corona virus btn
corona virus btn
Loading

গাড়ি খারাপ, মাঝপথে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিল পুলিশ

গাড়ি খারাপ, মাঝপথে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিল পুলিশ

খারাপ হয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ইশিতা ও তাঁঁর পরিবারকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে।

  • Share this:

SUJOY PAL

#কলকাতা: রাত বারোটা নাগাদ অসম্ভব প্রসব যন্ত্রণা ওঠে সাউথ টাংরা রোডের বাসিন্দা ইশিতা দাসের। রাস্তায় গাড়িঘোড়া না থাকলেও অনেক কষ্টে পরিবারের লোকেরা তড়িঘড়ি একটি গাড়ি জোগাড় করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে আরজিকর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা দেয় ইশিতার পরিবার। কিন্তু কিছুদুর যেতেই ক্রিস্টোফার রোডের কাছে খারাপ হয়ে যায় সেই গাড়িটি।

প্রসব যন্ত্রনায় কাতর ইশিতাকে নিয়ে মধ্যরাতে মাঝ রাস্তায় গোটা পরিবার অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে। কারণ একদিকে যন্ত্রণা বেড়ে চলায় ছটফট করছেন ইশিতা। অন্যদিকে, যে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেটিও খারাপ হয়ে যায়। পাশাপাশি লকডাউনের জন্য রাস্তায় অন্য কোনও গাড়ি নেই। সেই অবস্থায় কীভাবে হাসপাতাল অবধি পৌঁছবেন তা নিয়ে শুরু হয় চিন্তা।

তখন গোটা বিষয়টি দেখতে পান ট্যাংরা থানার এক কনস্টেবল। ওই পরিবারের সামনে কার্যত ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন তিনি। ট্যাংরা থানার কনস্টেবল প্রসেনজিৎ পাল মধ্যরাতে অন্তঃসত্ত্বা মহিলার অসহায় অবস্থা দেখে সরাসরি থানার ওসিকে ফোন করেন। ওসির নির্দেশে নাইট ডিউটিতে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর সুদাম কোটাল থানার গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। খারাপ হয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ইশিতা ও তাঁঁর পরিবারকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে। হাসপাতালে নিয়ে তাঁকে ভর্তি করে দিয়ে সেখান থেকে চলে আসে পুলিশ। থানার এই ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ওই পরিবারটি।

ইশিতা দাসের শ্বশুরবাড়ি মানিকতলা এলাকাতে হলেও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কিছুদিন পর থেকে সাউথ ট্যাংরা রোডে তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন তিনি। বুধবার মধ্যরাতে অসম্ভব যন্ত্রণা ওঠায় চিন্তায় পড়ে গোটা পরিবার। কীভাবে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হবে? কোথা থেকে গাড়ি মিলবে? তা নিয়ে শুরু হয় প্রাথমিক উদ্বেগ।পরবর্তীতে গাড়ি পেলেও মাঝপথে সেটি খারাপ হয়ে যাওয়ায় যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের। তাঁদের বক্তব্য, "সেই মুহূর্তে পুলিশের সাহায্য না পেলে কি হত তা কল্পনা করা যাচ্ছে না।" পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসার পর হাসপাতালের তরফ থেকে পরীক্ষা করার পর পরিবারকে জানানো হয়েছে, এখনই তাঁর অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন নেই। এরপর পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে ওই অন্তঃসত্ত্বাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে ঘোষিত লকডাউনের জন্য আপাৎকালীন পরিস্থিতিতে কোথাও যেতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাস্তায় কোনও ধরনের যানবাহন না থাকাতেই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইএসডি) অজয় প্রসাদ বলেন, "আমাদের কাছে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ রয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মানুষ কোনও সমস্যায় পড়লে তাঁদের সব রকম ভাবে সাহায্য করতে হবে। আমরা প্রতি মুহূর্তে সেই নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করছি।"

Published by: Simli Raha
First published: March 26, 2020, 11:51 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर