corona virus btn
corona virus btn
Loading

এবারের ভোটে সোনাগাছির অপশন ‘NOTA’!

এবারের ভোটে সোনাগাছির অপশন ‘NOTA’!

সন্ধে নামে, চড়া মেকআপ আর সস্তার সাজে নিজেকে সাজিয়ে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলোর নীচে খদ্দেরের খোঁজে ভিড় জমায় ওরা ৷ একের পর এক নির্বাচন আসে আর চলে যায় ৷ বদলে যায় পার্টির রঙ ৷ কিন্তু বদলায় না ওদের অবস্থা ৷ ওরা‘যৌন কর্মী’৷ আমাদের সমাজের মধ্যে বেড়ে চলা সমান্তরাল এক দুনিয়ার বাসিন্দা ওরা ৷

  • Share this:

#কলকাতা: সন্ধে নামে, চড়া মেকআপ আর সস্তার সাজে নিজেকে সাজিয়ে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলোর নীচে খদ্দেরের খোঁজে ভিড় জমায় ওরা ৷ একের পর এক নির্বাচন আসে আর চলে যায় ৷ বদলে যায় পার্টির রঙ ৷ কিন্তু বদলায় না ওদের অবস্থা ৷ ওরা‘যৌন কর্মী’৷ আমাদের সমাজের মধ্যে বেড়ে চলা সমান্তরাল এক দুনিয়ার বাসিন্দা ওরা ৷

‘কর্মী’হলেও ওদের কর্মের স্বীকৃতি দিতে এখনও ইচ্ছুক হয়নি কোনও সরকারই ৷ একের পর এক নির্বাচন আসে আর চলে যায় ৷ পরিবর্তন হয় সরকারের ৷ কিন্তু বদলায় না যৌনকর্মীদের অবস্থা ৷ নিজেদের নূন্যতম চাহিদাগুলির দাবি বারবার জানিয়েও সরকারের তরফ থেকে প্রত্যাখানের বেশি কিছুই পাননি তারা ৷ কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দল নয় নিজের অধিকারের দাবিতে বিশ্বাসী সোনাগাছির অনেক যৌনকর্মী তাই এবার‘নোটা’প্রয়োগে ইচ্ছুক ৷

আরও এক নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কলকাতা ৷ ভুলে যাওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ঝালিয়ে নিয়ে ভোটের ঝুলি হাতে আবার দোরগোড়ায় হাজির রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা ৷ কিন্তু এবার আর তাদের মুখের কথায় ভুলছেন না যৌনকর্মীরা ৷ নিজেদের অধিকার চেয়ে সোচ্চার হলেন সোনাগাছির এই বাসিন্দারা ৷ সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশ্যেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁরা ৷ নিজেদের ক্ষোভ উগরে তাঁরা জানালেন, বহু বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসা সত্ত্বেও এখনও সাধারণ নাগরিক হওয়ার সম্মান এবং সুযোগ-সুবিধাটুকুও পায়নি তাঁরা ৷

sonagachi - Copy

কলকাতায় প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার যৌনকর্মী প্রতিনিয়ত সমাজের অবহেলা ও বঞ্চনার সঙ্গে লড়াই করছেন ৷ কয়েক বছর আগে পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকারও ছিল না ৷ অর্থ সঞ্চয়ের জন্য কোনও ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগও ছিল না ৷ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও দুর্বার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে যৌনকর্মীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০০৭ সালে নির্বাচন কমিশন তাদের ভোটার লিস্টে নাম তোলার দাবি মেনে নেন ৷ তা সত্ত্বেও এখনও এই সামান্য গণতান্ত্রিক অধিকারটুকুও পেয়েছেন সোনাগাছির হাতে গোণা কিছু যৌনকর্মী ৷

INDIAFILE2_2464150g

ভোটার কার্ডে নাম রয়েছে এমন যৌনকর্মী মহিলাদের কাছে, নতুন সরকারের কাছে কী দাবি রাখবেন? প্রশ্নটা করতেই কোরাসে ধেয়ে এল একের পর এক ক্ষোভে ভরা উত্তর ৷ কেউ বললেন কী হবে? প্রতিবারই তো ঝুড়ি ঝুড়ি প্রতিশ্রুতি শুনি ৷ তাঁর কোনওটাই পূরণ হয় না ৷ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নিষিদ্ধ এলাকা সোনাগাছির যৌন কর্মী পূর্ণিমা চ্যাটার্জি এবং কাজল ঘোষ জানালেন, ‘সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদেরও সরকার সুবিধে দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের দিচ্ছে না ৷’ আগের মতো নতুন সরকারের কাছেও তাদের একই দাবি ৷ একজন পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াই তাদের লক্ষ্য ৷ দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের সরকারি শ্রমতালিকায় কর্মী হিসেবে নথিভুক্তকরনের দাবি তাঁরা আগামী সরকারের কাছেও রাখবেন ৷

durbar

এছাড়া সবার আগে ‘আইটিপিএ’ আইনের যৌনকর্মীদের স্বার্থবিরোধী ধারাগুলি বিলোপ করার আবেদন রাখবেন তাঁরা ৷ এই আইনের জন্য কোনও বাড়িওয়ালা তাদের বাড়ি ভাড়ার রসিদ দেন না ৷ যার ফলে বাসস্থানের ঠিকানার কোনও প্রমাণ পত্র থাকে না ৷ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, ফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে যা প্রধান বাধা ৷ একই সঙ্গে এই আইন যৌনকর্মীদের সন্তানদেরও স্বার্থ বিরোধী ৷ এই আইন অনুযায়ী দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের সন্তান ১৮ বছর বয়সের পর আর তাদের মায়ের অর্থ ভোগ করতে পারবে না ৷ এখানকারই একজন যৌনকর্মীর সন্তান পূজা, আইনের এই ধারার বিরোধীতা করে নিজের ক্ষোভ উগরে জানান, ‘১৮ বছর বয়সী আর পাঁচটা মেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যখন কলেজে ভর্তি হচ্ছে, তখন আমাদের বলা হচ্ছে তোমরা আর তোমাদের মায়ের থেকে  অর্থনৈতিক সাহায্য নিতে পারবে না ৷ তাহলে আমাদের চলবে কি করে? ঘুরপথে কি আবার আমাদের এই দেহব্যবসার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না?’ সমস্যা তো অনেক কিন্তু সমাধান হয়েছে হাতে গোণা ৷

অন্যদিকে নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার কথায়, ‘তৃণমূলের পক্ষ থেকে যৌনকর্মীদের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে যার নাম ‘মুক্তির আলো’ ৷ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করেছেন ৷ এই প্রকল্প অনুযায়ী, এখানে তাদের নাচ, গান, অভিনয় শেখানো হয় ৷ যাতে মহিলারা নাটক, সিনেমা বা অন্য কোনও কেরিয়ারে এগিয়ে যেতে পারেন ৷’

রাজনৈতিক পার্টিগুলির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লেও লড়াই করে পাওয়া ভোটাধিকার তাঁরা অবহেলায় নষ্ট করতে চান না তাও স্পষ্ট করলেন যৌনকর্মীরা ৷ কোনও রাজনৈতিক দলকে যদি পছন্দ নাও হয়, তাহলে ভোটের দিন গিয়ে অন্তত ‘নোটা’অপশন বেছে নেওয়ার কথাও জানালেন অনেকে ৷

First published: April 19, 2016, 8:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर