কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা কালে স্বচ্ছতাতেই জোর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের    

করোনা কালে স্বচ্ছতাতেই জোর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের    

বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বারবার এই পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করে চলছেন। যে সমস্ত চিকিৎসকরা সমুদ্রে গিয়ে ক্রু'দের পরীক্ষা করছেন তাদেরকেও নানা রকম পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।

  • Share this:

করোনা কালে স্বচ্ছতায় জোর দিচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাই অন্যান্য বছর স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও, এবার বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে স্বচ্ছতার প্রশ্নে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন বন্দর চেয়ারম্যান বিনীত কুমার। ডকের প্রতি কোণে যথাযথ ভাবে স্যানিটাইজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় ডক পরিষ্কার রাখতে বলা হয়েছে।

কর্মীদেরকে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য বিধি র সমস্ত প্রটোকল মেনে চলতে। করোনা সচেতনতায় এবার বন্দর প্রস্তুত করে ফেলেছে তাদের নিজস্ব আইসোলেশন ওয়ার্ড। বন্দর হাসপাতালে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের। মাঝেরহাটে কলকাতা বন্দরের রয়েছে নিজস্ব হাসপাতাল। সেই হাসপাতালের তিন তলায় প্রস্তত করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। আট শয্যার এই আইসোলেশন ওয়ার্ড জুড়ে থাকছে, সমস্ত আধুনিক ব্যবস্থা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভেন্টিলেটর, বাইপ্যাপ, সাকশন, নেবুলাইজার সহ বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থা।

বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বারবার এই পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করে চলছেন। যে সমস্ত চিকিৎসকরা সমুদ্রে গিয়ে ক্রু'দের পরীক্ষা করছেন তাদেরকেও নানা রকম পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। অন্যদিকে রিমাউন্ট রোডে কলকাতা বন্দরের তরফে তৈরি করা হয়েছে একটি কোয়ারেনটাইন। রিমাউন্ট রোডে কলকাতা বন্দরের একটি অফিসে ১২ শয্যা তৈরি করে রাখা হয়েছে। আলাদা শৌচালয়, আলাদা রান্নাঘর সমস্ত কিছু তৈরি করে রাখা হয়েছে। বন্দর সূত্রে খবর, তারাতলায় এরকম একটি ফ্ল্যাট দেখা হয়েছে, যেখানে এই ধরনের অপর একটি কোয়ারেন্টাইন তৈরি করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বন্দরে জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। তার জেরেই সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আছে কলকাতা বন্দরে। খিদিরপুর ও হলদিয়া বন্দরে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিকাঠামো মান উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে খিদিরপুর বন্দরে আসে ১২টি বিদেশি জাহাজ। হলদিয়া বন্দরে আসে প্রায় ১৬টি বিদেশি জাহাজ। বন্দর সূত্রে খবর প্রতি জাহাজে কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ জন করে ক্রু থাকে। এই সমস্ত ক্রু'দের পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে থারমাল স্ক্যানার। খিদিরপুর ডক ও হলদিয়াতে থাকছে থারমাল স্ক্যানার। কলকাতা বন্দর সূত্রে খবর আপাতত থারমাল স্ক্যানার দিয়ে প্রত্যেক ক্রু'কে পরীক্ষা করা হবে। আরও স্ক্যানার নিয়ে আসা হচ্ছে। এই সমস্ত থারমাল স্ক্যানারগুলি সব কটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। যাকে পরীক্ষা করা হবে তার শরীরে ছোঁয়াতে হবে না। খানিকটা দুর থেকেই দেহের তাপমাত্রা মাপা সম্ভব। তাই বন্দর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাহাজ জেটি বা ডেকে ভেড়ানোর পরই স্বাস্থ্য কর্মী'রা থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে আগে পরীক্ষা করবেন। যদি কোনও অসুস্থ ব্যক্তি পাওয়া যায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হবে। তার আগে জাহাজ থেকে কাউকে নামতে দেওয়া হবে না।

ইতিমধ্যেই কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে এই বিষয়ে কথা বলে রেখেছে কলকাতা বন্দর। হলদিয়াতে বন্দরের যে নিজস্ব হাসপাতাল আছে তাতে তৈরি করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৩৫০ জনকে খিদিরপুর ও হলদিয়া বন্দরে পরীক্ষা করা হবে। যে সমস্ত কর্মী এই কাজ করবেন তাদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বুধবার সকালেই এসেছে অতিরিক্ত ১০০০ গ্লাভস ও মাস্ক। এছাড়া যার মাল ওঠানো নামানোর কাজ করেন তাদের জন্যেও থাকছে গ্লাভস ও মাস্ক। বিদেশ থেকে আসা জাহাজের পাশাপাশি নজরদারি থাকছে ভারতের উপকূল থাকা জাহাজগুলির ওপরও। বিশেষ করে যে সমস্ত জাহাজ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা চিনের কোনও বন্দর ঘুরে কলকাতা আসছে। বন্দর সূত্রে খবর সেই সমস্ত জাহাজের তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলে সমস্ত বন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে এই বিশেষ স্বচ্ছতার কাজ। আর গোটা বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহন মন্ত্রক নজরদারি করছে দিল্লি থেকে। অন্যদিকে বন্দরের পক্ষে স্বস্তির খবর নতুন করে তাদের আর কেউ আক্রান্ত হননি।

ABIR GHOSAL

Published by: Arindam Gupta
First published: September 17, 2020, 10:02 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर