চুরি করতে এসে এসি হোটেলে থাকতে পছন্দ করত, বাংলাদেশি চোরের কীর্তিতে তাজ্জব কলকাতা পুলিশ

চুরি করতে এসে এসি হোটেলে থাকতে পছন্দ করত, বাংলাদেশি চোরের কীর্তিতে তাজ্জব কলকাতা পুলিশ
চুরি করতে এসেও এসি হোটেলে থাকতে পছন্দ করত ঢাকার সেলিম

চুরি করতে এসে এসি হোটেলে থাকতে পছন্দ করত, বাংলাদেশি চোরের কীর্তিতে তাজ্জব কলকাতা পুলিশ

  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাত: বিজনেস ভিসা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারকাঁটা পেরিয়ে ভারতে ধোকা। ওপারে নিজের জামাকাপড়ের ব্যবসা রয়েছে, তবুও এদেশে এসে একাধিক চুরি করার অভিযোগ। একবার নয়, একাধিকবার ওপার বাংলা থেকে এপারে এসে অভিনব কায়দায় চুরি। পরপর কয়েকটা চুরির পর কিছু টাকা জমলেই আবার ফিরে যাওয়া। এটাই ছিল সেলিম মহম্মদের 'কাজের' ধরণ। তাহলে কি ব্যবসার জন্যই এপারে চুরি করতে আসত সেলিম? প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা পুলিশের কাছে।

চোর বলে কি কোনই জাত নেই ? এমনটা মনে করে না সেলিম। তাই তো কলকাতায় চুরি করতে এলে এসি হোটেল ছাড়া থাকা পছন্দ নয় তার। কাছে ভিসা রাখত হোটেলে ঘর পেতে সুবিধা হবে বলে। কিন্তু সব থাকা সত্ত্বেও তারকাটা পেরোনোর কারণ কি? পুলিশকে সে জানিয়েছে, সরকারি নিয়ম মেনে সব জায়গায় ভিসা দেখিয়ে এলে তার দেশের সরকারও জেনে যাবে সে কোথায় আছে। সেটা জানলেই মুশকিল, কারণ ওখানেও চুরির অভিযোগে একাধিকবার ধরা পড়েছে। এখনও তেমন কিছু হলে পুলিশ তাঁকেই খোঁজে।

এই সেলিম মহম্মদকে গত ৬ মাস ধরে হন্যে হয়েছে খুঁজছিল কলকাতা পুলিশ। ২৩ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। জানা যায় কলকাতায় ৪০টি চুরির ঘটনায় সে অভিযুক্ত। তার চুরি করার কায়দাও অভিনব।

কী রকম?

পুলিশ জানিয়েছে, পোস্তা, বড়বাজার, নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরাই তার টার্গেট ছিল। যাকে টার্গেট করত, কয়েকদিন ধরে তার সবরকম গতিবিধির উপর নজর রাখত। লক্ষ্য অবশ্য ব্যবসায়ীদের টাকার ব্যাগের দিকে। সেই ব্যবসায়ী যে রকম ব্যাগ ব্যবহার করেন অবিকল সেরকম দেখতে ব্যাগ কিনে নিত সেলিম। ব্যবসায়ীরা রাতে যখন দোকান বন্ধ করেন তখন আসেপাশে ঘুরঘুর করতো। দোকান বন্ধ করতে গিয়ে টাকার ব্যাগটি হাতছাড়া করলেই নিজের কাছে থাকা একরকম ব্যাগ এনে টাকার ব্যাগ বদলে নিত। এভাবেই ৪০টির বেশি 'মিশন' সফল করার কথা স্বীকার করেছে সে।

চুরির পর ব্যাগ নিয়ে সোজা হোটেলে চলে আসত। তারপর ব্যাগে যা যা পেত নিয়ে আলাদা করে ব্যাগ ফেলে দিতে। ব্যাগে মোবাইল পেলে সেটাও বেঁচে দিত।

এক অফিসার জানিয়েছেন, ৮ মাসে চুরি করে দেড় কোটি টাকার বেশি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই অফিসার বলেন, "সেলিম জেরায় জানিয়েছে বাবুঘাটে বহু মানুষ ব্যাগ রেখে গঙ্গায় স্নান করতে যায়। সেই ব্যাগ থেকেই চুরি বিদ্যা রপ্ত করেছিল। তারপর ব্যবসায়ীদের ব্যাগ চুরির বিষয় তার মাথায় আসে।"

শহরে এভাবে একাধিক ব্যবসায়ীর একই কায়দায় ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটতে থাকায় পুলিশের ঘুম উড়েছিল। তারপর সিসিটিভি ক্যামেরায় মাধ্যমেই ঘটনার কিনারা করা সম্ভব হয়। সেলিমের সাথে আর কেউ যুক্ত কিনা তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

First published: 08:29:42 PM Nov 29, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर