corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে আধপেটা খাবারই জুটছিল সুকুরের, হেল্থ ড্রিঙ্ক ও ফ্রুট জুস পেয়ে মুখে ফিরল চওড়া হাসি 

লকডাউনে আধপেটা খাবারই জুটছিল সুকুরের, হেল্থ ড্রিঙ্ক ও ফ্রুট জুস পেয়ে মুখে ফিরল চওড়া হাসি 

প্রথমে সামাজিক দূরত্ব মেনে লাইন তৈরি করে দেওয়া হয়। সেখানে পিপিই পরে একজন পুলিশ কর্মী লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন। দেওয়া হয়েছে স্যানিটাইজার। তারপরেই সামনে রাখা বিভিন্ন টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: শেখ সুকুর আলির ঠিকানা রাজাবাজার। পরিবার বলতে কেউ নেই। মানুষের কাছে হাত পেতেই তাঁর পেট চলে। কিন্তু লকডাউন তাঁকে আরও অসহায় করে দিয়েছে। রাস্তায় তো মানুষই নেই, কার কাছে হাত পাতবেন তিনি! অগত্যা এক বেলা খেয়ে কিংবা না খেয়েই দিন গুজরান করছিলেন তিনি।

তবে মঙ্গলবার দিনটা তাঁর কাছে স্মরণীয়ই।কারণ দীর্ঘদিন আধপেটা থাকার পর আজ তাঁর কাছে কম করে এক সপ্তাহের খাবার চলে এসেছে। খাবার দিয়েছে পুলিশ। তাও যে-সে খাবার নয়। এমন খাবার যা তিনি কোনও দিন মুখেই দেননি, সেই খাবারও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। অর্থাৎ চাল, ডাল, নুন, তেল ছাড়াও তাঁকে দেওয়া হয়েছে হেল্থ ড্রিঙ্ক ও ফ্রুট জুস।

বিশেষভাবে সক্ষম সুকুর আলির আজীবনের ভরসা তাঁর ছ'চাকার গাড়ি। এ কোনও বিলাসবহুল গাড়ি নয়। তাঁর চলাফেরার সুবিধার জন্য কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি এই গাড়ি। যা বল-বিয়ারিংয়ের চাকায় চলে। তাতেই কোনওরকমে বসে হাত দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে এগিয়ে চলেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজাবাজারের কনটেইনমেন্ট জোনের বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করেছিল কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। শিয়ালদহ ও বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডের উদ্যোগে রাজাবাজারের বাসিন্দাদের খাবার তুলে দেওয়া হয়।

প্রথমে সামাজিক দূরত্ব মেনে লাইন তৈরি করে দেওয়া হয়। সেখানে পিপিই পরে একজন পুলিশ কর্মী লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন। দেওয়া হয়েছে স্যানিটাইজার। তারপরেই সামনে রাখা বিভিন্ন টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে।

সেখানে টেবিলে রাখা রকমারি শুকনো খাবারের প্যাকেট। কী নেই তাতে! চাল, ডাল, নুন, তেল, চিনি, আলু, হেলথ ড্রিঙ্ক ও জুস৷

সুকুর আলি বিশেষভাবে সক্ষম হলেও তিনিও সামাজিক দূরত্ব মেনেই খাবার নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ছোট্ট গাড়ি নিয়ে লাইন দিয়েছিলেন রাজাবাজারে। চাইলে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে লাইন টপকে আগে যেতেই পারতেন। কিন্তু তিনি নিয়ম মেনেছেন। লাইনের সঙ্গেই তিনিও এগিয়েছেন। তাপমাত্রা পরীক্ষা করিয়েছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেছেন। তারপরেই খাবার রাখা টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। তবে সেখানে গেলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মীই তাঁকে সব খাবারের পাকেটগুলি এগিয়ে দেন। তারপর সেই ছোট্ট গাড়িতেই সব খাবার নিয়ে একহাত দিয়ে গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে এগিয়ে যান বাড়ির দিকে। সুকুর আলী বলেন, "আমি খুব খুশি এতদিন পর খাবার পেয়ে। এতে আমার অনেক দিন চলবে। পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"

রাজাবাজারের কনটেইনমেন্ট জোনের ১০০ জন বাসিন্দাকে এদিন ত্রাণ হিসেবে বিভিন্ন শুকনো খাবার তুলে দেয় পুলিশ। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অলোক সান্যাল বলেন, "কনটেইনমেন্ট জোনে যারা কার্যত ঘর বন্দি রয়েছেন, খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না, তাদেরই এই খাবারগুলি তুলে দেওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন জায়গাতেই মানুষকে খাবার দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে।"

Published by: Arindam Gupta
First published: May 6, 2020, 4:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर