মৌলালিতে গ্রেফতার মদ্যপ পুলকার চালক, পড়ুয়াদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিল পুলিশ

মৌলালিতে গ্রেফতার মদ্যপ পুলকার চালক, পড়ুয়াদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিল পুলিশ
representative image

শিয়ালদহ ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত পুলিশ চালক কৌশিক মন্ডল নিজে সেই পুলকার চালিয়ে ১১ জন পড়ুয়াকেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তাই দিনের শেষে 'হিরো' পুলিশই

  • Share this:

#কলকাতা: ১১ জন পড়ুয়া নিয়ে আকণ্ঠ মদ্যপান করে পুলকার চালাচ্ছিল চালক। সোমবার দুপুরে স্কুল ছুটির পর ওই অবস্থায় পড়ুয়াদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে পুলকারটি বেপরোয়াভাবে যাচ্ছিল এপিসি রোড দিয়ে। শেষমেষ মৌলালি মোড়ে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্ট মানবেন্দু বিশ্বাসের নজরে পড়লে গ্রেফতার হয় পুলকার চালক। হুগলির পোলবায় পুলকার দুর্ঘটনার পরেও এই চিত্র শহরে।

মৌলালি মোড়ে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্ট মানবেন্দু বিশ্বাস মৌলালি মোড়ে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্ট মানবেন্দু বিশ্বাস

যে পরিমাণ মদ্যপান করে চালক দীনেশ শর্মা পুলকার নিয়ে যাচ্ছিল সেই অবস্থায় যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারত বড় দুর্ঘটনা। এন্টালির একটি বেসরকারি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের পড়ুয়ারা ছিল পুলকারে। তাই মদ্যপ চালককে গ্রেফতার করে কার্যত তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু পুলকার চালক দীনেশ গ্রেফতার হলে 'অসহায়' হয়ে পড়ে গাড়িতে থাকা পড়ুয়ারা। কারণ, চালক না থাকলে তাদের বাড়ি ফেরাবে কে? উদ্বিগ্ন হয়ে পরে তাদের পরিবারও। শেষমেষ তাদের বাড়ি ফেরাতে এগিয়ে আসে পুলিশই।শিয়ালদহ ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত পুলিশ চালক কৌশিক মন্ডল নিজে সেই পুলকার চালিয়ে ১১ জন পড়ুয়াকেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তাই দিনের শেষে 'হিরো' পুলিশই।

শিয়ালদহ ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত পুলিশ চালক কৌশিক মন্ডল নিজে সেই পুলকার চালিয়ে ১১ জন পড়ুয়াকেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন শিয়ালদহ ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত পুলিশ চালক কৌশিক মন্ডল নিজে সেই পুলকার চালিয়ে ১১ জন পড়ুয়াকেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন

পোলবায় দুর্ঘটনার পর সোমবার শহরজুড়ে অভিযানে নামে কলকাতা পুলিশ। ট্র্যাফিক পুলিশের উদ্যোগে পুলকার পরীক্ষার সময়েই সামনে আসে ভয়ঙ্কর এই ঘটনা।

এদিন দুপুরে শিয়ালদহ ট্র্যাফিক গার্ডের তরফে মৌলালি মোড়ে চলছিল পুলকার পরীক্ষা। স্কুল ফেরত পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া পুলকার থামিয়ে চালকের লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও গাড়ি পরীক্ষা করা হচ্ছিল। দুপুর আড়াইটে নাগাদ মৌলালি সিগন্যালে থামানো হয় সন্দেহজনক একটি পুলকার। চালক দীনেশ শর্মাকে গাড়ি থেকে নামতে বলতেই পা হড়কায় সে। সামনে আসতেই দেখা যায় রক্তজবা লাল চোখ চালকের। মুখে ভুরভুর করছে মদের গন্ধ। তড়িঘড়ি 'ব্রেথ অ্যানালাইজার' যন্ত্র এনে পরীক্ষা করে চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। দেখা যায়, মাত্রাছাড়া মদ্যপান করে গাড়ি চালাচ্ছে দীনেশ।

'ব্রেথ অ্যানালাইজার' যন্ত্রে মুখের বাতাস দিলে যদি রিপোর্ট আসে ১০০ মিলিলিটারে ৩০ এমজি, তাহলে ছাড় আছে। কিন্তু দীনেশের ক্ষেত্রে রিপোর্ট এসেই ২৪৬.২ এমজি। যা কয়েকগুণ বেশি। তাকে পা টলমলে অবস্থায় তুলে দেওয়া হয় তালতলা থানার পুলিশের হাতে। তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পোলবার ঘটনার পরেও পুলকার চালক বা মালিক যদি সতর্ক না হয়, তাহলে এই পড়ুয়াদের জীবনের দায়িত্ব নেবে কে? কবে নিরাপদে বাড়ি ফিরবে পড়ুয়ারা ? প্রশ্ন উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের।

SUJOY PAL

First published: February 17, 2020, 10:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर