corona virus btn
corona virus btn
Loading

উদ্যোগের কোনও স্বীকৃতি নেই, তবু ‘সবুজ তিলোত্তমা’ই স্বপ্ন অকুতোভয় অমিত হাজরার

উদ্যোগের কোনও স্বীকৃতি নেই, তবু ‘সবুজ তিলোত্তমা’ই স্বপ্ন অকুতোভয় অমিত হাজরার
অমিত হাজরা
  • Share this:

#কলকাতা: সামান্য সাড়ে আট হাজার টাকার মাইনে ৷ আর তাতেই কেটে গেল চাকরিজীবনের চল্লিশটা বছর ৷ উত্তর কলকাতার একটা ভাড়া বাড়িতে বাস ৷ সে বাড়ির অবস্থাও যথেষ্ট শোচনীয় ৷ এভাবে চললে কারই বা ভাল লাগে ৷ কিন্তু হতাশায় কখনও ডুবে যাননি ষাটোর্ধ্ব অমিত নাথ হাজরা ৷ তাঁর জীবনে একটাই শখ , শহরকে সবুজ রাখা ৷

গিরীশ পার্ক অঞ্চলের প্রাচীন জেলিয়াটোলার বাসিন্দা ‘বাবলুদা’ গত ৪০ বছর ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়ে আসছেন ৷ সবুজায়ন নিয়ে অনেক সচেতনতা প্রচার করেও লাভ হয় না ৷ শহরের এখানে-ওখানে প্রায় সর্বত্রই যথেচ্ছ গাছ কাটার ট্রেন্ড এখনও চলছে ৷ চরম দারিদ্রতাই যার সম্বল, সেই ব্যক্তি কিন্তু বাড়তি রোজগারের চেষ্টায় কখনই অন্য কোনও পথ বেছে নেননি ৷ বরং ফোকাস করেছেন নিজের শখেই ৷ খুঁজে নিয়েছেন বাঁচার অন্য মানে ৷ সবুজ তিলোত্তমার স্বপ্নই দেখেন তিনি ৷ আর সেটা গত কয়েকবছর ধরে নয়, পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের আগের থেকে ৷

Amit-Nath-Hazra-279x420

অভাবের সংসারে অন্য কোনও শখ রাখা যে কারোর পক্ষেই কঠিন কাজ ৷ কিন্তু অমিতবাবু নাছোড়বান্দা ৷ অনেক সমস্যা সহ্য করতে হলেও তিনি হাল ছাড়েননি ৷ অফিস থেকে ফেরার পথে হোক কিংবা অবসর সময় ৷ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছের চারা লাগানোর কাজ নিয়মিত করে গিয়েছেন তিনি ৷ ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে গাছ লাগানোর কাজ শিখলেও মাঝেমধ্যেই স্কুল কেটে চলে যেতেন শহরের বিভিন্ন বাগানে এবং পার্কে ৷ বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে ধারণা জন্মায় সেখান থেকেই ৷ এই কাজ শুধুমাত্র কলকাতা এবং হাওড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন নি ৷ উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে রাজধানী দিল্লি যেখানেই ঘুরতে গিয়েছেন, সঙ্গে করে গাছ নিয়ে গিয়েছেন অমিতবাবু ৷

শহর হবে সবুজে ভরা ৷ সেই গাছের ছায়ায় মানুষ দু’দণ্ড বসবেন, পাখিদের কলকাকলিতে ভরে উঠবে এলাকা ৷ এই স্বপ্নকে সার্থক করতে সাতের দশকের শেষ থেকেই নিজের বাড়ির কাছে গণেশ টকিজ থেকে সিমলা ব্যায়াম সমিতি পর্যন্ত চারাগাছ লাগানো শুরু করেন তিনি ৷ এই কাজে অনেক বাধাও পেয়েছেন অমিতবাবু ৷ তাঁর লাগানো প্রচুর সংখ্যায় গাছ উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে ৷ কখনও কোনও দোকানদার তাঁর দোকান ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আবার কেউ বা তাঁর বাড়ির সামনের দিকটা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, এই দোহাই দিয়ে গাছ কেটে ফেলেছে ৷ এমনকী, গভীর রাতে সকলের অজান্তে কয়েকশো গাছে আগুন লাগিয়ে ধ্বংসও করে দিয়েছে ওই এলাকার মানুষ বলে অভিযোগ অমিতনাথের ৷

Kolkata-Tree-Lover-Amit-Nath-Hazra-279x420

শুধু চারাগাছ পোঁতাই নয় ৷ সেইসঙ্গে বেড়া দিয়ে অঞ্চলটি বাঁধানো জাল দিয়ে ঘেরার জন্য প্রচুর টাকা খরচ হয় ৷ সেই গাছগুলির বেড়া ভাঙা থেকে শুরু করে শিকড় থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়ার মতো জঘন্য ঘটনা তাঁর মনকে ক্ষতবিক্ষত করে বলে দুঃখপ্রকাশ করেন অমিতবাবু ৷ এমনকী, তাঁর নিজের বাড়িতে লাগানো গাছও ভাড়াটেরা অনেক সময় উপড়ে ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ অমিতনাথের ৷

হাওড়ার একটি বেসরকারি সংস্থায় ভাড়া সংগ্রহের কাজ করেন তিনি ৷ মাইনে পান খুবই সামান্য ৷ শহরের সবুজায়নের স্বার্থে বছরের পর বছর এত কাজ করেও কখনও সেভাবে কোনও স্বীকৃতি পাননি অমিতবাবু ৷ তাঁর কাছে গাছই নেশা, গাছরাই যেন তাঁর সন্তান ৷ স্ত্রী-র টিউশন থেকে উপার্জিত টাকা ধার করেই নার্সারি থেকে অনেকসময়েই বিভিন্ন গাছের চারা কিনেছেন ৷ কারণ তাঁর একটাই বার্তা, আগে পরিবেশ বাঁচান, তাহলেই আপনি বাঁচবেন ৷ নিজের জন্য প্রত্যেকেই যেমন যত্নশীল, কিন্তু সবুজায়নের ব্যাপারে অনেকেই খুব উদাসীন ৷ এর বদল না ঘটলে কিন্তু ঘোর বিপদ অপেক্ষা করছে বলেই মত অমিতনাথের ৷

আরও দেখুন-

First published: September 22, 2019, 4:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर