করোনার প্রভাব! বিষ বাতাস উধাও, কার্যত দূষণমুক্ত কলকাতা

করোনার প্রভাব! বিষ বাতাস উধাও, কার্যত দূষণমুক্ত কলকাতা

করোনা ভাইরাসের ব্যাপক রূপ ধারণ করার আগে একটার পর একটা জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে সরকার। রবিবার দেশজুড়ে পালন করা হয়েছে জনতার কার্ফু।

  • Share this:

এত নীল আকাশ বহুদিন দেখেনি কলকাতা। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে নেমে দূষণমুক্ত আমাদের প্রিয় শহর। পরিবেশ দফতরের সূচক বলছে, দূষণের মাত্রা ইদানিংকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত দুদিন ধরে যে সূচি রেকর্ড হয়েছে, তা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের অনেক নিচে।

করোনা ভাইরাসের ব্যাপক রূপ ধারণ করার আগে একটার পর একটা জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে সরকার। রবিবার দেশজুড়ে পালন করা হয়েছে জনতার কার্ফু। সোমবার বিকেল থেকে শুক্রবার রাত বারোটা পর্যন্ত লকডাউন। ৩১ তারিখ পর্যন্ত চলবে না কোনও ট্রেন। বন্ধ সরকারি-বেসরকারি অফিস, বন্ধ গণপরিবহন। স্বাভাবিক ভাবেই স্তব্ধ জনজীবন।

এর প্রভাব পড়েছে পরিবেশেও। রবিবার থেকেই কলকাতার বায়ু দূষণের মাত্রা অত্যন্ত কম। ন্যাশনাল এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স অনুযায়ী 'ভালো'(good)এর মধ্যে পড়ছে কলকাতা। অন্তত সোমবার বেলা ১২ টায় শহরের দূষণ মাপার যে স্টেশনগুলো রয়েছে তার পরিসংখ্যান সেইরকমই বলে। এ দিন বেলা ১২টায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার ইন্ডেক্স ছিল ৩৫(pm 2.5)। একই সঙ্গে সোমবার যাদবপুরের দূষণের মাত্রা ও ছিল একই রকম। বেলা ১২ টায় সেখানকার ইনডেক্স ছিল ৩৫(pm 2.5)। এই দুই জায়গায় শহরের মধ্যে বাতাসের অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার মাত্রা ছিল সবচেয়ে কম।

পাশাপাশি কলকাতা শহরের সব থেকে দূষণের মাত্রা বেশি থাকা এলাকা হল রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে বেলা বারোটার ইনডেক্স ছিল 42(pm 2.5)। বালিগঞ্জও কলকাতার বায়ু দূষণ মানচিত্রের সব সময় উপরের দিকেই থাকে। এদিন সেখানের দূষণের মাত্রা ছিল 40(pm 2.5)। রবীন্দ্র সরোবরে দূষণের মাত্রা সোমবার বেলা 12 টায় ছিল 39(pm 2.5)।  পাশাপাশি বিধাননগরের বায়ু দূষণের মাত্রা ছিল 41(pm 2.5)।

দূষণের মাত্রা ব্যাপক ভাবে কম হওয়ার কারণ হিসেবে  করোনা ভাইরাসের জন্য মানুষের বাড়িতে থাকাকেই  বলছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের ব্যাখ্যা, অফিস কাছারি বন্ধ। বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না সাধারণ। গণপরিবহন ব্যবস্থাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তার ফলে যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলো থেকে বাতাস যে পরিমাণ দূষিত হয় তার এক শতাংশও হচ্ছে না। পাশাপাশি আর একটা বড় কারণ হলো রাস্তার ধারে খাবারের দোকান গুলো থেকে তৈরি হওয়া দূষণ। সেগুলো এখন সব বন্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই দূষণ এইমাত্রায় কমেছে শহরে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এক কর্তা বলেন, 'যা ঘটে তার সবটাই খারাপ হয় না। করোনাভাইরাস আমাদের কাছে অভিশাপ। কিন্তু তার ফলে পরিবেশের যে ব্যাপক উন্নতি ঘটছে তাতে লাভবান হবেন সকলেই।'

First published: March 23, 2020, 5:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर