পশ্চিমবঙ্গে জোট জিতলে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য ২২ থেকে ২৪ মে অবধি তিনদিনের বৈঠক ডেকেছিল পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটি ৷ সেই বৈঠক এখন ভরাডুবির পর শুধুই ময়নাতদন্তের অপারেশন টেবিল ৷

    পলিটব্যুরোয় কংগ্রেসের হাত ধরার তীব্র বিরোধিতা করেছিল কেরল ও ত্রিপুরা। কেরলে জয়ের পর এনিয়ে পলিটব্যুরোতেও চাপ বাড়তে চলেছে সূর্যকান্তদের ওপর। জোটের কৌশল নিয়ে পর্যালোচনার দাবি তুলেছেন প্রকাশ কারাটের অনুগামীরা ৷

    মতাদর্শ গত ভাবে বিপরীত মেরুতে রয়েছে দুই দল। তারপরও শুধু তৃণমূলকে হারাতে জোট কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন তুলেছিলেন শরিক নেতারা। মতাদর্শ গত ভাবে বিপরীত মেরুতে রয়েছে দুই দল। তারপরও শুধু তৃণমূলকে হারাতে জোট কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন তুলেছিলেন শরিক নেতারা।

    left_party--3_650_051614081100

    দলের অন্দরেই জোটের ফলে তৈরি হয়েছিল বহু ক্ষোভ ৷ আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর আবারও শরিক অসন্তোষ চরমে ওঠে কংগ্রেসের চাহিদা মেনে শরিকদের আসনগুলি কীভাবে ছাড়া হলো, তা নিয়ে সরব হন শরিকনেতারা। গৃহদ্বন্দ্ব সামাল দিতে বারবার মাঠে নেমেছেন প্রবীণ পোড়খাওয়া বাম নেতারা ৷ এদিন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুর গলাতেও শোনা গিয়েছে বিরক্তির সুর ৷ বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিনে বললেন, ‘জোট হয়নি শুধু জট তৈরি হয়েছে ৷’

    বামফ্রন্টের বৈঠকে নিয়ে বিরোধীতার মুখে পড়তে হবে জেনেই জোট পর্ব চলাকালিন ফ্রন্টের বৈঠকও ডাকেননি সূর্যকান্ত মিশ্ররা। এদিকে জোটের জটে বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা কমে হয়ে গেল অর্ধেক ৷ ২০১১-এ পরিবর্তন ঝড়েও ৬২টি আসনে জিততে পেরেছিল বামেরা ৷ এবার জোট গড়েও ৩২-এ থেমে গেল ফ্রন্টের দৌড় ৷ বামফ্রন্টের এই দুরাবস্থায় ক্রুদ্ধ শরিকরা ৷ জোট সিদ্ধান্তের ব্যুমেরাংয়ে সঙ্কটে বামেদের ঘর ৷ কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ফলে আসন কেটেছে শরিকদের ৷

    Surya-Kanta-Mishra-WB.jpg.image.975.568

    ২০১১ বিধানসভা ভোটে সিপিএম পেয়েছিল ৪০টি আসন, এবারে সেই দৌড় থমকে যায় ২৬-এ ৷ গতবার আরএসপি পেয়েছিল ৭টি আসন এবারে ঝুলিতে জুটেছে মাত্র ৩টি ৷ জোটে নিমরাজি ফরওয়ার্ড ব্লকের আসন সংখ্যা নেমে এল ১১ থেকে ২-তে ৷ শরিক সিপিআই দুইয়ের বদলে এবার পেয়েছে একটি আসন ৷

    এরকম ভরাডুবিতে বিক্ষুব্ধ সমস্ত বাম শরিক ৷ তাদের দাবি, বাংলায় বামেদের ঘাড়ে চেপে নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিল কংগ্রেস কিন্তু কংগ্রেসের ভোট আসেনি বামেদের ঝুলিতে ৷ ইয়েচুরি প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যে রণকৌশল নেওয়া হয়েছিল, তার পর্যালোচনা করে দল প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেবে। বামেদের জন্য এটা ধাক্কা। যার চেষ্টা হয়েছিল, তা হল না কেন, এর গুরুতর সমীক্ষা হবে।’

    এত কিছু সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি সূর্যকান্ত মিশ্র ৷ ডাক্তারবাবুর আশা, বলছেন, ‘পরাজয় মানেই পশ্চাদপসরণ নয়। একটা যুদ্ধ হেরে গিয়েছি। কিন্তু লড়াইটা জারি আছে!’ যদিও নিজে হেরে, দলের হারের দায় ঘাড়ে নিয়ে সূর্যকান্তর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে।

    আর সিপিএম? বৃহত্তম বাম শরিকের সংকটও কিছু কম নয়। রাজ্য রাজনীতিতে আদৌ আর প্রাসঙ্গিক থাকছে সিপিএম? আসন সংখ্যার নিরিখে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে। আগামী দিনে কোন লক্ষ্যে হাঁটবে দল, তারও দিশা নেই সিপিএম নেতৃত্বের কাছে। দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়ে আগামী পাঁচ বছরেও কি ফিরে আসা সম্ভব ৷

    First published:

    Tags: Election Results, ETV News Bangla, Left Front, Sitaram Yechuri, Suryakanta Mishra, West Bengal Assembly Election 2016