দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকাই আসল ধর্ম, বোঝালেন কলকাতা পুলিসের অফিসার

অচেনা অতিথিকে সাহায্য করতে ঝাঁপিয়ে মানবিকতার নজির রাখলেন তিনি।

অচেনা অতিথিকে সাহায্য করতে ঝাঁপিয়ে মানবিকতার নজির রাখলেন তিনি।

  • Share this:

    #কলকাতা: আফ্রিকা থেকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বোন ম্যারো ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন কেনিয়ার দম্পতি এডওয়ার্ড ওনান্টওয়া ওয়েন্দো এবং ভেন কোয়াম্বকা ওন্দারা। বেলেঘাটার একটি গেস্ট হাউজে গত দু'মাস ধরে ছিলেন তাঁরা। এডওয়ার্ডের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতেই মূলত তাঁদের কলকাতায় আসা।

    কিন্তু এই চিকিত্সার খরচ অনেক। আবার সময়সাপেক্ষও বটে! ফলে খরচের হিসেব শুনে মাথা ঘুরে যায় কেনিয়ার দম্পতির। একদিকে অসুস্থ স্বামী। আরেকদিকে খরচ ও সময়, এডওয়ার্ডের স্ত্রী ভেন বুঝতে পারছিলেন না, কী করবেন! ফলে একটা সময় পর অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা ছাড়া তাঁদের কাছে আর উপায় ছিল না। হাতের টাকার টান এতটাই যে চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দৈনন্দিন থাকা-খাওয়ার খরচটুকুও আর তাঁদের কাছে ছিল না। এদিকে আবার ভিসার মেয়াদও ফুরিয়েছে। চরম বিপদের মুখে পড়েন তাঁরা। তার উপর বিদেশ বিঁভুইয়ে কী করবেন, কার কাছে সাহায্য চাইবেন তাও বুঝতে পারছিলেন না ওই দম্পতি।

    ওই দম্পতির সমস্যার কথা জানতে পারেন বেলেঘাটা থানার তৎকালীন সাব-ইনসপেক্টর (বর্তমানে অ্যাডিশনাল ওসি) অমিতাভ চক্রবর্তী। তিনি ওই দম্পতির পাশে দাঁড়াবেন বলে ঠিক করেন। সরাসরি যোগাযোগ করেন এডওয়ার্ডের স্ত্রী যেখানকার কর্মী, সেই কেনিয়ান ডাক বিভাগের সঙ্গে। অস্থিমজজা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান হয়। এর পর অমিতাভবাবুই ওই দম্পতির থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এমনকী তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। এডওয়ার্ডের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন হলে এডওয়ার্ডের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনকটাই। আশাবাদী চিকিৎসকরা। অতিথি দেব ভবঃ। এটাই তো এদেশের মন্ত্র। এটা যে স্রেফ কথার কথা নয়, তা অমিতাভ চক্রবর্তী উপলব্ধি করেছিলেন হয়তো। দুঃসময়ে দুজন অচেনা অতিথির পাশে থেকে মানবিকতার নজির রাখলেন কলকাতা পুলিসের এই অফিসার।

    Published by:Suman Majumder
    First published: