ঋণের চক্রফাঁসে হাঁসফাঁস রাজ্যের, কেন্দ্র ও বাম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ অমিত মিত্রের

যত দিন যাচ্ছে আরও চেপে বসছে ঋণের ফাঁদ। ঋণ শোধ করতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে কেন্দ্র।

যত দিন যাচ্ছে আরও চেপে বসছে ঋণের ফাঁদ। ঋণ শোধ করতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে কেন্দ্র।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: যত দিন যাচ্ছে আরও চেপে বসছে ঋণের ফাঁদ। ঋণ শোধ করতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের অনুমোদন মিললেই ঋণ পায় রাজ্য। সেকথা মনে করিয়েই অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের দাবি, রাজ্যে ঋণভারের দায় তাই ঝেড়ে ফেলতে পারে না কেন্দ্র।

    রাজ্যের ঋণভার ‘লঘু’ করে দেখছে কেন্দ্র, আক্ষেপ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রর ৷ তিনি বলেন,  ‘গ্রিস সহ বিভিন্ন দেশের ঋণ পরিকাঠামো ঠিক করতে ৬৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র কিন্তু নিজেদের অঙ্গরাজ্যের ঋণ শোধে বিষয়টি লঘু করে দেখছে কেন্দ্র, এটা দুঃখজনক ৷’

    বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যেভাবে রাজ্যের ঋণ মকুবের দাবি খারিজ করেছেন, সেই প্রসঙ্গ তুলেই সরব হলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। বললেন, ‘দিনে দিনে সংকটের পথে যাচ্ছে রাজ্য ৷ গত ৫ বছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ যার মধ্যে ৯৪ হাজার কোটি টাকা৷ বাম আমলের ঋণের সুদ ও আসল শোধ করতেই চলে গিয়েছে ৷ ’

    না ইউপিএ। না এনডিএ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন বারবার ঋণ মকুবের দাবি করলেও কান দেয়নি কেন্দ্র। বাম আমলের করা ঋণের সেই দায় নিতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনকে। তাই  ‘গলায় পাথর ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে বাম সরকার ৷ সেই জন্যই রাজ্যের এই অবস্থা ৷ ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা ৷ ২০২১ সাল পর্যন্ত তা আমাদের শোধ করতে হবে ৷ আমাদের রাজ্য ঋণগ্রস্থ বামেদের জন্যই ৷ সেই ঋণ শোধ করতেই আমাদের ফের ঋণ নিতে হচ্ছে ৷’

    ক্ষমতার বাইরে গিয়ে রাজ্যগুলির ঋণ করা উচিত নয়। রাজ্যগুলোকে এই পরামর্শও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নাম না করলেও পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব ও কেরলের প্রতিই ছিল জেটলির এই মন্তব্য। যার পাল্টা অমিতের দাবি, এই ঋণের দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্রও। ‘লোকসভায় জেটলি যা বলেছেন আমরা মর্মাহত ৷ ঋণ শোধ নিয়ে যা বলেছেন বাংলার মানুষ মর্মাহত ৷ রাজ্য যখন ধার করে তখন কেন্দ্রের অনুমোদন লাগে ৷ সেই অনুমোদন কেন্দ্রই দিয়েছে ৷ তাই আমরা জেটলির কথায় আশ্চর্য হয়েছি ৷’

    ২০২১ সালের মধ্যে সুদ-আসলে শোধ দিতেন হবে ২ লক্ষ ৫৩ হাজার কোটি টাকা ৷ গত ৫ বছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া নেয় রাজ্য ৷ এর মধ্যে ৯৪ হাজার কোটি ঋণের কিস্তি ও সুদে চলে যাচ্ছে ৷ অর্থমন্ত্রীর আক্ষেপ,  ‘ঋণ শোধ করতে না হলে রাজ্যের উন্নয়নে গতি আসত ৷ এক নম্বরে পৌঁছে যেত পশ্চিমবঙ্গ ৷ কেন্দ্র শুধু দেখেই যাচ্ছে, আর অভিযোগ করছে ৷ অরুণ জেটলি কী এইসব তথ্য জানেন না? মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন সত্ত্বেও কোনও ফল হয়নি ৷’

    ঋণের চক্রবৃদ্ধি ফাঁদ। কেন্দ্র ও বাম সরকারের এই বেড়াজাল থেকে বেরতে তাই আরও তারও মরিয়া রাজ্য সরকার।
    First published: